জীবনী মুবারক
১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৮)
বিলাদত শরীফ: ১২০১ হিজরী বিছাল শরীফ: ১২৪৬ হিজরী বয়স মুবারক: ৪৫ বছর
, ১১ আগস্ট, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
উনার কতিপয় কারামত মুবারক:
(৬)
“তাওয়ারীখে আযীবা” কিতাবের ৫০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, একবার হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “কুএল” নামক স্থানে ছিলেন। এমতাবস্থায় আকবর আলী খাঁ নামক একজন লোক উনাকে শহীদ করার ইচ্ছায় অস্ত্রসহ সেখানে উপস্থিত হলো। হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইলহাম কর্তৃক অবগত হয়ে উনার মুরীদদেরকে বললেন, ‘এমন নামধারী এক ব্যক্তি আমার নিকট আসতেছে তাকে ভিতরে আসতে বাধা দিও না।’ একটু পরে সেই অস্ত্রধারী লোকটি উনার সামনে এসে বসে গেলো এবং বললো, ‘আপনার নিকট আমার কিছু জিজ্ঞাসা করার আছে।’ সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, ‘আগ্রহ সহকারে জিজ্ঞাসা করো।’ ইহা বলা মাত্র তার সর্ব শরীরে কম্পন শুরু হলো। হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, ‘খাঁ সাহেব ভালতো’? এতে তার শরীরের কম্পন আরোও বেড়ে গেলো। অবশেষে সব অস্ত্র খুলে ফেলে হাত লম্বা করে উনার নিকট মুরীদ হয়ে গেলো এবং প্রকাশ করলো, ‘হুযূর! আমি আপনাকে শহীদ করার জন্য এসেছিলাম। কিন্তু আপনার সামনে বসার পর আমার ইচ্ছার পরিবর্তন হয়ে যায়।’ সুবহানাল্লাহ!
(৭)
“তাওয়ারিখে আযীবা” কিতাবের ৫৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, ছাহিবুল আসরার, রঈসুল আউলিয়া, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আপন বোনকে একটা টাকা বরকতের জন্য দিয়েছিলেন। তিনি উক্ত টাকাটি একটা সিন্ধুকে রেখে দিয়েছিলেন। উনার (বোনের) যত টাকার দরকার হতো তিনি উক্ত সিন্দুক হতে বের করে ব্যয় করতেন কখনও উনার টাকার অভাব হতো না। সুবহানাল্লাহ!
(৮)
“তাওয়ারিখে আযীবা” কিতাবের ৫৩ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে, কলকাতা শহরে একজন অর্থশীল লোক ছিলো। সে সর্বদা মদপান করতো। সেই লোকটি এক দিন রঈসুল আউলিয়া, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলতে লাগলো, হুযূর! আমি মদ পান করতে এরূপ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি যে, আমি তা করা ব্যতীত বেঁচে থাকতে পারি না। আমি আপনার নিকট সমস্ত গুনাহ হতে তওবা করতে পারি কিন্তু মদ পান ত্যাগ করতে পারবো না।
হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আচ্ছা বাবা! তাই করো। কিন্তু আমার সাক্ষাতে আসার সময় (আমার সামনে) মদ পান করো না। সে ব্যক্তি শর্ত স্বীকার করে উনার নিকট বাইয়াত হলো। বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তার মদ পানের ইচ্ছা প্রবল হলে খাদেমের নিকট মদ চাইলো। খাদেম পিয়ালায় মদ ঢেলে তার নিকট আনলো। যখনই সে ব্যক্তি পেয়ালাটি মুখের নিকট আনলো তখনই দেখতে পেলো যে, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি দাঁতে অঙ্গুলি দিয়ে তার সম্মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।
তৎক্ষনাৎ সে ব্যক্তি মদের পেয়ালাটি নিক্ষেপ করে তওবা করে দাঁড়িয়ে পড়লো কিন্তু তারপরে আর উনাকে সেখানে দেখতে পেলো না। এতে সে বুঝলো যে, হয়তো তার ভুল হয়েছে। হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এখানে কিভাবে আসবেন? দ্বিতীয়বার সে ব্যক্তি খাদেমকে হুকুম দিলো যে, অন্য একটি পেয়ালায় মদ আনো। খাদেম মদ আনলো। সে ব্যক্তি মদের পেয়ালা হাতে নিয়ে পান করার ইচ্ছা করলো, পূর্বের ন্যায় এবারও সে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে দন্ডায়মান দেখে পেয়ালাটি ফেলে দিলো ও হুযূর বলে সে উনার দিকে অগ্রসর হলো। (কিন্তু এবারও) সেখানে কাউকে দেখতে পেলো না।
তারপরে সে ব্যক্তি একটি কামরায় প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে মদের পেয়ালা মুখের নিকট নেয়া মাত্র হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সম্মুখে দেখতে পেয়ে তৎক্ষনাৎ পেয়ালাটি ফেলে দিলো এবং উনাকে অনুসন্ধান করতে লাগলো। কিন্তু উনার কোন চিহ্ন পাওয়া গেলো না। অবশেষে নিরুপায় হয়ে ইস্তেঞ্জাখানার মধ্যে মদ পান করার ইচ্ছা করা মাত্র উক্ত ব্যক্তি হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সম্মুখে দন্ডায়মান দেখে মদ পান হতে তওবা করলো এবং সমস্ত শরাবের পাত্র ভেঙ্গে ফেললো। মদ পান করা ছেড়ে দিলো। সুবহানাল্লাহ! (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-মুহাদ্দিস আহমদ হুসাইন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (৫)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৬)
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র কুরবানী সংশ্লিষ্ট মাসায়িল
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৩)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৫৫)
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকসমূহ যারা পালন করেন উনাদেরকে অনেক ফযীলত দেয়ার সাথে সাথে তিনটি বিশেষ ফযীলত হাদিয়া করা হয়-
০৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












