খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ছানীয়ে মুজাদ্দিদে আ’যম, ছাহিবু সুলত্বানুন নাছীর,
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক নছীহত শরীফ
(সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাসম্মানিত ১২ই শরীফ)
, ১৮ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৩ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(৬ষ্ঠ পর্ব)
মানে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তো সম্মান করতেনই। উনার নূরুল বারাকাত মুবারকও সম্মান করতেন। ওটাও নিয়ে নিতেন এবং ওইটা নিয়ে উনারা উনাদের চেহারা এবং শরীর মুবারকে মাখতেন। এবং উনাদেরকে যখন কোনো আদেশ মুবারক করতেন উনারা সঙ্গে সঙ্গে তা পালন করতেন। কোনো দেরী নেই। হ্যা; এবং তিনি যখন সম্মানিত ওযূ মুবারক করতেন তখন উনার ওযূ মুবারকের পানির জন্য ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা, উনি আরবীতে যে শব্দটা ব্যবহার করছিলেন كاد يبتدئ মানে হচ্ছে যুদ্ধ শুরু করে দিতেন। ওটা কে নিবেন এজন্য। তো, তিনি যখন এবং এরপরে তিনি যখন নাকি, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি যখন নাকি কথা মুবারক বলতেন তখন উনারা উনাদের মানে, চুপ মানে নিরব হয়ে যেতেন আরকি; হ্যা; এবং উনার দিকে মানে তীক্ষè দৃষ্টিতে তাকাতেন না অর্থাৎ আদবের সহিত তাকাতেন। তো এখান থেকে একটা ধারণা পাওয়া যায় যে, উনারা আসলে কি রকম তাওকীর বা সম্মান করতেন। আমাদেরকে ওখান থেকে দেখে শিখতে হবে এবং সেই অনুযায়ী আমল করার কোশেশ করতে হবে।
আচ্ছা! এরপরে পঞ্চম ভাগে যেটা আছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত করা। আচ্ছা! এই প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
لاَ يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ.
তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মু’মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ আমাকে নিজের পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি এবং সব মানুষের চাইতে বেশী মুহব্বত না করবে। এখানে ঈমান আনতে পারবে না। মানে এখানে যেটা বলা হচ্ছে যে, মানে এই হকটা আদায় না করলে ঈমানদারই হওয়া যাবে না। মানে মুহব্বত করাটা এত গুরুত্বপূর্ণ। হ্যা; এবং এই হকের ব্যাপারে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম উনারা যে কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন এটা আসলে শোনলে বুঝা যায়।
হাদীছ শরীফে তো বলা আছে যে, মানে, ঈমান আনতে পারবে না সবকিছুর থেকে মুহব্বত করতে হবে এবং বর্ণনা আছে من نفسحযে জানের থেকেও। জানের থেকেও বেশী মুহব্বত করতে হবে। এখানে মানে, জানের থেকেও মুহব্বত করতে হবে এভাবে বলা আছে।
কিন্তু ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যে কী পরিমাণ মুহব্বত করতেন, একটা ঘটনা বললে বুঝা যাবে যে, যায়েদ বিন দাসিনা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ওই কুরাইশরা শহীদ করার জন্যে কা’বা শরীফের সামনে নিয়ে গিয়েছিলো। তো ওরা বলতেছিলো যে, উনাকে উনার একটা করে অঙ্গ-প্রতঙ্গ কেটে শহীদ করা হবে। ওই সময় উনাকে জিজ্ঞাসা আবূ সুফিয়ান (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) উনিই জিজ্ঞাসা করেছিলেন। উনি তখন ঈমান আনেননি। যে, আপনি কী এটা পছন্দ করেননা? মানে উনি তো উনার মতন করে বলতেছেন। উনি তখন ঈমান আনেননি। ‘যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আপনার জায়গায় আনা হলে আপনি আরামে আপনার পরিবারের কাছে চলে গেলেন?’
এটা শুনে উনি রাগান্বিত হয়ে গেছেন। বলতেছেন যে, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনি যেখানে আছেন ওখানেই থাকা অবস্থায় উনার যদি একটা কাঁটাও বিঁধে; উনার নূরুল মুজাসসাম মুবারকে অর্থাৎ জিসিম মুবারকে যদি কাঁটা বিঁধে; আর এর বিনিময়ে যদি আমাকে পরিবারের কাছে চলে যেতে সুযোগ দেয়া হয়, ওটাও আমি পছন্দ করবো না।’ মানে; জানের বিনিময়ে জান না; জানের বিনিময়ে কাঁটা বেঁধা!
কাঁটা বিঁধার পরিবর্তে মানে উনার জান গিয়ে যদি কাঁটা না বিঁধে; উনি তাও জান দিয়ে দিবেন। কাঁটা বিঁধা যাবে না। মাত্রাটা কী পর্যায়ের!!! ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যতটুকু পরিমাণ মুহব্বত করতেন এটার একটা দৃষ্টান্ত আরকি! আমাদেরকে উনাদের মতন করে মুহব্বত করতে পারলে মুহব্বতের হকটা আদায় করা সম্ভব হবে।
আচ্ছা, এরপর হচ্ছে- উনাকে সন্তুষ্ট করা। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَٱللَّهُ وَرَسُولُهُۥٓ أَحَقُّ أَن يُرْضُوهُ إِن كَانُواْ مُؤْمِنِينَ
তোমরা যদি মু’মিন হয়ে থাকো তাহলে তোমাদের প্রতি হক্ব হচ্ছে- মানে, আল্লাহ পাক এবং আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হক্ব আরকি যে, উনাদেরকে সন্তুষ্ট করা। হ্যা; আচ্ছা; আর এই সম্মানিত হক্ব আদায়ের ক্ষেত্রে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সবসময় কোশেশ করতেন এবং উনারা সবসময় চেষ্টা করতেন যে আসলে কিভাবে উনাকে সন্তুষ্ট করা যায়?
এবং উনাদের প্রত্যেকটা কাজ, প্রত্যেকটা কথা এবং সব কিছু উনাকে সন্তুষ্ট করার কেন্দ্র করে উনারা করতেন। আচ্ছা! তো আমাদেরকে সবসময় এটা খেয়াল রাখতে হবে। যে, এখানে একটা নিয়তের একটা বিষয় আছে। যে, আসলে এটা একটা নিয়তের সাথে সম্পৃক্ত। যে আমি যে কাজটা করতেছি আসলে এটা কোন নিয়তে করতেছি। সন্তুষ্টির নিয়তে করলে এক রকম। আরেক নিয়তে করলে আরেক রকম আরকি। (পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকুন)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৪)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা সর্বপ্রকার বিপদ-আপদ থেকে হিফাজত হওয়ার মাধ্যম
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ৩ শ্রেণী
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন রোগই ছোঁয়াচে নয়,
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১২)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (৪র্থ পর্ব)
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, ম্যানিকিন ও ছবি নাজায়িয ও হারাম
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২৪)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বেপর্দা হওয়া লা’নত ও হালাকীর কারণ
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












