ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (২২)
, ০৬ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২১ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২০ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন প্রথম ব্যক্তিত্ব। যিনি খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন, উনার ছানা-ছিফত, প্রশংসা তো করার অপেক্ষা রাখে না। সমষ্টিগতভাবে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ সম্পর্কে যেটা বলা হয়েছে -
لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ
আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, একমাত্র কাফিরেরাই মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যাঁরা ছাহাবী রয়েছেন উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। (নাউযুবিল্লাহ)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সরাসরি আয়াত শরীফের ব্যাখ্যায় বলেন,
مَنْ غَاظَ أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَهُوَ كَافِرٌ
যেই ব্যক্তি বা যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছাহাবী যাঁরা রয়েছেন উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে, তারা কাট্টা কাফির। এটা কোন মানুষের ফতওয়া নয়। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফতওয়া।
আর মহান আল্লাহ পাক উনার ফতওয়া-
لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ
“একমাত্র কাফিরেরাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের বিরোধিতা করে থাকে। বিদ্বেষ পোষণ করে থাকে।
এখন কেউ দু’ঈদ মানল, বাকী ঈদগুলো মানল না তাহলে সে তো হাদীছ শরীফ অস্বীকার করল। ছাহাবায়ে কিরামগণের বিরোধিতা করল। উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল। তাহলে সেওতো কাট্টা কাফির হয়ে গেল। সে কি করে ঈমানদার থাকতে পারে? কস্মিনকালেও সে ঈমানদার থাকতে পারে না।
ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের যে মর্যাদা, যে ফযীলত মহান আল্লাহ পাক বর্ণনা করেছেন সেটা বেমেছাল। উনাদের মর্যাদা বুঝলে, ফযীলত বুঝলে হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ফযীলত বুঝলে, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ফযীলত, হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ফযীলত বুঝলে মানুষের পক্ষে বুঝতে সহজ হবে এই হাদীছ শরীফগুলোর কত গুরুত্ব রয়েছে।
কুরআন শরীফের যেমন মর্যাদা রয়েছে, হাদীছ শরীফেরও তদ্রুপ মর্যাদা রয়েছে। এর মধ্যে উম্মতের জন্য চু-চেরা, ক্বীল-ক্বাল বা পার্থক্য করার কোন সুযোগ নেই।
যেমন নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন,
تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ
মহান আল্লাহ পাক তিনি কিন্তু বলেন, এক রসূল আলাইহিস সালাম উনার চেয়ে আরেক রসূল আলাইহিস সালাম উনার মর্যাদা রয়েছে।
আর উম্মতের বেলায় কি বলা হয়েছে?
لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ
আল্লাহ পাক তিনি বলে দিয়েছেন, উম্মতদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন তোমরা কোন রসূলের মধ্যে পার্থক্য করো না। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন, তোমরা কোন রসূলের মধ্যে পার্থক্য করো না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে বলেছেন,
وَلَا تُفَوِّقُونِي فَوْقَ يُونُسَ بْنِ مَتَّى
তোমরা আমাকে মর্যাদা দিতে গিয়ে, ফযীলত দিতে গিয়ে হযরত ইউনুস আলাইহিস্ সালাম উনারও ইজ্জত-সম্মানের ত্রুটি করো না, ক্ষতি করো না।
অর্থাৎ আমার সম্মান দিতে গিয়ে কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামকে ইহানত করো না। সেটা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন। অথচ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন নবীদের নবী, রসূলদের রসূল। মহান আল্লাহ পাক উনার পরেই উনার স্থান। উনিও বলেছেন যে, তোমরা আমার ইজ্জত দিতে গিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার নবী আলাইহিমুস্ সালামদের প্রতি ইহানত করো না।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৪)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ৩ শ্রেণী
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন রোগই ছোঁয়াচে নয়,
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












