হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি বিশুদ্ধ আক্বীদাহ মুবারক
, ১৪ ছফর শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২২ ছালিছ, ১৩৯২ শামসী সন , ২০ আগষ্ট, ২০২৪ খ্রি:, ০৫ ভাদ্র , ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা প্রত্যেকেই মাহফূয (সংরক্ষিত)। উনারা সন্তুষ্টি মুবারক প্রাপ্ত। উনাদেরকে মুহব্বত করা ঈমান এবং উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কুফরী। যারা উনাদের বিরোধীতা ও সমালোচনা করবে, তাদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত। উনারা অবশ্যই সত্যের মাপকাঠি। উনাদের যে কাউকে, যেকোন বিষয়ে, যে কোনো ব্যক্তি অনুসরণ করবে, সেই হেদায়েত লাভ করবে। আর উনাদের মত ঈমান আনতে পারলেই প্রকৃত হেদায়েত লাভ করতে পারবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
وَالسّٰبِقُوْنَ الْاَوَّلُوْنَ مِنَ الْمُهٰجِرِيْنَ وَالْاَنْصَارِ وَالَّذِيْنَ اتَّبَعُوْهُمْ بِاِحْسَانٍ رَّضِىَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوْا عَنْهُ وَاَعَدَّ لَهُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِىْ تَحْتَهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِيْنَ فِيْهَا اَبَدًا ذٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُ
অর্থ: হযরত মুহাজির ও আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুমগণ উনাদের মধ্যে যাঁরা প্রথম পর্যায়ে সম্মানিত ঈমান গ্রহণ করেছেন এবং (ক্বিয়ামত পর্যন্ত) উনাদেরকে যাঁরা উত্তমভাবে অনুসরণ করবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করেছেন এবং করবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের জন্য এমন সম্মানিত জান্নাত মুবারক প্রস্তুত করে রেখেছেন যার নিচ দিয়ে নহর প্রবাহিত রয়েছে। উনারা সেখানে অনন্তকাল অবস্থান করবেন। এটা হলো (উনাদের জন্য) বিরাট সফলতা। সুবহানাল্লাহ! (সূরা তাওবা শরীফ : আয়াত শরীফ ১০০)
কাজেই ‘উনারা ইজতিহাদ করেছেন এবং উনাদের ইজতিহাদে ভুল হয়েছে। ’ এরূপ বলা সুস্পষ্ট কুফরী। কেননা উনারা মুজতাহিদের উর্ধ্বে। মুজতাহিদ হচ্ছে ইমাম-মুজতাহিদ ও আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের তবক্বা। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা যা করেছেন সবকিছুই সঠিক। কেননা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ الفاروق الاعظم عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عُمَرَ بْنِ الْـخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلَامُ) قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَصْحَابِـىْ كُلُّهُمْ كَالنُّجُوْمِ فَبِاَيِّهِمْ اِقْتَدَيْتُمْ اِهْتَدَيْتُمْ
অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা প্রত্যেকেই হচ্ছেন তারকা সদৃশ। উনাদের যে কাউকে, যে কোনো ব্যক্তি, যে কোনো বিষয়ে অনুসরণ করবে সে হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে। সুবহানাল্লাহ! (রযীন শরীফ, মিশকাত শরীফ, মাছাবীহুস সুন্নাহ ইত্যাদি)
উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা সুস্পষ্ট কুফরী।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- لِيَغِيْظَ بِـهِمُ الْكُفَّارَ “একমাত্র কাফিররাই (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম) উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে থাকে। ” না‘ঊযুবিল্লাহ! (সূরা ফাতহ শরীফ : আয়াত শরীফ ২৯)
যারা উনাদের সম্পর্কে চু-চেরা করে বা করবে, তাদেরকে লা’নাতুল্লাহি আলাইহি বলা ফরজ। কেননা হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رضى الله تعالى عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا رَأَيْتُمُ الَّذِينَ يَسُبُّونَ أَصْحَابِي فَقُولُوا لَعْنَةُ اللهِ عَلَى شَرِّكُمْ
অর্থ: হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন তোমরা কাউকে আমার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে গালি দিতে দেখবে, তখন তোমরা বলো- এ নিকৃষ্ট কাজের জন্য তোমাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত বর্ষিত হোক। অর্থাৎ তুমি মাল‘ঊন বা অভিশপ্ত। (তিরমিযী শরীফ)
শুধু তাই নয়; নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
فَلَا تُجَالِسُوهُمْ، وَلَا تُؤَاكِلُوهُمْ، وَلَا تُشَارِبُوهُمْ، وَلَا تُنَاكِحُوهُمْ، وَلَا تُصَلُّوا مَعَهُمْ، وَلَا تُصَلُّوا عَلَيْهِمْ
অর্থ: “তাদের সঙ্গে তোমরা উঠা-বসা করবে না, খাওয়া-দাওয়া করবে না, পানাহার করবে না, তাদের মেয়েকে তোমরা বিবাহ করবে না এবং তাদের নিকট তোমাদের মেয়েকে বিবাহ দিবে না। তাদের সাথে নামায পড়বে না এবং তাদের জানাযার নামায পড়বে না। ” (আস সুন্নাহ লিআবী ইবনে খাল্লাল ২/৪৮৩)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












