ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (২৩)
, ১৮ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১১ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৫ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
অর্থাৎ কিছু মুনাফিক ও কাফির, মুশরিক তারা চু-চেরা কীল-কাল করতো যে, উনারা দুনিয়া তালাশী। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! যা কাট্টা কুফরী কথা। এখানে বলা হয়ে থাকে, উনাদের ভাতা মুবারক বৃদ্ধি করার জন্য উনারা বলেছিলেন। আসলে উনাদের জন্য না। উনাদের হাতে যা থাকতো উনারা তা দান-খয়রাত করে শেষ করে দিতেন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার শান মুবারকে ওয়াক্বিয়া বর্ণিত রয়েছে। হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের প্রত্যেকের শান মুবারকে ওয়াক্বিয়া মুবারক রয়েছে। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি একদিন সকাল থেকে বৈকালের মধ্যে ৯০ হাজার দিরহাম রৌপ্য দান করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! ঐ দিন তিনি রোযা রেখেছিলেন। পবিত্র মাগরিবের সময় যখন ইফতারির সময় হলো তখন দেখা গেলো মহাসম্মানিত হুজরা শরীফে ইফতারী করার মতো কিছুই নেই, সব তিনি দান করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! ৯০ হাজার দিরহামসহ আরো অনেক কিছু এক দিনেই দান করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! যখন ইফতারীর সময় হলো, তখন উনার খাদিমা বললেন, আপনিতো সব দান করে দিয়ে দিয়েছেন, ইফতারী করবেন কি করে? সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, কেন তুমি আগে আমাকে স্মরণ করে দিলে না? ইফতারীর জন্য কিছু রেখে দিতে হবে। তিনি সব দিয়ে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! উনারা কোটি কোটি টাকা পাওয়া মাত্রই খরচ করে দিতেন। সুবহানাল্লাহ!
‘একমাত্র উনাদের পরিধানের যে মহাসম্মানিত সুন্নতী লিবাস মুবারক থাকতো সেটা ছাড়া উনারা বাকিটা দান করে দিতেন। সুবহানাল্লাহ! এজন্য উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে আর্জি মুবারক করতেন যে, উনাদের দান, খয়রাত করার জন্য দিনার ও দিরহাম প্রয়োজন। কিন্তু কাফির মুশরিকরা, মুনাফিকরা চু-চেরা কীল-কাল করলো। উনাদের যে চাওয়ার বিষয়টা কি, তা না বুঝার কারণে এলোমেলো কথা বলতে লাগলো।’ নাউযুবিল্লাহ! অথচ যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের পবিত্রতা মুবারক সম্পর্কে অনেক পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করে কায়িনাতবাসীকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, তোমরা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্পর্কে চু-চেরা কীল-কাল করো না, উনাদের সম্পর্কে মনগড়া মিথ্যা কথা বলো না। উনাদের সম্পর্কে চু-চেরা করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। নাউযুবিল্লাহ!
যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, ‘হে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম আপনারা যদি অনেক কিছু তলব করে থাকেন তাহলে আসুন আপনারা যা চান তা সব আমি দিব এবং যেখানে ইচ্ছা সেখানে যাওয়ার ইখতিয়ার দিয়ে দিবো।’ এখানে আসলে উনাদেরকে বলা হয় নাই। এখানে আসল বিষয়টা হচ্ছে, খোলা ত্বলাক্ব দেয়ার যে ইখতিয়ার সেই ইখতিয়ার মুবারক উনাদেরকে দেয়া হয়েছিল। উনাদের শান-মান মুবারক প্রকাশ করা হয়েছে। আপনারা ইচ্ছা করলে থাকতে পারবেন, ইচ্ছা করলে চলে যেতে পারবেন। এতটুকু ফযীলত মুবারক উনাদেরকে দেয়া হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! অর্থটা কি দাঁড়ালো, যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই জবাব দিয়ে দিলেন, যদি আপনারা দুনিয়া ত্বলব করে থাকেন তাহলে আসুন আপনাদেরকে দুনিয়ার সবকিছু দিয়ে দেয়া হবে, দুনিয়ার সৌন্দর্য নিয়ে যেতে পারবেন। যেখানে ইচ্ছা সেখানে যেতে পারবেন। তবে আপনাদের মতো যারা যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে চান, উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে চান, পরকাল চান উনাদের জন্য অনেক বড় নিয়ামত মুবারক রাখা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! জবাব দিয়ে দেয়া হলো যে, উনারা আসলেই মুহসিনাহ। সুবহানাল্লাহ! যখন পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হলো তখন স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে বললেন, আপনাকে একটা বিষয় বলবো, আপনি চিন্তা ভাবনা করে বলবেন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৬)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরামগণ উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ দ্বারা প্রমাণিত
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












