সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (৪)
, ২২ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
এছাড়া অন্যান্য কিছু পবিত্র হাদীছ শরীফ খেজুর ও যবের পরিমাপ দ্বারাও ফিতরা আদায়ের কথা বলা হয়েছে। এগুলোর ভুল ব্যাখ্যা করে সালাফী ওহাবীরা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। যেমন, হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক সা’ পরিমাণ খাদ্য অথবা এক সা’ পরিমাণ যব অথবা এক সা’ পরিমাণ খেজুর অথবা এক সা’ পরিমাণ পনির অথবা এক সা’ পরিমাণ কিসমিস দিয়ে زَكَاةَ الفِطْرِ ছদাকাতুল ফিতর আদায় করতাম। (বুখারী-২/১৩১, হাদীছ-১৫০৬)
কিন্তু আমাদের হানাফী মাযহাবে গম বা আটার মূল্যের উপর ফিতরা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কারণ এ ব্যাপারে ছহীহ হাদীছ শরীফ ও খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, তাবেয়ী ও তাবে তাবেয়ীন, সলফে সালেহীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের আমল বিদ্যমান। অর্ধ সা’ গম বা সমমূল্যের দ্বারা যে ফিতরা দেয়ার কথা বলা হয়েছে সেটা অস্বীকার করার বিন্দুমাত্র সুযোগ নাই। সুতরাং সম্মানিত হানাফী মাযহাব মুতাবেক প্রতি ব্যক্তির জন্য অর্ধ সা’ গম বা আটা বা সমমূল্য দ্বারা ছদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। অন্য মত গ্রহণ করার সুযোগ নাই। যারা এর বিরোধিতা করবে তারা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অস্বীকারকারী হিসাবে সাব্যস্ত হবে।
২য় আপত্তি: “টাকা দিয়ে ছদকাতুল ফিতর আদায় করা যাবে না সরাসরি খাদ্যদ্রব্য দিতে হবে।”
টাকা দিয়ে ছদকাতুল ফিতর আদায় করার দলীল: সালাফী লা’মাযহাবীরা বলে- টাকা দিয়ে ছদকাতুল ফিতর আদায় হবে না। খাদ্য সামগ্রীই দিতে হবে। অথচ তাদের এমন বক্তব্য নেহায়েত হাস্যকর। বিখ্যাত ইমাম ও মুহাদ্দিস হযরত ইবনে আবী শায়বা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “মুছান্নাফে আবী শায়বা” কিতাবে একটা বাব রচনা করেছেন যার নামفِي إِعْطَاءِ الدِّرْهَمِ فِي زَكَاةِ الْفِطْرِ অর্থাৎ “ছদাকায়ে ফিতর দিরহাম বা টাকা দ্বারা আদায় করার সম্পর্কে”। এই অধ্যায় থেকে কয়েকটা পবিত্র হাদীছ শরীফ উল্লেখ করা হলো-
حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ زُهَيْرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ يَقُولُ: أَدْرَكْتُهُمْ وَهُمْ يُعْطُونَ فِي صَدَقَةِ رَمَضَانَ، الدَّرَاهِمَ بِقِيمَةِ الطَّعَامِ
অর্থ: হযরত যুহাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত আবূ ইসহাক উনার থেকে শুনেছি। তিনি বলেছেন, আমি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে এই অবস্থায় পেয়েছি যে, উনারা পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে ছদাকায়ে ফিতর খাবারের বিনিময়ে দিরহাম বা টাকা দ্বারা আদায় করতেন। (ইবনে আবী শায়বা-৩/১৭৪, পবিত্র হাদীছ নং ১০৪৭২)
উক্ত বর্ণনার সনদ সম্পূর্ণ ছহীহ।
حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: لاَ بَأْسَ أَنْ تُعْطِيَ الدَّرَاهِمَ فِي صَدَقَةِ الْفِطْرِ
অর্থ: হযরত হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, দিরহাম বা টাকা দ্বারা ছদাকায়ে ফিতর আদায় করার দ্বারা কোনো সমস্যা নেই। (ইবনে আবী শায়বা-৩/১৭৪; হাদীছ-১০৪৭১, ইকমালু মুয়লিম শরহে মুসলিম ৩/২৫৭)
حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ قُرَّةَ، قَالَ: جَاءَنَا كِتَابُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ فِي صَدَقَةِ الْفِطْرِ: نِصْفُ صَاعٍ عَنْ كُلِّ إنْسَانٍ، أَوْ قِيمَتُهُ نِصْفُ دِرْهَمٍ
অর্থ: হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছদকাতুল ফিতর সম্পর্কে একটি চিঠি লিখলেন, প্রত্যেক মানুষের জন্য অর্ধ সা’ অথবা অর্ধ সা’ এর পরিমান দিরহাম বা টাকা। (ইবনে আবী শায়বা-৩/১৭৪; হাদীছ-১০৪৭০)
উপরোক্ত পবিত্র পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে প্রমাণিত হলো ফিতরার জন্য নির্ধারিত খাদ্য সামগ্রীর সমমূল্য দিরহাম বা টাকা দিয়ে দেয়া যাবে, যা ছহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত।
৩য় আপত্তি: “স্থানীয় এলাকার ফসল দিয়ে ছদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে।”
আপত্তির জবাব: সালাফীরা বলে বাংলাদেশের জন্য চাউল দিয়ে ফিতরা দিতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ যেহেতু ভাত খায়, তাই এখানে চাউল দিতে হবে- এমন কথা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিরোধী। মূলত, এমনটা করা এটা সম্পূর্ণ বিদয়াত। কারণ কোনো পবিত্র হাদীছ শরীফে এ কথা বলা হয়নি যে- যার যার এলাকার ফসল দিয়ে ফিতরা দিতে হবে। বরং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্ট কি দিয়ে ফিতরা দিতে হবে তার দলীল বর্ণিত আছে। কারণ যারা ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার আমলের কথা বলে তারা অর্থাৎ সালাফীরা প্রকৃতপক্ষে নফসকে অনুসরণ করে থাকে যার কারণে ছহীহ হাদীছ বাদ দিয়ে নিজের মন মতো কিয়াস করে ফতওয়া দেয়, আবার তারাই বলে মাযহাব মানা যাবে না। কিয়াস করে তারা নিজেরাই আলাদা একটা ফিরকা হিসাবে নিজেদেরকে চিহ্নিত করলো। সুস্পষ্ট দলীল থাকার পরও কেন চাউল দিয়ে সালাফীরা ফিতরা দিতে চায়? এটা কি পবিত্র হাদীছ শরীফের স্পষ্ট বিরোধিতা নয়?
সুতরাং প্রমাণিত হলো সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদকাতুল ফিতর উনার যে আমল ও দলীল তা অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। শুধু এ বিষয়ই নয়, বরং সম্মানিত হানাফী মাযহাবের সকল আমলই অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। সুবহানাল্লাহ! (সমাপ্ত)
-খাজা মুহম্মদ নূরউদ্দীন পলাশ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ওলীআল্লাহ উনাদের সম্পর্কে বদ আক্বীদা পোষণ এবং উনাদের বিরুদ্ধাচরণের কারণে কঠিন পরিণতি
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মসজিদের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা বলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে বা যারা কাফিরদের সাথে সম্পর্ক রাখবে সে দ্বীন ইসলাম থেকে খারিজ হবে
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুগন্ধে ভরে উঠলো পুরো মাঠ!
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ছহিবে নিসাব প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পবিত্র কুরবানী দেয়া ওয়াজিব (৪)
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












