জীবনী মুবারক
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি (১০)
বিলাদত শরীফ: ১২০১ হিজরী বিছাল শরীফ: ১২৪৬ হিজরী বয়স মুবারক: ৪৫ বছর
, ১৭ আগস্ট, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ:
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَن حَضْرَتْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ لِهَذِهِ الأُمَّةِ عَلَى رَأْسِ كُلِّ مِائَةِ سَنَةٍ مَنْ يُجَدِّدُ لَهَا دِينَهَا"
অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এই উম্মতের জন্য প্রত্যেক শতাব্দীর শুরুতে এমন একজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করেন, যিনি উনার যামানায় সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সংস্কার করেন। ” (আবু দাউদ শরীফ)
এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় আল্লামা রুহুল আমীন বশিরহাটী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার একখানা “বিজ্ঞাপন রদ” কিতাবের ৫-৬ পৃষ্ঠায় বলেছেন, ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ হচ্ছেন, আমিরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি।
আলিম কুল শিরোমণি, হাদীয়ে যামান, আল্লামা কারামত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার “মুকাশিকাতে রহমত” কিতাবে এ সম্পর্কে বলেন, প্রকৃতপক্ষে আমিরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এই যামানার প্রত্যেক লোকের মুর্শিদ, কেউ ইহা অবগত হোক অথবা না হোক, মান্য করুক অথবা না করুক; তিনি ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ। উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি মুজাদ্দিদ করেছেন, উনার তরীকায় দাখিল হওয়া দ্বীনের দৃঢ়তার লক্ষণ। যেহেতু উনার তরীকায় মহাসম্মানিক সুন্নত মুবারক উনার পায়রবী (অনুসরণ) করা হয়। সুবহানাল্লাহ!
তৎকালীন সময়ে ভারতবর্ষে মুসলমানদের অবস্থা:
আল্লামা কারামত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিখ্যাত “মুকাশিফাতে রহমত” কিতাবে তৎকালীন সময়ে ভারতবর্ষে মুসলমানদের অবস্থা সম্পর্কে বর্ণনা করেন এইভাবে- “মানুষ তাদের ভালো অবস্থা ও চরিত্রকে অসৎ চরিত্র দ্বারা কলঙ্কিত করে ফেললো। বিদয়াত ও কুফরী চাল-চলন, প্রতিমা পূজা, মূর্তি বানানো, নাচ-গান, ঢাক-ঢোল, তানপুরা ইত্যাদি সম্মানিত শরীয়ত গর্হিত কাজে মশগুল হলো হিন্দুদের রথযাত্রা, দোলযাত্রায় অংশ নিতো। কিছু লোক পাদ্রী গোশাইর চাল-চলনে চলতো। পবিত্র কালিমা তাইয়্যিবাহ শরীফ উনার মর্ম না বুঝার কারণে শিরক করতো।
নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত, কুরবানী, ছদকা, ফিতরা, জুমুয়া, জামায়াত, দুই ঈদ এবং নামায একেবারে ছেড়ে দিয়েছিলো। তাদের মধ্যে দাড়ি মুন্ডানোর রীতি ছিলো। হিন্দু-মুসলমান চেনা যেতো না। কতক লোক রোযা রাখতো কিন্তু ইফতার করা ও সাহরী খাওয়ার সময় সম্পর্কে জ্ঞান রাখতো না। ছুবহে ছাদিক হলেও পানাহার করতো। নাউযুবিল্লাহ!
নিজেদের ইচ্ছামতো মোহর ধার্য করতো। পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, ওয়াজ-নছীহত শ্রবণ করা একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। আযানের শব্দ শুনা যেতো না। পবিত্র কুরআন শরীফ পাঠের বদলে বালকদেরকে ফার্সি শিক্ষা দেয়া উত্তম মনে করতো। নামায, রোযা, হায়েজ-নিফাসের মাসয়ালা একেবারে মানতো না। এমনকি মহিলারা বেপর্দা হতো এবং কতক মহিলা রাত্রি বেলায় সজ্জিত হয়ে মেলায় যেতো। দ্বীনের এই করুণ অবস্থায় মহান আল্লাহ পাক তিনি খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে মুজাদ্দিদ হিসেবে প্রেরণ করেন। তিনি দ্বীনের সংস্কার করেন।
যিকির-ফিকির, মুরাকাবার মাধ্যমে অসাবধান লোকদেরকে সতর্ক করে তোলেন। উনার আগমণে বহু বছরের কু প্রথা, শিরক, বিদয়াত-বেশরার উচ্ছেদ ঘটে। পুনরায় হাক্বীক্বী সম্মানিত দ্বীন ইসলাম কায়িম হয়। পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ শিক্ষা, নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত, তারাবীহ, জুমুয়া, জামায়াত, আযান, পুনরায় পুর্ণ্যদমে চালু হলো। উনার আলিম খলীফাগণ পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, আকাঈদ, তাছাউফ, ফিক্বাহ কিতাব থেকে মানুষকে নতুনভাবে তা’লীম দিতে লাগলেন।
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
-মুহাদ্দিস আহমদ হুসাইন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (৫)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৬)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র কুরবানী সংশ্লিষ্ট মাসায়িল
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৩)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৫)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকসমূহ যারা পালন করেন উনাদেরকে অনেক ফযীলত দেয়ার সাথে সাথে তিনটি বিশেষ ফযীলত হাদিয়া করা হয়-
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












