সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবিআহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান, খুছূছিয়ত-বৈশিষ্ট্য মুবারক সম্পর্কে ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ (৩৬)
, ২৪ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৯ সামিন, ১৩৯১ শামসী সন , ০৭ জানুয়ারি, ২০২৪ খ্রি:, ২৩ পৌষ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
وَيَرْضٰى بِرِضَاءِهَا
এবং তিনি যার প্রতি সন্তুষ্ট হন স্বয়ং খালিক্ব মালিক মহান আল্লাহ পাক তিনি তার প্রতি সন্তুষ্ট হন। সুবহানাল্লাহ! এই যে বিষয়টা, এটাতো সূক্ষ্ম বিষয়। হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বিষয়টা বুঝিয়েছেন, একদিক থেকে রেযামন্দী সন্তুষ্টি হাছিল করা আরেকদিক থেকে তিনি সমস্ত কায়িনাতকে তা’লীম দিলেন যে, দেখ আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের যিনি মূল উনার খিদমত মুবারকে আঞ্জাম কিভাবে দিতে হবে? সমস্ত দিন দুনিয়া একদিকে অর্থাৎ সমস্ত দুনিয়াবী কাজ একদিকে রেখে যিনি সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত আন নূরুর রবিআহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার খিদমতের আঞ্জাম তিনি দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি অন্য কোন কাজ করেননি। শুধু উনার খিদমত মুবারকে আঞ্জাম দিয়েছেন। তিনি যেহেতু বেহুঁশ অবস্থায় থাকতেন, উনার নামায কালাম ওযূ-গোসল, উনার কাপড়-চোপড় মুবারক, উনার খাবার দাবার সবকিছু তিনি ইনতিজাম করে উনার খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দিয়েছেন। যেহেতু এটা অন্য কারো পক্ষে করা সম্ভব ছিলো না। তিনি সেটা করতেন। একাধারা ছয়মাস পর্যন্ত তিনি সেটা করেছেন। যেটার কোন মেছাল নেই। তিনি খিদমত মুবারক করে প্রমাণ করে দিলেন যে, আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খিদমত মুবারকের আঞ্জাম কিভাবে দিতে হয়? উনাদের খিদমত মুবারকের আঞ্জাম হচ্ছে একদিকে, আর সমস্ত দুনিয়া একদিকে। সেটাই কিন্তু হাদীছ শরীফে বলা হয়েছে-
كِتَابُ اللهِ وَأَهْلُ بَيْتِي
একদিকে كِتَابُ اللهِ যিনি খালিক্ব মালিক মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব। উনার হুকুম আঁকড়িয়ে ধরা। আরেকদিক থেকে وَأَهْلُ بَيْتِي অর্থাৎ আমার আহলে বাইত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন-
أُذَكِّرُكُمُ اللهَ فِي أَهْلِ بَيْتِي
তোমাদেরকে আমি সতর্ক করে দিচ্ছি তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো আমার আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম সম্পর্কে। সুবহানাল্লাহ! এই বিষয়টাকে তিনি স্পষ্ট করে ফুটিয়ে তুলেছেন। তোমরা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খিদমত কতটুকু করবে? এই খিদমতের কোন শেষ নেই। বেমেছাল খিদমতের আঞ্জাম দিয়েছেন। তিনি সেটাই কিন্তু দিয়েছেন। এবং যখন সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত আন নূরুর রবিআহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার বিছাল শরীফের সময় হয়ে গেলো। এটা কিন্তু আগেই বর্ণিত রয়েছে, কিতাবে সেটা ছিলো। তাফসীরে রয়েছে। যখন মালাকুল মউত হযরত আযরায়ীল আলাইহিস সালাম উনাকে বলা হলো- এখনতো সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত আন নূরুর রবিআহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে নিয়ে আসতে হবে। যিনি স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, যিনি নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অপেক্ষা করছেন উনার আগমনের জন্য। উনার আগমনের জন্য তিনি অপেক্ষা করছেন। কাজেই উনাকে নিয়ে আসতে হবে। যখন খালিক্ব মালিক মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত মালাকুল মউত আযরায়ীল আলাইহিস সালাম উনাকে আদেশ করলেন, তখন হযরত আযরায়ীল আলাইহিস সালাম তিনি কিন্তু সিজদায় পড়ে গেলেন। বললেন, বারে ইলাহী! অবশ্যই এটা আমার দায়িত্ব; অবশ্যই আমাকে আপনার আদেশ মুবারক পালন করতে হবে তবে এখানে আমার কিছু কথা আছে। বারে ইলাহী! তিনি তো সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ স্বয়ং যিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন-
بِضْعَةٌ مِّنِّي
উনার সেই গোশত মুবারক সমূহের একখানা টুকরা মুবারক। উনার সন্তুষ্টিই আপনার সন্তুষ্টি। উনার অসন্তুষ্টিই আপনার অসন্তুষ্টি। উনার সন্তুষ্টিই যিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি। আর উনার অসন্তুষ্টিই যিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অসন্তুষ্টি। সবকিছুই নির্ভর করছে যিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত আন নূরুর রবিআহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সন্তুষ্টি এবং অসন্তুষ্টির উপরে। এখন উনাকে যে আমি আনবো এখানে যদি আদবের খিলাফ কিছু হয়ে যায় তাহলে তো আমার সব বরবাদ হয়ে যাবে। তিনি আরো বললেন যে, আয় বারে ইলাহী! আপনি যদি দয়া করে উনাকে কুদরতীভাবে নিয়ে আসতেন তাহলে আমার জন্য বিষয়টা অত্যন্ত ভালো হতো। কারণ আদবের ব্যাপার রয়েছে।
(পবিত্র ওয়াজ শরীফ অডিও রেকর্ড পেতে যোগাযোগ করুন- তাহযীব তামাদ্দুন বিভাগ, রাজারবাগ শরীফ ঢাকা)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












