সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদুয যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ
সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চীশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৫৭)
(বিলাদত শরীফ ৫৩৬ হিজরী, বিছাল শরীফ ৬৩৩ হিজরী)
, ২১ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২১ হাদি আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ২০ এপ্রিল, ২০২৫ খ্রি:, ৭ বৈশাখ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
কারামত মুবারক:
সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, একজন ওলীআল্লাহ উনার সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার এতটুকু তায়াল্লুক-নিছবত থাকতে হবে যেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কথা শুনেন। উনার কথা রাখেন। উনি যা চান তিনি উনাকে তাই দেন। যদি সে তা না পারে তাহলে উনাকে ওলীআল্লাহ বলা যাবে না। কারণ সে শায়েখ বা মুর্শিদ নয়। সে প্রতারক, ধোঁকাবাজ। (হযরত খাজা গরীবে নেওয়াজ পূর্ণাঙ্গ জীবনী-২৬৯)
* সেই সময়ের কথা। যখন সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদে যামান, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট উল্লেখযোগ্য কোন হাদিয়া তোহফা আসতো না। কিন্তু লঙ্গরখানা পুরোদমে চালু ছিলো। প্রতিদিন অসংখ্য মুরীদ-মু’তাকিদ, ফকীর-দরবেশ, ভক্তবৃন্দ পবিত্র দরবার শরীফে খাবার খেতেন। কেউই অভুক্ত থাকতেন না। সবাই পরিতৃপ্ত হয়ে খাবার খেতেন। পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার সবার জন্যই বরাদ্দ ছিলো। কুতুবুল মাশায়িখ, সুলত্বানুল হিন্দ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি খাদিমদেরকে বললেন, লঙ্গরখানার জন্য প্রতিদিন প্রয়োজনীয় অর্থ-সম্পদ সকাল বেলা আমার কাছ থেকে নিয়ে নিবে। উনার নির্দেশ মতো খাদিম সকাল বেলা উনার নিকট হাজির হতেন। সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি খাদিমদের প্রয়োজনের কথা শুনতেন। পরে নিজের জায়নামাযের একটি কোনা তুলে ধরে বলতেন, এখান থেকে প্রয়োজন মত অর্থ-সম্পদ তুলে নাও।
উল্লেখ্য যে, খাদিম যখন সেই জায়নামাযের নীচে দৃষ্টি করতো; দেখতে পেতো সেখানে পাহাড় পরিমাণ অর্থ-সম্পদ পড়ে আছে। সুবহানাল্লাহ! অথচ সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এমনও দিন অতিবাহিত হয়েছে যে, তিনি যেদিন রোযা রাখতেন সেদিন ইফতারীর জন্য সামান্য কিছু যবের রুটি ছাড়া অন্য কিছু ছিলো না। (হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পূর্ণাঙ্গ জীবনী মুবারক)
* একবার হযরত খাজা কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি সে সময় আমার মহাসম্মানিত শায়েখ কুতুবুল মাশায়িখ, সুলত্বানুল হিন্দ, মুজাদ্দিদে যামান, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ছোহবত মুবারকে ছিলাম। একদিন তিনি আমাকে বললেন, “কুতুব! সফরের সামান-আসবাব (মাল-পত্র) প্রস্তুত করো। তুমি আমার সাথে সফরে থাকবে” আমি সবসময় প্রস্তুত থাকতাম। উনাকে বললাম, সবকিছু প্রস্তুত আছে। আপনি ইচ্ছা করলে এখনই সফরের উদ্দেশ্যে বের হতে পারেন। তিনি বললেন, ঠিক আছে চলো।
আমরা সফরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। পথ চলতে চলতে এক সময় আমরা অন্ধকারাচ্ছন্ন এক ভয়ঙ্কর জঙ্গলের নিকটবর্তী হলাম। তিনি নির্দেশ মুবারক দিলেন, আমি যেন উনার অনুসরণ করে জঙ্গলে প্রবেশ করি। তিনি গহীন জঙ্গলে পৌঁছলেন। আমি উনাকে অনুসরণ করে চলতেছিলাম। একসময় এত গভীর অরণ্যে পৌঁছলাম যেখানে মনে হলো সূর্যের আলো পড়েনি কখনো। পথের শেষ কোথায়, আমার জানা ছিলো না। তবে এটা বুঝতে পেরেছি যে, এখানে কেউ কোনদিন প্রবেশ করেনি। হঠাৎ মনে হলো যে, বনের পথ বোধহয় শেষ হলো। কিন্তু না, বনের শেষ নয় বরং বনের মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল পাহাড়। আমরা এরই পাদদেশে পৌঁছেছি। সমস্ত বন যেন চারদিক থেকে পাহাড়টিকে ঘেরাও করে রেখেছে।
এরইমধ্যে তিন দিন তিন রাত অতিবাহিত হয়েছে। কুতুবুল মাশায়িখ, সুলত্বানুল হিন্দ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি থামলেন। নিজের ব্যাগ থেকে দুটি গরম রুটি বের করে আমার হাতে দিলেন। বললেন, “তুমি রুটি দুটি নিয়ে সোজা এই পাহাড়ের উপর আরোহন করবে। পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে দেখতে পাবে একটি গুহা রয়েছে। সেই গুহার মধ্যে একজন বুযুর্গ ব্যক্তি, যিনি ফানা বা বিলীন হয়ে আছেন। তুমি উনাকে সালাম জানাবে। অতঃপর রুটি দুটি উনার খিদমত মুবারকে পেশ করবে। পরবর্তী ঘটনা কি ঘটে তা আমাকে জানাবে। ”
আমি রুটি দুটি নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে লাগলাম। কাজটি যে কত জটিল ও দুঃসাধ্য ছিলো তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। অবশেষে গুহার সন্ধান পেলাম। দেখলাম, বুযূর্গ ব্যক্তি ফানা বা বিলীন হয়ে আছেন। তিনি আমার সালামের আওয়াজ শুনে চোখ খুললেন। আমার দিকে তাকিয়ে সালামের জাওয়াব দিলেন। আমি উনাকে রুটি দুটি পেশ করলাম। রুটি দুটি তখনও গরম ছিলো। তিনি রুটি দুটি গ্রহণ করলেন। একটি ইফতারের জন্য রেখে অপরটি আমাকে দিলেন। বললেন, এটি তুমি খাবে। তারপর তিনি জায়নামাযের নিচ থেকে চারটি খেজুর বের করে আমার হাতে দিয়ে বললেন, এগুলো কুতুবুল মাশায়িখ, সুলত্বানুল হিন্দ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে দিবে।
আমি ধীরে ধীরে পাহাড়ের চূড়া হতে নেমে আসলাম। সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকটে এসে সবই বললাম। অতঃপর খেজুর চারটি উনাকে দিলাম। তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্টচিত্তে তা গ্রহণ করলেন। সুবহানাল্লাহ! (খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পূর্ণাঙ্গ জীবনী-২৭০) (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সত্যের মাপকাঠি
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৩)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৪)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আল্লাহওয়ালা হতে হলে প্রতিটি ক্ষেত্রে আদব রক্ষা করা আবশ্যক
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একমাত্র খালিছভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্যই ইবাদত করতে হবে
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত মাওলানা শাহ ছুফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৬ষ্ঠ পর্ব)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (৯)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বেপর্দা হওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে সহজ করার মাধ্যম
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৮)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












