শুধু স্পেন নয় ফিলিপাইনও ছিলো মুসলিম অধ্যুষিত, শাসিত বর্তমানে ফিলিপাইন হতে পারতো খ্রিস্টানের পরিবর্তে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ
, ১৮ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৫ সাদিস ১৩৯১ শামসী সন , ০৩ নভেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ১৮ কার্তিক, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
যখন আমরা মুসলমানদের হারানো সাম্রাজ্যের কথা আলোচনা করি তখন শুধু স্পেন নিয়েই আমরা হতাশ হই। অথচ ফিলিপাইনও স্পেনের খ্রিস্টানদের ষড়যন্ত্রের আরেকটা বিস্তৃতি ছিল। যদি আর ৫০-১০০ বছর মুসলিমরা ধরে রাখতে পারত ফিলিপাইনের ক্ষমতা তাহলে আজকে হয়ত ১১.৫ কোটি জনসংখ্যার দেশের পুরোটাই মুসলিম হত, সংখ্যার হিসেবে যা স্পেইনের জনসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ।
প্রশ্ন জাগতে পারে- সাউথইস্ট এশিয়ার প্রধান দেশগুলো যেমন- ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং ব্রুনেই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, কিন্তু ফিলিপিন কেন খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ? এর পিছনে রয়েছে দুঃখজনক ইতিহাস। স্পানিশ রিকনকোয়েস্টার একটি ডাইরেক্ট রেজাল্ট হল, আজকের ফিলিপিন খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যাওয়া।
ইসলামের আলো যখন মালয় দ্বীপপুঞ্জে প্রবেশ করে চৌদ্দ ও পঞ্চদশ শতকে তখন বেশ কিছু সালতানাত তৈরি হয় বিভিন্ন দ্বীপকে ঘিরে। তেমনি একটি শক্তিশালী সালতানাত ছিল সুলু সালতানাত (ঝঁষঃধহধঃব ড়ভ ঝঁষঁ)। আজকের ফিলিপিন প্রধানত তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত- মিন্দানাও, ভিসায়াস, এবং লুজন। সুলু সালতানাত মিন্দানাও এর বেশ কিছু অঞ্চল এবং লুজনের অন্তর্ভুক্ত পালাওয়ান (চধষধধিহ) নিজেদের অধীনে নিয়ে আসে। এছাড়াও ছিল মাগুইন্দানাও সালতানাত (ঝঁষঃধহধঃব ড়ভ গধমঁরহফধহধড়) যারা মিন্দানাওয়ে বেশ কিছু এলাকা নিয়ে সালতানাত তৈরি করে। পনের শতকের শেষ দিকে লুজনের অর্ধেক এবং মিন্দানাওয়ের পুরোটা মুসলিমদের অধীনে চলে আসে, যা প্রায় পুরো দেশের ৬০%। বিশেষতঃ মিন্দানাওয়ের বেশীরভাগ জনগণ মুসলিম হয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে পুরো ফিলিপিন আজ মুসলিম হয়ে যেত। এমনকি আজকের ফিলিপিনের রাজধানী ম্যানিলাও মুসলিম শাসকের অধীনে ছিল।
কিন্তু, ষোড়শ শতকের শুরুর দিকে স্প্যানিশরা ফিলিপিনে পৌঁছাতে শুরু করে। তারা প্রথমে ম্যানিলা দখল করে নেয়। তারপর আস্তে আস্তে লুজনের বাকি অংশ দখল করে নেয় এবং মুসলিমদের মিন্দানাওয়ে ঠেলে দেয়। তারা জোরেশোরে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার করতে থাকে এবং লোকালদের কনভার্ট করতে থাকে। তারপর তারা মিন্দানাওয়ের দিকে নজর দেয় কিন্তু মুসলিমরা শক্ত প্রতিরোধ তৈরি করে এবং স্প্যানিশরা কখনোই মিন্দানাওয়ে মুসলিমদের ভূমিগুলোতে ইফেক্টিভলি শাসন করতে পারেনি। ওসমানি খিলাফত ফিলিপিনো মুসলিমদের সহায়তা করে বিভিন্নভাবে এই রেজিস্টেন্সে।
তবে ততক্ষণে লুজন এবং ভিসায়াসের প্রায় সবাই খ্রিস্টান হয়ে গেছে। মিন্দানাওতেও প্রচুর কনভার্সন চলে। এর ফলশ্রুতিতে ফিলিপিন আজকে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্যাথোলিক দেশ জনসংখ্যার দিক দিয়ে। প্রায় ১০ কোটি মানুষ এখানে ক্যাথোলিক। তবে বর্তমানেও ১ কোটিরও বেশি মুসলিম রয়েছে।
১৫৭১ সালে, স্পেনীয়, তাদের লাতিন-আমেরিকান নিয়োগকারী এবং তাদের ফিলিপিনো (ভিসায়ান) মিত্র মেক্সিকো-বংশোদ্ভূত জুয়ান ডি সালিসিডো ম্যাসিনালায় আক্রমণ করেছিলেন, যিনি মৈনালি আক্রমণ করেছিলেন। ব্রুনাই সুলতানি এবং মুক্ত প্লাস টন্ডোর রাজত্বকে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি ম্যানিলাকে স্প্যানিশ পূর্ব ইন্ডিজের রাজধানী হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছিল। লেজাজপি মায়নিলে একটি দুর্গ তৈরি করেছিলেন এবং টন্ডোর লাকান লাকান দুলার সাথে বন্ধুত্বের উদ্রেক করেছিলেন, যিনি মেনে নিয়েছিলেন। তবে মেইনিলার প্রাক্তন শাসক, মুসলিম রাজা, রাজা সুলায়মান, যিনি ব্রুনাইয়ের সুলতানের বাসিন্দা ছিলেন, তিনি লেজাপ্পির কাছে জমা দিতে অস্বীকার করেছিলেন, কিন্তু লাকান দুলা বা উত্তরে পাম্পাঙ্গন ও পাঙ্গাসিনান বসতিগুলির সমর্থন পেতে ব্যর্থ হন। ব্যাংকিকের যুদ্ধে তারিক সুলায়মান এবং কাপম্পাঙ্গান ও তাগালগ মুসলিম যোদ্ধাদের একটি বাহিনী স্প্যানিয়ার্ডদের আক্রমণ করলে শেষ পর্যন্ত তিনি পরাজিত হয়ে নিহত হন।
১৫৭৮ সালে, ফিলিপাইনের দ্বীপপুঞ্জ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে খ্রিস্টান স্পেনিয়ার্ডস এবং মুসলিম ব্রুনাইয়ানদের মধ্যে ক্যাস্তিলিয়ান যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। একদিকে, মাজাজা-তে কেদাতুয়ান ও সেবু-র রাজহানতে নবীন খ্রিস্টানযুক্ত অমুসলিম ভিসায়ানস, বুতুয়ান (যা উত্তর মিন্দানাও থেকে এসেছিল) এর রজনাহেট, পাশাপাশি দাপিটানের কেদাতুয়ানের অবশিষ্টাংশরা এর আগে যুদ্ধ চালিয়েছিল সুলতানের সুলতানি, মাগুইন্দানাও এবং মায়নিলার কিংডমের সুলতানির বিরুদ্ধে, তখন সে ব্রুনাইয়ের সাম্রাজ্য এবং এর মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে স্প্যানিশদের সাথে যোগ দিলো, ব্রুনেইয়ের পুতুলের রাজ্য মেইনিলা, সুলুর সাথে ব্রুনাইয়ের পাশাপাশি মাগুইন্দানাও রাজবংশের সম্পর্ক ছিল। (ইনশাআল্লাহ চলবে)
-মুহম্মদ ওয়ালিউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অকাট্য দলীল দ্বারা সুস্পষ্টভাবে “গান-বাজনা” হারাম
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (২)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানদের জন্য সমস্ত খেলাধুলা হারাম
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফিররা যতই মাল-সম্পদ খরচ করুক, তারা মুসলমানদের নিকট পরাস্ত হবেই হবে
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা পালন করা পুরুষ-মহিলা সবার জন্য ফরজ
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












