“আত তাক্বউইমুশ শামসী”একটি নতুন সৌর সন (৩)
, ১৯ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৬ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ২১ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দীদার মুবারকে তাশরীফ মুবারক নেয়ার অর্থাৎ পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের বছর হচ্ছেন ১১ হিজরী এবং সে বছরের পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ অর্থাৎ ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ। উক্ত মুবারক মাস উনার ১ম দিন থেকে এই শামসী সনের ০ বছর ১ম মাস ১ম দিন শুরু হয়েছে।
তাহলে যে বছর শামসী সন গণনা করা হবে, তত বছর পূর্বে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছালী শান মুবারক সংঘটিত হয়েছিল।
তাহলে খুব সহজেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্মরণ হচ্ছে। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সময় চন্দ্র মাস গণনা হলেও আরবগণ নাসী (মাসকে আগ পিছ) করতো। আবার হিজরী সন শুরু হয় উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার প্রস্তাবে সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হিজরত মুবারকের বছর থেকে হিজরী সন গণনা শুরু করেন। যদিও হিজরত মুবারক সংঘটিত হয়েছিল সাইয়্যিদুশ শুহূর, শাহরুল আ’যম পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার মধ্যে; কিন্তু হিজরী সন গণনা শুরু হয় পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস থেকে।
যাই হোক নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক উনার বৎসর নির্দিষ্টভাবে জানা আছে বলে সেখান থেকে শামসী সন শুরু করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
আমরা জানি, হিজরী ১১ সন থেকে শামসী ০ (শূন্য) সন শুরু। তাহলে পার্থক্য হচ্ছে ১১ বছরের। কিন্তু বর্তমানে হিজরী সন চলছে ১৪৪৫ আর শামসী সন চলছে ১৩৯১। পার্থক্য হচ্ছে ৫৪ বছর।
এর কারণ হচ্ছে হিজরী সন গণনা হয় চাঁদের আবর্তনের সাথে আর সৌর সন গণনা হয় সূর্যের আবর্তনের সাথে।
আর হিজরী সনের সঙ্গে সৌর সনের পার্থক্য প্রতি বছর ১০ থেকে ১১ দিন। সুতরাং শুরু থেকে এই পর্যন্ত এই ৫৪ বছরের পার্থক্য এসে দাঁড়িয়েছে।
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিষয়টি এমন; প্রথমে নিজে আমল করতে হয় পরে তা মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে হয়।
সুতরাং আমরা যদি সবাই নিজে শামসী সন ব্যবহার শুরু করি, তবে তা একদিন ছড়িয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আর যত মানুষকে জানানো হবে ততই এর ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
পৃথিবীর সকল কম্পিউটার, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, নেটওয়ার্কে গ্রেগরিয়ান ক্যলেন্ডার দেয়া আছে।
শামসী পদ্ধতি, পুরনো পদ্ধতিকে (গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার) অপসারণ করা নির্ভর করবে মুসলিম বিশ্বের মধ্যে একতা এবং খিলাফত ব্যবস্থার উপর।
এক সময় মুসলমানগণ বিশ্ব শাসন করেছে তখন উনাদের আইন প্রতিষ্ঠিত ছিল। পরে কাফির বেনিয়া ব্রিটিশরা তাদের সময়কালে তাদের আইন চাপিয়েছে।
এখন সাম্রাজ্যবাদীদের আইন চাপানো আছে মুসলিম বিশ্বসহ সকল দেশে। কিন্তু এদের এখন ভগ্ন দশা। আবারো সম্মানিত দ্বীন ইসলাম জেগে উঠবে আর সম্মানিত ইসলাম অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হবে এই বিশ্ব। ইনশাআল্লাহ!
গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি কাফিরদের তৈরি ফলে এর অনুসরণের ফলে শুধু কাফিরদের স্মরণ হয়; যা মুসলমানদের জন্য সম্পূর্ণ হারাম। এ ছাড়াও এর অনুসরণে কল্যাণ নেই বরং অকল্যাণ রয়েছে। কিন্তু আত-তাক্বউইমুশ শামসী অনুসরণে কাফিরদের অনুসরণ হয় না বরং মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের স্মরণ হয়। ফলে মুসলমানরা রহমত, বরকত, সাকীনা লাভ করবে।
মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব:
কাফিররা সব ক্ষেত্রে মুসলমানদের অনুসরণ করবে। কারণ এদের সৃষ্টি করা হয়েছে মুসলমানদের খিদমতের জন্য। এই শামসী তাক্বউইম তৈরির ফলে এর ব্যাপক প্রচার-প্রসার হলে ধীরে ধীরে কাফিররা এর অনুসরণ করবে এবং মুসলমানদের শ্রেষ্ঠত্ব ও আভিজাত্য বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ!
গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির ব্যবহার বন্ধ করলে মুসলমানরা কাফিরদের অনুসরণ এবং বদ তাছির থেকে বেঁচে থাকতে পারবেন এবং কাফিররা তাদের বর্ষপঞ্জির ত্রুটিগুলো অনুধাবন করবে এবং হীনম্মন্যতায় ভুগবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা আমাদের এই আত-তাক্বউইমুশ শামসী অনুসরণ-অনুকরণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
-আল হিলাল।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বেপর্দা হওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে সহজ করার মাধ্যম
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলিম শরীফ উনার বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘মুসলিম শরীফ উনার’ টিকায় এবং ইমাম তাহাবী ‘দুররুল মুখতার’ কিতাবের হাশিয়াতে লিখেন-
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফিক্বাহ বা ফতওয়ার সকল কিতাবেই গান-বাজনা, বাদ্য-যন্ত্র ইত্যাদিকে হারাম ফতওয়া দেয়া হয়েছে
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৬)
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত মালিকী মাযহাব উনার প্রতিষ্ঠাতা ও ইমাম- সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক (৩)
০৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
গান-বাজনা অকাট্য দলীল দ্বারা সুস্পষ্টভাবে হারাম
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
“আত তাক্বউইমুশ শামসী”একটি নতুন সৌর সন (১)
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












