সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক:
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাই হচ্ছেন উম্মতের হাক্বীক্বী শিক্ষাদানকারিনী
, ২৫ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহিলাদের পাতা
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার সূরা আহযাব শরীফ উনার ৩৩, ৩৪নং পবিত্র আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন,
وَقَرْنَ فِىْ بُيُوْتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْـجَاهِلِيَّةِ الْاُوْلىَ وَاَقِمْنَ الصَّلَوةَ وَاَتِيْنَ الزَّكوةَ وَاَطِعْنَ اللهَ وَرَسُوْلَه اِنَّـمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيْرًا. وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلى فِىْ بُيُوْتِكُنَّ مِنْ ايَاتِ اللهِ وَ الْـحِكْمَةِ اِنَّ اللهَ كَانَ لَطِيْفًا خَبِيْرًا.
অর্থ: আপনারা ঘরে অবস্থান করবেন, আইয়্যামে জাহিলিয়াতের ন্যায় সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বের হবেন না। নামায কায়েম করবেন, মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ইতায়াত বা অনুসরণ করবেন। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে পবিত্র করার মত পবিত্র করতে। অর্থাৎ আপনাদেরকে পবিত্র করার মত পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করা হয়েছে। এবং আপনারা আলোচনা করবেন মহান আল্লাহ পাক উনার আয়াত শরীফ এবং হিকমত শরীফ থেকে, যা কিছু আপনাদের হুজরা শরীফে তিলাওয়াত করা হয়। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি সুক্ষ্ম খবর রাখেন।
মহাসম্মানিত আয়াত শরীফ উনার নূযূল খাছ, হুকুম আম। অর্থাৎ এই মহাসম্মানিত আয়াত শরীফ দু’টি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান মুবারকে খাছভাবে নাযিল হয়েছে। কিন্তু আমভাবে সকল মহিলাদের জন্যই প্রযোজ্য। যে সমস্ত মহিলারা ঘরে অবস্থান করবে, নামায কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ইতায়াত বা অনুসরণ করবে তারাও অবশ্যই পবিত্র হওয়ার মত পবিত্র হতে পারবে।
বলাবাহুল্য যে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাই এই উম্মতের ঈমানদানকারিনী, হাক্বীক্বী মুসলমান ও ঈমানদার হওয়ার শিক্ষাদানকারী। কিভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অনুগত হওয়া যাবে, খালিছ তওবা ইস্তেগফার করতে হবে, ইবাদত-বন্দেগী করতে হবে সেই শিক্ষাও দানকারিণী। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
خُذُوْا نِصْفَ دِيْنِكُمْ مِنْ هذِهِ الْحُمَيْرَةَ .
অর্থ: তোমরা দ্বীন ইসলাম সম্পূর্ণ অর্জন করবে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে।
এই মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ খানা যদিও হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে কিন্তু সম্মানিত হাদীছ শরীফ খানা সকল উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বর্তমানে আমরা যে ফিক্বাহ শাস্ত্র, নাহু-ছরফ, বিভিন্ন মাসয়ালা-মাসায়িল, শরিয়তের যাবতীয় বিধি-বিধান পেয়েছি তা তাবে-তাবেয়ীন, ইমাম-মুজতাহিদ উনাদের মাধ্যমেই পেয়েছি। আর উনারা ছোট থাকাকালীন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা উনাদেরকে সমস্ত বিষয় হাতে কলমে শিক্ষা দিয়েছেন। যেমন: হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার বোনের ছেলে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ ইবনে হাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত ইয়াযিদ ইবনে আছম রহমাতুল্লাহি আলাইহি -এই ৩ জন হলেন বোনের ছেলে। উনার ভাইয়ের ছেলে-আব্দুর রহমান ইবনে সাঈদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি। আরেকজন উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা আলাইহাস সালাম উনার নিকট ইয়াতিম আবস্থায় লালিত-পালিত হয়েছেন। অর্থাৎ উনার সৎ ছেলে উবাইদুল্লাহ খাওলানি রহমাতুল্লাহি, উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ আশার আলাইহাস সালাম উনার বাঁদী হযরত নুখবা রহমাতুল্লাহি আলাইহা, হযরত আছ ছালিছা আশার আলাইহাস সালাম উনার আযাদকৃত ২ জন গোলাম হযরত আতা ইবনে ইয়াসার রহমাতুল্লাহি আলাইহি , হযরত সুলায়মান ইবনে ইয়াসার রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনারা দু’ভাই। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আযাদকৃত দু’জন গোলাম ইবরাহীম ইবনে আব্দুল্লাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি, হযরত কুরাইব রহমাতুল্লাহি আলাইহি, হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে সাব্বাক রহমাতুল্লাহি আলাইহি, উবাইদুল্লাহ ইবনে উতবাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি।
মূলত উনাদের মাধ্যমেই পরবর্তী উম্মতেরা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের নিয়ামত মুবারক লাভ করতে পেরেছি।
(সংকলনে মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালিকা শাখা)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
রহমতের অমরাবতী, নূরের তজাল্লি ও কুদরতি নূরুত তাশরীফ মুবারক ঈদে নূরুত তাশরীফে শাহেন শাহ আলাইহিস সালাম
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে মেহমানদারী করার মাধ্যমে সম্মানিত শাফায়াত মুবারক লাভ
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক: মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির সমস্ত কামিয়াবীর সোপান (১ম পর্ব)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়া হারাম ও কুফরী (৪)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইখলাছ অর্জন করা ফরজ; ইখলাছ ছাড়া ইবাদত-বন্দেগী কবুল হয় না
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহিলাদের জন্য হাত, পা ও চেহারা আবৃত করে ঘর থেকে বের হওয়া ফরজ। খোলা রেখে বের হওয়া হারাম, জায়েয বলা কুফরী (৩)
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












