ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (২৬)
, ১০ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৫ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৪ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
তাহলে দেখা যাচ্ছে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা হিদায়েতের উপর রয়েছেন, হক্বের উপর রয়েছেন। উনাদের যে কোন একটা ক্বওল, যে কোন একটা ফে’ল, যে কোন একটা আদেশ-নির্দেশ যে কোন ব্যক্তি অনুসরণ করবে সেই হিদায়েত পেয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ!
এটা যদি হয়ে থাকে উনারা যে বলেছেন, ইয়াওমুল ইছনাইন শরীফের কথা, জুমুয়াবারের কথা, আরাফার দিনের কথা; এটা ঈদের দিন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘোষণা করেছেন, তাহলে সেটাতো গ্রহণ করতে হবে। এগুলো যে গ্রহণ করবে সে হিদায়েতের উপর থাকবে। তাকে যদি কেউ বিদয়াতী বলে, গোমরাহ বলে তাহলে সে তো কাফির হয়ে যাবে। সে তো হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বিরুদ্ধে ফতওয়া দিয়ে দিল।
মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন যে, আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের যে কাউকে যে কোন ব্যক্তি যে কোন বিষয়ে অনুসরণ করবে সে হিদায়েত লাভ করবে, সে হক্বের উপর ইস্তিক্বামাত থাকবে।
আর উনারাই ঘোষণা করলেন যে, দু’ ঈদ ব্যতীত আরো ঈদ রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন। এখন যদি কেউ বলে যে, একাধিক ঈদ নেই দু’ঈদ ব্যতীত। তাহলে সে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বিরোধিতা করল। উনাদেরকে সে ইহানত করল। তাহলে দেখা যাচ্ছে, সে গোমরাহ। সে মহান আল্লাহ পাক উনার কথাকে অস্বীকার করল। যে মহান আল্লাহ পাক উনার কথাকে অস্বীকার করে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথাকে অস্বীকার করে সে তো কাট্টা কাফির। সে চির জাহান্নামী। জাহান্নাম ছাড়া তার তো কোন গতি নেই।
সেজন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্পষ্ট বলে দিয়েছেন। হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ عُمَرَ الْفَارُوقِ عَلَيْهِ السَّلَامُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكْرِمُوا أَصْحَابِي، فَإِنَّهُمْ خِيَارُكُمْ
“হযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, স্পষ্ট করে বলেছেন, তোমরা আমার যাঁরা ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম রয়েছেন, উনাদেরকে সম্মান করো। উনারা তোমাদের থেকে অনেক অনেক বেশী সম্মানিত, ফযীলতপ্রাপ্ত।” সুবহানাল্লাহ!
কতটুকু ফযীলত দেয়া হয়েছে? হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: لَا تَمَسُّ النَّارُ مُسْلِمًا، رَآنِي وَرَأَى مَنْ رَآنِي
“হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لَا تَمَسُّ النَّارُ مُسْلِمًا، رَآنِي وَرَأَى مَنْ رَآنِي
তোমরা জেনে রেখ! হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে এত মর্যাদা দেয়া হয়েছে, উনাদেরকে যারা দেখবে, তারা তো নাজাত পেয়ে যাবে। শুধু তাই নয় উনাদেরকে যারা দেখেছে তাদেরকে যারা দেখবে তারাও। তাদেরকেও জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। সুবহানাল্লাহ!
অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম তো নাজাত পেয়েছেন, উনাদেরকে যারা দেখেছেন তারাও নাজাত পেয়েছেন। শুধু তাই নয় উনাদেরকে যারা দেখেছেন, তাবিয়ী যারা রয়েছেন তাদেরকেও যারা দেখবে তারাও নাজাত পেয়ে যাবেন সুবহানাল্লাহ!” এতটুকু বলা হয়েছে হাদীছ শরীফে।
আর কুরআন শরীফে কি বলা হয়েছে?
وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ
মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম সম্পর্কে কুরআন শরীফে সূরা তওবার একশ’ নম্বর আয়াত শরীফে বলেন, কি বলেন? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যাঁরা ছাহাবী উনাদেরকে যাঁরা উত্তমভাবে অনুসরণ করবে
إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ
কিয়ামত পর্যন্ত। উনাদের প্রতিও মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, আমি সন্তুষ্টি ঘোষণা করে দিলাম। সুবহানাল্লাহ!
وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক তিনি তো সন্তুষ্টি ঘোষণা করেছেনই। শুধু এতটুকুই নয় বরং ক্বিয়ামত পর্যন্ত যাঁরা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে উত্তমভাবে, আদবের সহিত, তা’যীমের সহিত, হুসনে যনের সহিত অনুসরণ করবে ক্বিয়ামত পর্যন্ত।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৪)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ৩ শ্রেণী
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন রোগই ছোঁয়াচে নয়,
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












