সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদুয যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ
সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চীশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪৯)
(বিলাদত শরীফ ৫৩৬ হিজরী, বিছাল শরীফ ৬৩৩ হিজরী)
, ১২ শা’বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৫ তাসি’, ১৩৯২ শামসী সন , ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রি:, ২৯ মাঘ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা:
কুতুবুদ্দীন আইবেক ছিলেন দিল্লীর মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা। প্রথম সুলতান।
এই মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। ইতোপূর্বের আলোচনার দ্বারা বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট হয়েছে। কুতুবুদ্দীন আইবেক তিনি সুলতান শিহাবুদ্দীন মুহম্মদ ঘোরীর প্রতিনিধি ছিলেন। প্রতিনিধিত্ব লাভের পর প্রথমে তিনি আজমীর শরীফের জন্য সাইয়্যিদ হাসান মাশহুদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে মনোনীত করেন। সেখানকার শাসনভার উনার হাতে অর্পন করেন। যিনি ‘খোংগে ছওয়ার’ নামে পরিচিত ছিলেন। খোংগে ছওয়ার অর্থ সাদা ঘোড়ার আরোহী। তিনি একজন আল্লাহওয়ালা ও বুযূর্গ ছিলেন। তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (হযরত ইমাম জাফর ছাদিক আলাইহিস সালাম) উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্রতম বংশধর। তিনি সুলত্বানুল হিন্দ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একান্ত অনুসারী ও অনুরক্ত ছিলেন।
তখনও তারাইনের যুদ্ধক্ষেত্রের রক্ত শুকায়নি। এরই মধ্যে মূর্তি পূজারীরা সতেজ হয়ে উঠলো। একদিন হিন্দুরা রাতের অন্ধকারে ভীমরাজের নেতৃত্বে আজমীর শরীফে অতর্কিত আক্রমণ চালায়। সকলেই যখন ঘুমের ঘোরে অচেতন ঠিক তখনই তারা হামলা করলো। তাতে মুসলমানগণের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হলো। অনেক মুসলমান শাহাদাত বরণ করলেন। এমনকি আজমীর শরীফের শাসনকর্তা সাইয়্যিদ হাসান মাশহুদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বীর বিক্রমে, শক্ত হাতে এই জিহাদ পরিচালনা করেন। অতঃপর তিনিও শাহাদাত বরণ করেন। শাহাদাতের সময় ছিল ছুবহি সাদিক।
আজমীর শরীফের শাসন ক্ষমতা হিন্দুদের হাতে চলে যায়। হিন্দু যোদ্ধারা ভীমরাজকে আজমীর শরীফের রাজা বানায়। মুর্তিপূজারীরা মন্দিরে মন্দিরে আনন্দে মেতে উঠে।
হিন্দুদের বিশ্বাসঘাতকতার এ খবর পৌঁছে দিল্লীপতি কুতুবুদ্দীন আইবেক উনার নিকট। তিনি এ হৃদয়বিদারক খবর শুনে বিমর্ষ হন। আর মনে মনে সিদ্ধান্ত নেন যে, বিশ্বাস ঘাতকদেরকে উচিত শিক্ষা দিতে হবে। কিন্তু ভীমরাজের দাম্ভিকতা বেড়েই চললো। সে ধর্মের নামে, ধর্মের দোহাই দিয়ে সৈন্য সংগ্রহ করতে লাগলো। দেখতে দেখতে সে বড় সৈন্যবাহিনী গঠন করে ফেললো।
এদিকে কুতুবুদ্দীন আইবেক এক বিশাল ও চৌকস বাহিনী নিয়ে ভীমরাজকে উচিত শিক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে অগ্রসর হলেন। আজমীর শরীফের সন্নিকটে এক বিশাল প্রান্তরে উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলো। যুদ্ধের তীব্রতা বেড়ে গেল। যুদ্ধের এই অবস্থা দেখে কুতুবুদ্দীন আইবেক তিনি নতুন কৌশল অবলম্বন করলেন। অর্ধেক সৈন্যকে সামনে রেখে বাকী অর্ধেককে পাহাড় ঘুরে রাজপুতদের পিছন দিক থেকে আক্রমন করার নির্দেশ দিলেন। রাজপুতরা ভাবলো, মুসলমানগণ টিকতে না পেরে যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করেছে। কিন্তু একটু পরেই যখন পিছন দিক থেকে আক্রমন শুরু হলো তখন তারা আর যুদ্ধের ময়দানে টিকে থাকতে পারলো না। কে কোন দিকে যাবে তা স্থির করার পূর্বেই অসহায়ের মত মরতে লাগলো। যুদ্ধে নিশ্চিত পরাজয় ভেবে অবশিষ্টরা যুদ্ধ ক্ষেত্র হতে পালাতে লাগলো। এমনকি ভীমরাজও মুসলমান সৈন্যগণের চোখকে ফাঁকি দিয়ে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে গেল। মুসলমান সৈন্যগণ তাকে জীবিত রাখা সমীচিন মনে করলেন না। তার মাথা দেহ থেকে আলাদা করে দিলেন। কুতুবুদ্দীন আইবেক বিজয় লাভ করলেন। হিন্দুদেরকে আজীবনের জন্য শিক্ষা দিলেন। মুসলমানগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার স্বাদ আস্বাদন করালেন।
কুতুবুদ্দীন আইবেক তিনি পরে সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র দরবার শরীফে হাজির হলেন। উনার নিকটবর্তী হয়ে ক্বদম মুবারকে বুছা দিলেন। আর দোয়া ও ফয়েজ তাওয়াজ্জুহ প্রার্থনা করলেন। সবিনয়ে আরজ করলেন, আজমীর শরীফের শুন্য মসনদে কাকে বসাবেন? মনের গহীন কোঠায় লুকায়িত আকুতি পেশ করলেন যে, যদি মেহেরবানী করে আপনি সে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তাহলে আমাদের সবার জন্য তা হবে হিতকর, কল্যাণের কারণ।
সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কুতুবুদ্দীন আইবেক উনাকে থামিয়ে দিলেন। বললেন, এ কাজের জন্য আমরা আদিষ্ট হইনি। এটা আমাদের কাজ নয়। এটা দুনিয়াদারদের কাজ। এ ব্যাপারে তোমার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তুমি যাকে পছন্দ ও উপযুক্ত মনে করো তাকেই সিংহাসনের দায়িত্বভার অপর্ন করো। এ ক্ষেত্রে আমাকে আর কখনো কোন কিছু জিজ্ঞাসা করবে না। কুতুবুদ্দীন আইবেক তিনি কোন বাক্য ব্যয় করলেন না। সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদে যামান, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ক্বদম মুবারকে পুনরায় বুছী দিয়ে বিদায় হলেন। আর আজমীর শরীফের সিংহাসনে সাইয়্যিদ হাসান মাশহুদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চাচা সাইয়্যিদ ওয়াজীহুদ্দীন মাশহুদী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বসালেন। পবিত্র আজমীর শরীফের উপর মুসলমানগণের একচ্ছত্র আধিপত্র প্রতিষ্ঠিত হলো। সকল প্রকার অপবিত্রতা, কলুষতা দূর হলো। সুবহানাল্লাহ! (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












