খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল উমাম,
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহামূল্যবান নছীহত মুবারক
(সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাসম্মানিত ১২ই শরীফ)
, ১৬ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০১ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ৩০ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(৪র্থ পর্ব)
৪
কাজেই যিনি খালিক, যিনি মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার স্বরণটা সবসময় দায়েমী হইলো। তাইলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্বরণটা গেলো কোথায়? উনাকে তো স্বরণ করতে হবে। উনার স্বরণ মুবারক হচ্ছে এই সুন্নত মুবারক ইত্তেবা করার মাধ্যম দিয়ে সুবহানাল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
একদম মাথার তালু থেকে পায়ের তলা, হায়াত থেকে মউত দায়েমীভাবে ২৪ ঘন্টা। এটা করতে হবে। এটা তো হায়াতের পূর্বে করে, হায়াতের পরেও করে মানুষ। একটা সন্তান জন্মগ্রহণ করলে তার মধ্যে সমস্ত সুন্নত মুবারক জারি করা হয়। আবার ইন্তেকাল করলে সব জারি করা হয়। তাইলে তার মধ্যবর্তী জিন্দেগীতে জারি করতে হবে। তাহলে সব সুন্নত আমল করলে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সে স্বরণ করবে সুবহানাল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
কাজেই এটা প্রত্যেকের জন্য আমরা যেটা বলে থাকি ফরজে আইন, সমস্ত সুন্নত মুবারকগুলি পালন করা। এটা ফরজে আইন। এখন কেউ বুঝুক অথবা না বুঝুক, আর কেউ চূ-চেরা করুক অথবা না করুক, যার যারটা তার ব্যাপার, এটা চূ-চেরা করবেই স্বাভাবিক। যারা সুন্নত মুবারক পালন করে না, তারা তো চূ-চেরা করবেই এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মূল ফতওয়া হচ্ছে- “ফরজ” কারণ একটা সুন্নত মুবারক যদি সে না করে, তাইলে একটা বেদাত সে করবে। একটা বেদাত তো করলে গুনাহ হয়; কোনোটা কবীরা গুনাহ কোনোটা কুফরী গুনাহ পর্যন্ত হয়।
হাদীছ শরীফে রয়ে গেছে- لَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ لَضَلَلْتُمْ একটা হাদীছ শরীফ لَوْ تركتم سَنَة نبيكم - لكفرتم. যে তোমরা যদি তোমাদের নবী-রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারক তরক করো, তাহলে তোমরা গোমরাহ হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ! এবং তোমরা কাফের হয়ে যাবে নাউযুবিল্লাহ!
তাহলে বিষয়টা ফিকির করতে হবে। এখন সুন্নত মুবারক সবগুলি পালন করতে হবে। তবে, হয়তো সবাই পারবে না তবে যতটুকু পারে সেইজন্য সে যেন শুকুরগুজারি করে, আর যেটা পারবে না সেইজন্য সে ইস্তেগফার-তওবা করে এবং সে দোয়া করে, আরজু করে, পালন করার জন্য যেন সে তাওফিক লাভ করতে পারে; তাকে দোয়া করতে হবে, এটা মনে থাকে যেন।
আর আমরা তো এখানে সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র করেছি এটা তোমাদের প্রত্যেকের উচিত; এটা তোমাদের প্রত্যেকের জন্য ফরজ মনে রাখবা; তোমরা পালন করো অথবা না করো। ফরজ হচ্ছে- এই সুন্নত মুবারকগুলি প্রচার-প্রসার করা। এখন তুমি ব্যক্তিগতভাবে করো, সমষ্টিগতভাবে করো, আনজুমানের মাধ্যমে করো অথবা তুমি কোন দোকানপাটে নিয়ে সেই মালগুলি দেও, বিক্রি করো, যেভাবেই হোক, এটা তোমাদের জন্য ফরজে আইন মনে রাখবা। এটা একটা কঠিন বিষয়।
কবরে গেলে হাশরে, নশরে, মিযানে, পুলছিরাতে জবাবদিহি করতে হবে; তোমাদেরকে বলা হয়েছে, তোমরা করো নাই। তখন কি জওয়াব দিবে? কাজেই তোমাদের প্রত্যেকের করা উচিত। আসলে আমরা বলি যে, অনেক বেশী যে তুমি লক্ষ-কোটি টাকার মাল যে নিবে তা না; তোমরা হাজার টাকার মাল নিয়েও করতে পারো; শত টাকার মাল নিয়েও করতে পারো। আস্তে আস্তে করতে করতে বড় হবে; এটা মনে রাখবা।
সুন্নত পালন করা ফরজ। দলীল অনেক দেওয়া হইছে, অনেক দলীল আছে; আল্লাহ পাক তো সরাসরি বলছেন,قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي الى اخر স্পষ্ট বলা হচ্ছে এখানে- যে আমার হাবীব, মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি বলে দেন, সমস্ত সৃষ্টিকে, যদি তারা যিনি খালিক, যিনি মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করে, মুহব্বতের দাবিদার হয়; তাদের জন্য ফরজে আইন হচ্ছে আপনাকে ইত্তেবা করা; এটা ফরজে আইন।
فَاتَّبِعُونِي আমাকে ইত্তেবা করো, এটা ফরজ করে দেয়া হইছে; অনেক আয়াত শরীফ, এটা মনে রাখবে। কাজেই নিজেদের আমল করতে হবে সুন্নত মুবারক আবার মানুষকে আমল করার জন্য কোশেশ করতে হবে। এটা হলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বিশেষভাবে স্বরণ করার জন্য। আরেকটা যেটা হচ্ছে- এই যিকির-আযকার শরীরে জারি করা আর সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা। প্রত্যেকটাই উম্মতের জন্য ফরজে আইন কিন্তু উম্মত মাসয়ালা জানে না। যার জন্য তারা সেগুলি আমল করতে পারে না; এটা মনে রাখতে হবে। কাজেই সবাইকে এই সুন্নত মুবারক ইত্তেবা করতে হবে। (পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকুন)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৪)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ৩ শ্রেণী
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন রোগই ছোঁয়াচে নয়,
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












