সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ উনার সুমহান সম্মানার্থে ৪ দিনব্যাপী আনজুমান তালিমী মাহফিলে আজিমুশান নছীহত মুবারক: মউতের ডাক আসার আগেই সবাইকে হাকিকী মুসলমান হতে হবে
, ২০ শা’বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৩ তাসি’, ১৩৯২ শামসী সন , ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রি:, ০৬ ফালগুন, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
আল ইহসান ডেস্ক:
পবিত্র সুন্নতী জামে মসজিদে অনন্তকালব্যাপী জারীকৃত সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ উনার সম্মানে ৪ দিনব্যাপী আনজুমান তালিমী মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল ৩য় দিন বাদ ইশা মহান মুর্শিদে আযম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি কূল-কায়িনাতের সকলের উদ্দেশ্যে নছীহত মুবারক পেশ করেন।
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলতানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যারা গাফিল তারা হচ্ছে নিকৃষ্ট জীব। এরা হচ্ছে পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট। কোন পশুকে এক কোটি বছর হায়াত দিয়ে সেই পশুকে কোটি কোটি আলেম উলামা দিয়ে তালিম তালকিন দিলেও তাকে নামাজ কালাম দুয়া দরুদ ইবাদত বন্দেগী শিখানো যাবে না। অথচ সেই পশু কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির করে। সেই পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট হলো- যারা গাফিল তারা, অর্থাৎ যারা যিকির আযকার করে না, পবিত্র কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ অনুযায়ী চলে না। আর যারা ঈমান আনে না তারা হচ্ছে সৃষ্টির মধ্যে নিকৃষ্ট, এখন ঈমান আনার পরও যারা গাফিল তারা হলো তাদের চেয়েও নিকৃষ্ট, তাহলে গাফলতির বিষয়টি কত কঠিন ভয়াবহ তা ফিকির করতে হবে।
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলতানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যারা বলবে বর্তমান যুগে পবিত্র কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ দিয়ে কাজ হবে না, তারা বেঈমান হবে। মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণ যিকির ফিকির যেভাবে করার দরকার সেভাবে করা না হলে একসময় নিরাশ হয়ে বেঈমান মুরতাদ হবার সম্ভাবনা আছে। এমনকি যারা মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় নেক কাজে খরচ করে না বখীলতা করে, তাদেরও ঈমান আমল ধ্বংস হয়ে যাবে। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার কাজে মহান আল্লাহ পাক এমন গাফিল বখিল লোকদেরকে পাল্টিয়ে অন্য সম্প্রদায়কে আনবেন যারা গাফিল হবে না এবং বখীলও হবে না। যারা বখীল তার মহান আল্লাহ পাক উনার শত্রু দুশমন। তাদের দ্বারা কখনোই দ্বীনি কাজে আনজাম দেয়া সম্ভব হবে না।
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলতানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মজবুতভাবে ধারণ করতে হবে, উনার থেকে কোনভাবেই জুদা হওয়া যাবে না। দ্বীনি যতগুলো কাজ রয়েছে, এখান থেকে যা আদেশ নিষেধ করা হয় সবগুলো উনার সম্মানার্থেই করতে হবে। উনাকে সবচাইতে বেশী মুহব্বত করতে হবে। উনার আদেশ নিষেধগুলো যথাযথভাবে পালন করার মাধ্যমেই ঈমানদার হওয়া যাবে। এগুলো হাসিল করার জন্যই সবাইকে বেশী বেশী যিকির আযকার যেমন করতে হবে তেমনি বেশী বেশী সোহবত মুবারক ইখতিয়ার করতে হবে। তখন ইখলাস অর্জন করাটা সহজ হবে। কারণ ইখলাস অর্জন করা ব্যাতীত যতই ছুরতান দ্বীনি কাজ বা ইবাদত বন্দেগী করা হোকনা কেনো, কোনটাই কবুল করা হবে না।
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলতানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ইখলাস না থাকার কারনে যদি নামাজের মতো ইবাদত বন্দেগী কবুল করা না হয়, তাহলে আর কোনটাই কবুল হবে না। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের উপর ইস্তেকামত থাকতে হলে, উনাদেরকে আঁকড়ে ধরতে হলেও ইখলাস হাছিল করা জরুরী। ইখলাস হাছিল না হলে ইস্তেকামত থাকা যাবে না। এখন হতাশ না হয়ে, নিরাশ না হয়ে সবার উচিত খালিস তওবা ইস্তেগফার করে আবারো যিকির আযকার করতে রুজু হওয়া মশগুল থাকা, ইখলাস হাসিলের জন্য কোশেশ করা।
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলতানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সদকায়ে জারীয়ার আমলগুলোতে সবাইকে শরীক থাকতে হবে। একখানা সুন্নত মুবারক যদি এক পাল্লায় রাখা হয় আর সমস্ত সৃষ্টির শুরু থেকে সকলের ইবাদত বন্দেগী আরেক পাল্লায় রাখা হয়, একখানা সুন্নত মুবারক যে পাল্লায় রাখা হয়েছে সেটার ওজন বেশী ভারী হবে। এজন্য সবাইকে এক এক করে সুন্নত মুবারক আমল শুরু করতে হবে, পাশাপাশি সুন্নত মুবারক প্রচার প্রসারের কোশেশ করতে হবে। একটা সুন্নত মুবারক পালন করলে যদি শত শহীদের ফজীলত লাভ করা যায় তাহলে পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার প্রসারের মাধ্যমে আরো দশটা লোকের মধ্যে সুন্নত মুবারক জারী করা হলে, কতবেশী ফজীলত মুবারক পাওয়া যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলতানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সবাইকে সবসময় মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কার কখন মউতের ডাক এসে যায় তাতো বলা যায় না। মউতের ডাক আসার আগেই সবাইকে হাকিকী মুসলমান হতে হবে, আর মুসলমানিত্ব বজায় রাখার জন্যই হক্কানী মুরশিদে কামিল আলাইহিস সালাম উনার নিকট বায়াত গ্রহণ করে যিকির আযকার করার মাধ্যমে এবং সোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার মাধ্যমে ফয়েজ তাওওয়াজ্জুহ মুবারক হাসিল করতে হবে। অনেক সময় শুধুমাত্র যিকির আযকার করলেই তরক্কী হাসিল করা যায় না। সোহবত মুবারক ইখতিয়ারের মাধ্যমে ফয়েজ তাওয়াজ্জুহ হাসিল করেই যিকির জারী করতে হয়। যারা সোহবত মুবারক কম ইখতিয়ার করে তাদের যিকির জারী করতেও অধিক সময় লাগে। মনে রাখতে হবে, হাকিকীভাবে যিকির জারী করার মাধ্যমে সব রকমের ওয়াসওয়াসা হতে মুক্ত হয়ে খালিছভাবে দ্বীনি কাজগুলো আনজাম দেয়ার কোশেশ করা সকলের জন্য দায়িত্ব কর্তব্য তথা ফরজে আইন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম “لِـيَـعْبُدُوْنِ (লিইয়া’বুদূন) থেকে لِـيُصَلُّوْنِ (লিইউছল্লূন) পর্যন্ত ৮টি মাক্বাম মুবারক উনাদের বর্ণনা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অদ্বিতীয় হাক্বীক্বী কায়িম-মাক্বাম হিসেবে, উনার হুবহু নক্বশা মুবারক হিসেবে উনার সমস্ত নিয়ামত মুবারক আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করা
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের তরফ থেকে বিশেষ দাওয়াত মুবারক এবং খুশি মুবারক প্রকাশ
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক اَحْمَدُ (আহমদ) ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যকার ‘মীম’ হরফ বা অক্ষর মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ চূ-চেরা, ক্বীলও ক্বাল করার কারণে, হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করার কারণে কাফেরদের বিরুদ্ধে সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট বিচার চাওয়া প্রসঙ্গে
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যস্থতা মুবারক-এ হাক্বীক্বী দীদার মুবারক লাভরে বশিষে র্বণনা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিসবত মুবারক স্থাপন করতে পারলে, মূল সব নিয়ামত পরিপূর্ণটা হাছিল সম্ভব। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথেই আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সরাসরি মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘এক নাম্বার আক্বীদাহ্ হচ্ছে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন’
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












