হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের কিছু সংক্ষিপ্ত ঘটনা ও ইবরত নছীহত (১)
, ১৮ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৮ ছানী আ’শার, ১৩৯২ শামসী সন , ১৭ মে, ২০২৫ খ্রি:, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(১) একবার হযরত আবু সুলাইমান দারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “আমার এক বন্ধু ছিলেন, যখনই আমি উনার নিকট কিছু চাইতাম তখনই তিনি আমাকে তা দান করতেন। একদিন আমি উনার নিকট একটি জিনিস আরজু করলাম। তিনি বললেন, আর কতদিন এভাবে চাবে? উনার এ জবাব শুনে উনার প্রতি বন্ধুত্বের মোহ এবং স্বাদ আমার অন্তর থেকে চিরতরে লোপ পেলো। ”
ফায়দা:
অবশ্য দুনিয়াতে মানুষের বন্ধু থাকবে। একথা সত্য এবং বন্ধুত্ব যদি গাঢ় হয় তবে তার কাছে চাওয়া জায়েজ আছে। কিন্তু একথা স্মরণ রাখতে হবে যে, দুনিয়ার বন্ধুদের সম্পদ সসীম এবং দেবার ক্ষমতাও সীমিত। আর মহান আল্লাহ পাক উনার সবকিছুই অসীম। মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাড়া প্রকৃত এবং স্থায়ী বন্ধু হবার উপযুক্ত আর কেউ নেই। কাজেই দুনিয়ার বন্ধু যতই আন্তরিক হোক না কেন, সে একদিন বিরক্ত হতে পারে। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি কখনো বিরক্ত হন না। বরং বান্দা যত বেশি চায় মহান আল্লাহ পাক তিনি তত বেশি খুশি হন।
কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ ۖ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ
অর্থ: “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যখন আমার বান্দারা আপনার নিকট আমার সম্পর্কে সুওয়াল করে, (আপনি তাদেরকে বলে দিন) আমি (সকলের) অতি নিকটেই রয়েছি, যখন সে আমাকে ডাকে অর্থাৎ আহবান করে, আমি তার ডাকে সাড়া দেই, সুতরাং তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি সম্মানিত ঈমান আনে (অর্থাৎ বিশ্বাস স্থাপন করে)। তাহলেই তারা সঠিক পথ অর্থাৎ হিদায়েত লাভ করবে। ” (পবিত্র সূরা বাকারাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮৬)
কাজেই যেকোন কিছু মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে চাইতে হবে খালিছ নিয়তে।
আর মূলকথা হলো, হাকীকতে বন্ধু একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনিই হতে পারেন। যিনি চিরস্থায়ী এবং সার্বক্ষণিক সঙ্গী। তাই মহান আল্লাহ পাক উনার কাছেই চাওয়া উচিত।
(২) হযরত আবু সুলাইমান দারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “যুগের খলীফা উনাকে আমি ঘৃণা করতাম এবং আমি জানতাম যে, উনার কোন দোষ-ত্রুটি আমি উনাকে দেখিয়ে দিলে বা উনার সম্মুখে প্রকাশ করলে তিনি তা মেনে নেবেন না; বরং আমাকে হত্যা করবেন। এজন্য আমার কোন ভয় ছিলো না; তবে একটি বিষয়ে আমার ভয় ছিলো এই যে- বহু লোক এ আশায় আছে যে, হয়ত অদূর ভবিষ্যতে খলীফা আমার প্রতাপ ও শান-শওকতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে পড়বেন এবং আমার প্রতি খলীফার সেই দৃষ্টিকে আমি হয়ত পছন্দ করে ফেলবো, ফলে তখন আমি ইখলাছ অর্থাৎ শুধু মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক লাভের নিয়ত হারিয়ে মৃত্যুবরণ করবো।
ফায়দা:
ইখলাছ ইবাদতের সারবস্তু। অর্থাৎ শুধুমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক লাভের উদ্দেশ্যেই ইবাদত করতে হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতিত অন্য কেউ ভালো বলুক বা খুশি হোক- সে উদ্দেশ্যে ইবাদত করলে তা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট মূল্যহীন।
দেশপ্রধান যদি ইসলামী শরীয়ত বিরোধী কাজ করে তবে তার খুশির জন্য কোন কাজ করার মধ্যে ইখলাছ অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক নেই। ফলে মহান আল্লাহ পাক উনার কঠিন অসন্তুষ্টির মধ্যে পড়তে হবে।
(৩) বর্ণিত আছে, হযরত সাহল ইবনে আবদুল্লাহ তাস্তারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পানির উপর দিয়ে খালি পায়ে হেঁটে চলে যেতেন। একবার কিছু লোকে উনাকে জিজ্ঞেস করলো, “আমরা শুনতে পেলাম যে, আপনি নৌকায় আরোহণ করা ব্যতীত পানির উপর দিয়ে হেঁটে যেতে পারেন? হযরত সাহল ইবনে আবদুল্লাহ তাস্তারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, “এই মসজিদের মুয়াজ্জিনের নিকট জিজ্ঞেস করো, সে খুব সত্যবাদী। ” লোকেরা মুয়াজ্জিনের কাছে জিজ্ঞেস করাতে মুয়াজ্জিন বললেন, “এ সম্বন্ধে আমার কিছু জানা নেই। তবে এতটুকু অবশ্য জানি যে, কয়েকদিন পূর্বে তিনি এই মসজিদের হাউজের পাশে গোসল করছিলেন। হঠাৎ পা পিছলে হাউজের মধ্যে পড়ে হাবু ডুবু খেতে লাগলেন। আমি যদি এখানে না থাকতাম এবং উনাকে টেনে না তুলতাম, তবে তিনি মরেই যেতেন।
ফায়দা:
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারক ব্যতীত কোন কিছুই করতেন না। তেমনি নায়েবে রসূলগণ বা ওলীআল্লাহগণ উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ মুবারকেই সব কাজ করে থাকেন। মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছায় বুযূর্গানে দ্বীনগণ থেকে অনেক সময়েই অনেক কারামত প্রকাশ পেয়ে থাকে। তবে উনারা এ সকল কারামত সর্বদাই গোপন রাখার চেষ্টা করেন। আর যেহেতু কারামত প্রকাশ করা ওলী হওয়ার শর্ত নয়, ফলে উনাদের দ্বারা স্বাভাবিক এবং সাধারণ ঘটনা ঘটাই স্বাভাবিক।
যেমন উপরোক্ত ঘটনায় হযরত সাহল ইবনে আবদুল্লাহ তাস্তারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হাউজে পড়ে গিয়েছিলেন যা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। আর তিনি যে পানির উপর দিয়ে হেঁটে যেতেন, তা উনার কারামত, যা সত্য। কিন্তু তিনি তা গোপন রাখার চেষ্টা করতেন।
মূল কথা হলো, কারামত কিংবা ইবাদত-বন্দিগী প্রকাশ করা বা লোককে জানানোর মধ্যে রিয়া থাকতে পারে যা ইবাদতকারীকে দোযখে নিক্ষেপ করবে। তবে ইবাদতকারীর মনের মধ্যে যদি রিয়াভাব চলে আসে, সে ক্ষেত্রে নিয়ত ছহীহ করতে হবে। কেননা নিয়ত ছহীহ থাকলে মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতে রিয়া থেকে আদত হবে, আদত থেকে ইবাদত, অতঃপর খুলুছিয়ত আসবে।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কদমবুছী করা খাছ সুন্নত মুবারক
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র “মাক্বামে মাহমূদ” উনার বেমেছাল তাফসীর বিষয়ে খারেজী জাহমিয়া ফিরকার মুখোশ উম্মোচন (২)
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষের জন্য দাড়ি রাখা ফরয
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র “মাক্বামে মাহমূদ” উনার বেমেছাল তাফসীর বিষয়ে খারেজী জাহমিয়া ফিরকার মুখোশ উম্মোচন (১)
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলমানদের ভালো কিছু দেখলে কাফিররা কখনই খুশি হয় না
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৮)
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












