ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৩২)
, ২১ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
এখন কাফির মুশরিকদের চূ-চেরা বৃদ্ধি পেতে থাকলো। নাউযুবিল্লাহ! এটাকেই বলা হয় ইলা। আসলে এটা ইলা হয় না। ইলা শব্দের অর্থ হচ্ছে কোন ব্যক্তি তার আহলিয়া থেকে দূরে থাকা। সেই অর্থেই এটা ইলা। কিন্তু হাক্বীক্বী ইলা যে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বলা হচ্ছে-
لِّلَّذِينَ يُؤْلُونَ مِنْ نِّسَآئِهِمْ تَرَبُّصُ أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ
যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলে দিচ্ছেন যে, ইলা হচ্ছে কোন আহাল তার আহলিয়া থেকে চার মাস দূরে থাকবে। সেটাই হচ্ছে ইলা, অন্যথায় ইলা হয় না। ইলা হতে হলে চার মাস জুদা থাকতে হবে। যদি জুদা হয় তাহলে সে তালাক্ব হয়ে যায়। আর যদি কাফফারা আদায় করে দেয় তাহলে হয়ে গেল।
ইলা হচ্ছে চার মাসের, তিনি একমাস থাকলেন। পবিত্র মুর্হরমুল হারাম মাস উনার চাঁদ উঠার সাথে সাথে তিনি আলাদা হলেন, অবস্থান মুবারক নিলেন। যখন পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার চাঁদ উদিত হলো তিনি আবার তাশরীফ মুবারক আনলেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের হুজরা শরীফে। প্রথম সেখানে সাক্ষাত মুবারক হলেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে। তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলেছিলেন একমাস আলাদা থাকবেন, আজকেতো ২৯ দিন হলো। ২৯ দিন পার হয়ে ৩০ দিন হচ্ছে। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন এই মাসটা ২৯ দিনে হয়েছে, চাঁদ উঠে গেছে। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! অর্থাৎ ৯ম হিজরী শরীফের মুর্হরমুল হারাম শরীফ মাসটা ছিলেন ২৯ দিনে। পহেলা রাত্রি ছফর শরীফ থেকে উনাদের হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক আনেন। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ মুবারক আনার পরে কাফির মুশরিকরা এক মাস ধরে নানান চূ-চেরা, কীল-কাল, মিথ্যা প্রোপাগান্ডা করতে থাকলো যে, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সবাইকে জুদা করে দিয়েছেন। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! এ বিষয়টা নিয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা খুবই চিন্তিত ছিলেন। নাউযুবিল্লাহ! এই ব্যপারটা নিয়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা করা হচ্ছে। কিন্তু মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন জবাব দিচ্ছিলেন না। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে আসলেন, বসলেন, কথা বললেন। তিনি এক প্রসঙ্গে বললেন ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! (তিনিতো সবসময় স্পষ্ট কথা বলতেন) আমার একটা জানার বিষয়, যে কি জানার বিষয়? হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্পর্কে মানুষ যা বলে, এটা কি ঠিক? তিনি বললেন না, আমিতো উনাদেরকে জুদা করিনি। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তিনি এটা শুনে অনেক জোরে তাকবীর দিলেন। উনার গলার আওয়াজ অনেক বুলন্দ ছিলো। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
তাকবীর দিয়ে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি কি এটা বাইরে গিয়ে মানুষকে বলে দিবো, জানিয়ে দিবো? মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ঠিক আছে আপনি বলে দিন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বলে দেয়া হলো, কাফির মুশরিকগুলি লা-জাওয়াব হয়ে গেল। সকলে ইতমিনান লাভ করলেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এরপর যখন মাস শেষ হলো মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ মুবারক আনলেন তখন তা’খীরের পাবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হলো। ৫ খানা পবিত্র আয়াত শরীফ উনার পরে পবিত্র সূরা আহযাবের পবিত্র আয়াত শরীফ ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪ পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হলো। এখানে বলা হচ্ছে, যেটা আমি আগেও আলোচনা করেছিলাম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুহব্বতের বদলার ধরনটা কি রকম হতে পারে? (১)
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (২)
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কাফির-মুশরিকদের বিরুদ্ধে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় জিহাদ করা ফরজে আইন
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
শয়তানের ওয়াসওয়াসার কারণে কোন গুনাহর কাজ সংগঠিত হলে উপায় কি?
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ক্বিয়ামতের আলামত তিনটি-
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












