ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (২১০)
, ১৯ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৬ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ২১ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
مَنْ أَحَبَّ شَيْئًا أَكْثَرَ ذِكْرَهُ
যে যাকে মহব্বত করে তার কথা বেশি বলে। তখন মহব্বত পয়দা হয় সে রুজু হয়ে যায়। কাজেই এটা মনে রাখতে হবে। উনাদের বিষয়গুলি অনেক আলোচনা করতে হবে, শুনতে হবে, বলতে হবে। অন্তরটা ইছলাহ করতে হবে। যিকির-ফিকির করতে হবে তখন তার পক্ষে মহব্বত পয়দা করা, সে অনুযায়ী আমল করা সহজ সম্ভব হবে। আমরা কিন্তু স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি, কোন অস্পষ্ট আমাদের কথার মধ্যে নাই। আর যদি কেউ না বুঝে আরো তাকে বুঝিয়ে দেয়া হবে। কোন অস্পষ্টতা নেই স্পষ্ট বিষয়গুলি। উনাদের মহব্বত মুবারক, নিছবত মুবারক, কুরবত মুবারক হাছিল করতেই হবে এটা ফরযে আইন। উনাদের মহব্বত মুবারক ঈমান। উনারাই ঈমান। এগুলি সব বুঝতে হবে। এখানে চূ-চেরা করার কোন সুযোগ নেই। যারা করলো তারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে গেল। কাজেই বিষয়গুলি ফিকির করতে হবে।
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের বিষয়গুলি সুক্ষè থেকে সুক্ষè। আর উনাদের ঘৃণা করলে সরাসরি তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড। যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-
مَلْعُونِينَ
তারা হলো লা’নতগ্রস্থ। পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন। কি বলেন? যারা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পবিত্র শান মুবারকে চূ-চেরা, কীল-কাল করে তারা হচ্ছে লা’নতগ্রস্থ। নাউযুবিল্লাহ! কতটুকু? ইবলিসও লা’নতগ্রস্থ তার চেয়েও বেশি। যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
أَيْنَمَا ثُقِفُوا أُخِذُوا
যেখানে তাদের পাওয়া যাবে পাকড়াও করো। ঐ মালউনগুলিকে যেখানে পাবে পাকড়াও করবে।
وَقُتِّلُوا تَقْتِيلاً
এখানে কঠিন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, মানুষ জানে না। কুচি কুচি কুচি করে কেটে, শুধু মৃত্যুদন্ড না। কুচি কুচি করে কেটে এদেরকে মৃত্যুদন্ড দাও। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে উনাদের পবিত্র শান-মান মুবারক, পবিত্র ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক, পবিত্র বুযূর্গী মুবারক কতটুকু সেটা ফিকির করতে হবে। বিষয়গুলি কিন্তু অনেক ফিকিরের বিষয়। বিষয়গুলি অনেক ফিকিরের বিষয়, এক কথা আমরা অনেক বার বলেছি। বার বার বলেছি বুঝার জন্য, বুঝতে হবে। কোন চূ-চেরা, কীল-কাল করা যাবে না এবং উনাদের সম্মানিত বৈশিষ্ট্য মুবারক, সম্মানিত বুযূর্গী মুবারক, সম্মানিত ফযীলত মুবারক বুঝার কোশেশ করতে হবে। শুনতে হবে, জানতে হবে এবং সমস্তকিছুর মূল মালিক আসলে উনারাই। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উনারা ক্বায়িম-মাক্বাম যারজন্য উনাদের মাধ্যম দিয়ে সব হাছিল করতে হবে। তাহলে সে তাকমীলে পৌঁছতে পারবে অন্যথায় সে পৌঁছতে পারবে না। কাজেই বিষয়গুলি ফিকির করে আক্বীদাহ বিশুদ্ধ করার জন্য আমি এটা বললাম।
আমি যেটা বললাম, প্রত্যেকেই যারা বাইয়াত গ্রহণ করেনি তাদেরকে বাইয়াত গ্রহণ করতে হবে। আর যারা বাইয়াত গ্রহণ করেছে তাদেরকে বা’দ ইশা বা’দ ফজর দুরূদ শরীফ একশ’ একশ’ বার পড়তে হবে। আর পাছ-আনফাছটা, স্বাশ-প্রস্বাশের যিকির জারি করার জন্য কোশেশ করতে হবে। এক সময় জারি হয়ে যাবে। এরপর লত্বীফার ছবকগুলো করতে হবে কমপক্ষে দশ লত্বীফা জারি করতে হবে। তাহলে অন্তরের গালিজগুলি বের হয়ে যাবে। ভিতরে কোন গালিজ প্রবেশ করবে না। তখন তার পক্ষে বিষয়গুলি উপলদ্ধি করা সহজ এবং সম্ভব হবে। এছাড়া কিন্তু কখনও সম্ভব হবে না।এখন কেউ যদি মারা যায় তার জন্য আফসুস। যেটা আমরা বলে থাকি
يَوْمُ الْجَزَاءِ يَوْمُ الْعَمَلِ
(ইয়াওমুল জাযা ইয়াওমুল আমল।) ইয়াওমুল আমল, ইয়াওমুল জাযা এর অর্থ কি? চক্ষু খোলা থাকা পর্যন্ত ইয়াওমুল আমল, আমলের দিন। এখন আমল করতে হবে। আর চক্ষু বন্ধ হয়ে গেলে ইয়াওমুল জাযা, বদলার দিন। এখন আর আমল করার কোন সুযোগ নাই। যারা ইন্তেকাল করে কবরে চলে গেছেন, তাদের আমল বন্ধ হয়ে গেছে। হ্যাঁ যদি তারা ছদক্বায়ে জারিয়ার কোন কাজ করে থাকে সেটার ফযীলতটা তারা পাবে। এখন ব্যক্তিগতভাবে আমল করার কোন সুযোগ নেই। কাজেই বিষয়টা ফিকির করতে হবে। কাজেই যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান পুরুষ-মহিলা সবাইকে যেন হাক্বীক্বীভাবে ইছলাহ হাছিল করে বিশেষ করে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উপলদ্ধি করে খালিছভাবে উনাদের গোলামী করতে পারে। দুনিয়ার সমস্ত সৃষ্টিকে সেই তাওফীক্ব দান করেন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
“আত তাক্বউইমুশ শামসী”একটি নতুন সৌর সন (৩)
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বেপর্দা হওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে সহজ করার মাধ্যম
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম শরীফ উনার বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘মুসলিম শরীফ উনার’ টিকায় এবং ইমাম তাহাবী ‘দুররুল মুখতার’ কিতাবের হাশিয়াতে লিখেন-
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফিক্বাহ বা ফতওয়ার সকল কিতাবেই গান-বাজনা, বাদ্য-যন্ত্র ইত্যাদিকে হারাম ফতওয়া দেয়া হয়েছে
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৬)
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত মালিকী মাযহাব উনার প্রতিষ্ঠাতা ও ইমাম- সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক (৩)
০৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
গান-বাজনা অকাট্য দলীল দ্বারা সুস্পষ্টভাবে হারাম
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“আত তাক্বউইমুশ শামসী”একটি নতুন সৌর সন (১)
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












