আলোকিত মহিলা ছাহাবী :
হযরত ফুরাই’আহ বিনতে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা
, ২৩ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১১ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ১০ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মহিলাদের পাতা
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, যারা বাইয়াতে রিদ্বওয়ানে অংশ নিয়েছেন উনারা জান্নাতে প্রবেশ করবেন।
হযরত ফুরাই’আহ বিনতে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা তিনি পবিত্র বাইয়াতে রিদ্বওয়ানে অংশ গ্রহনের গৌরব হাছিল করেছিলেন। তিনি ছিলেন বিখ্যাত সাহাবী হযরত মালিক বিন সিনান বিন উবাইদ আনসারী খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার কন্যা।
হযরত মালিক বিন সিনান বিন উবাইদ আনসারী খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্পর্কে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছিলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো জীবন্ত জান্নাতী দেখতে চায় তিনি যেন উনাকে দেখে।
হযরত ফুরাই’আহ বিনতে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা উনার ভাই ছিলেন বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবু সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু। তিনি পবিত্র ইসলামি জ্ঞান ও পবিত্র হাদিসশাস্ত্রে বিশেষভাবে বিজ্ঞ ছিলেন।
হযরত ফুরাই’আহ বিনতে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা উনার আরেক ভাই ছিলেন হযরত কাতাদা বিন নু'মান আনসারী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু। তিনিও সম্মানিত মুসলিম বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। তিনি পবিত্র বদর এবং পবিত্র উহুদ জিহাদে যুদ্ধ করেছিলেন। শত্রুদের আঘাতে উনার চক্ষু মুবারক বেরিয়ে গেলে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজ হাত মুবারকে পবিত্র চক্ষুটি যথাস্থানে প্রতিস্থাপন করে দেন। তখন উনার পবিত্র চক্ষু মুবারক আগের থেকে আরও বেশি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ও সুন্দর হয়ে যায়। সুবহানআল্লাহ।
পবিত্র উহুদ জিহাদ থেকে বিজিত সম্মানিত মুসলিম বাহিনী যখন ফিরে আসেন তখন মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আবু সাঈদ বিন খুদরি রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে দেখে সান্তনা দান করেন, ধৈর্যধারণ এবং সাহস রাখতে বলেন। কারণ উনার সম্মানিত পিতার পবিত্র শাহাদাত উনাদের জন্য বরকতের কারণ হবে। তিনি বাড়ীতে গিয়ে বোন হযরত ফুরাই’আহ বিনতু মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা উনাকে সম্মানিত পিতার পবিত্র শাহাদাতের সংবাদ এবং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুস্থ ইতমিনান অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করলেন। তিনি সম্মানিত পিতার পবিত্র শাহাদাতের সংবাদ শুনে উত্তম ধৈর্যধারণ করলেন এবং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিরাপদে ফিরে এসেছেন জেনে আনন্দিত হলেন।
হযরত সাহল বিন রাফি বিন বাসির খাযরাযি রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে হযরত ফুরাই’আহ বিনতু মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার শাদী মুবারক হয়। পবিত্র মদিনা মুনাওওয়ারা শরীফ উনার নিকটেই উনার আহাল নিজের দাসদের হাতে নিহত হন। উনার আহালের হত্যাকান্ডের পওে তিনি একাকী হয়ে পড়েন। তিনি উনার পিতার বাড়িতে ফের আসতে নিয়ত করেন। এ ব্যাপারে তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র খিদমতে সম্মাতি পিতার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার বিধান জানতে চাইলে মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে সেখানে চার মাস দশ দিন অবস্থান করতে বলেন। হযরত ফুরাই’আহ বিনতে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক আদেশ অনুযায়ী তিনি সেখানে অবস্থানের পর যথাসময়ে সম্মানিত পিতার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং বাকি জীবন পবিত্র দ্বীন ইসলামের প্রচারে কাটিয়ে দেন।
সাইয়্যিদুনা হযরত যুননুরাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র খিলাফতকালে এক মহিলার আহাল ইন্তিকাল করেন। উনার ইদ্দতের সময়কাল কত হবে এ বিষয়ে জানার জন্য তখন হযরত ফুরাই’আহ বিনতে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা উনাকে পবিত্র বিচারালয়ে বিচারক দাওয়াত দেন। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে যেরূপ বলেছিলেন, তিনি সেখানে তদ্রুপ বর্ণনা করেন। তিনি প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারিণী ছিলেন। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবুব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট থেকে কোনো কথা একবার শোনার পর তিনি তা যথাযথভাবে উনার স্মৃতিতে সংরক্ষণ করতেন। তাই সম্মানিত হাদিছ বিশারদগণ বিশেষ করে ইদ্দতের বিধানের ক্ষেত্রে উনার বর্ণিত পবিত্র হাদিছ শরীফকেই সর্বাধিক গ্রহণ করেছেন।
-আনজুম রেহনুমা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১৯)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পিতা-মাতা উভয়েই দ্বীনদার হওয়া ব্যতীত দ্বীনদার সন্তান আশা করা সম্পূর্ণ বৃথা (১)
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হীলাহ্ বিবাহ এবং তার শরয়ী ফায়সালা (১)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নারী সমাজের জন্য একটি জরুরী ফিকির!
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“মৃত্যু দেখে দেখে নসীহত হাছিল করতে হবে”
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












