সম্পাদকীয় (১)
যে সমাজ ব্যবস্থায় সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক, প্রজাতন্ত্রের মালিক ‘জনগণকে’ করা হয় সে সমাজব্যবস্থায়, অপরাধীরা নিয়ন্ত্রিত হয়না ও অপরাধ নির্মূল হয়না। সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং ভয় করার মালিক মহান আল্লাহ পাক তিনি। কেবলমাত্র এই অনুভূতি সমাজ থেকে সব অপরাধ নির্মূল করতে পারে।
, ০৬ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৫ ছানী, ১৩৯২ শামসী সন , ১৩ জুলাই, ২০২৪ খ্রি:, ২৯ আষাঢ়, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সম্পাদকীয়
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “ওই ব্যক্তি সফলতা অর্জন করেছে যে ইছলাহ লাভ করেছে। আর ওই ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে কলুষিত হয়েছে। ” পথ দুটি সত্যের পথ ও অন্যায়ের পথ। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা সত্যের সাথে মিথ্যাকে মিশ্রিত করোনা। ” কিন্তু বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা তথা রাষ্ট্রীয় আইন তাই করেছে। দেশে প্রায় বারোশো আইন রয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি আইন ইসলামী। বাদ বাকী সবই অনৈসলামী। কিন্তু এ অনৈসলামী আইন সমাজে কোনো সুফল বয়ে আনতে পারেনি। বরং সমাজের সর্বত্র অরাজকতা, অনাচার আর অনিয়ম। প্রতিদিনই পেপার পত্রিকায় এসবেরই সিংহভাগ খবর।
প্রশ্ন হচ্ছে সমাজে খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল থেকে আরম্ভ করে চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রতারণা, রাস্তা-ঘাটে দুর্ঘটনা, স্বামী-স্ত্রী প্রতারণা, বাবা কর্তৃক ছেলেকে হত্যা, পরকীয়ার কারণে মা কর্তৃক সন্তান হত্যা, সেনাবাহিনী-পুলিশ-মন্ত্রী কর্তৃক দুর্নীতি এসবের পিছনে মূল কারণ কী?
কারণ হলো ভয়হীনতা অথবা সঠিক শক্তিকে ভয় না করা। উপরিল্লিখিত যত অপরাধ আছে এবং সে অপরাধে জড়িত যত মানুষ তারা ভয় পাওয়ার মত কাউকে দেখেনা। এসব অপরাধ থেকে বিরত থাকার জন্য যে শক্তির বর্ণনা দরকার তা তাদের সামনে নেই।
প্রসঙ্গত: উপরোল্লিখিত অপরাধীদের ভয়ের বিষয় হলো রাষ্ট্র। আর রাষ্ট্রের মালিক হলো জনগণ। সংবিধানে রাষ্ট্র বা প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। অর্থাৎ উপরিল্লিখিত অপরাধীদের যদি ভয় পেতে হয় তাহলে তাদের মতো জনগণকেই ভয় পেতে হবে। তারা সব ক্ষমতার মালিক জনগণের পক্ষে ক্ষমতা প্রয়োগকারী, পুলিশ, বিচারক ইত্যাদিকে ভয় পাবে। অথচ এরা অপরাধীদের মতোই অনুভূতি, প্রবৃত্তিগত ও প্রকৃতিগতভাবে প্রায় একই ধরনের মানুষ।
সেক্ষেত্রে সঙ্গতকারণেই অপরাধীরা তাদেরকে খুব একটা ভয় পায়না। বরং ম্যানেজ করার অবকাশ পায়। অথবা মন্ত্রী থেকে বিচারক তারাও অপরাধীদের মতোই অন্যভাবে অপরাধই করে যায়। এ কারণে স্বাধীনতা উত্তর এ প্রজাতন্ত্রে অদ্যাবধি দুর্নীতি ও অপরাধ কমার পরিবর্তে উল্টো বেড়েছে। আর সব অঘটনের পিছনে এই একই বিষয়।
কারণ যে লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটে, যে সড়ক দুর্ঘটনা হয় তাতে সংশ্লিষ্টের মনে যদি জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার পরিবর্তে মহান আল্লাহ পাক উনার ভয় থাকতো তাহলে সে এত ঢিলেঢালা ডিউটি করত না। সমাজের কোথাও এত অনাচার হতোনা। এখন যেটা হচ্ছে সংবিধান মোতাবেক প্রজাতন্ত্রের মালিক, সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক জনগণ। কাজেই জনগণ কতটুকু ক্ষমতার মালিক হতে পারে অথবা কতটুকু ভয়ের কারণ হতে পারে সেটা সংশ্লিষ্ট অপরাধীরা ভালো করে বুঝেই অনাচার বা অনিয়মে গা ভাসিয়ে দেয়। আর এ কারণেই সমাজ আজ অন্যায় আর অনিয়মের স্রোতে ভেসে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, সার্বভৌমত্ব ক্ষমতার মালিক যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি, একমাত্র ভয় করার হক্বদারও মহান আল্লাহ পাক উনি। এ বিষয়েও পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে অনেক পবিত্র আয়াত শরীফ রয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে ঈমানদারগণ! মহান আল্লাহ পাক উনাকে যেমন ভয় করা উচিত ঠিক তেমনিভাবে ভয় করতে থাকুন এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করবেন না। ” (পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১০২)
বলাবাহুল্য, সার্বভৌমত্ব ক্ষমতার মালিক মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনাকেই ভয় করতে হবে- এ দুটো মূল্যবোধ যদি আমাদের থাকে এবং আমাদের আইন, শিক্ষা, বিচার ব্যবস্থায় যদি সর্বাত্মক ফলিত হয় তবে সমাজ থেকে খুব সহজেই সব অনাচার-অনিয়ম-অন্যায় ইত্যাদি দূর হয়ে যাবে, সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা পাবে।
ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ও ইবনু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস মুবারক। পাশাপাশি সাইয়্যিদাতুনা হযরত সিবত্বতু রসূলিল্লাহ আর রবিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদুল মুজতাহিদীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল হাদী আশার আলাইহিস সালাম উনার সুমহান বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস মুবারক।
২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আস সাদিস হযরত ইমাম মুহসিন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খইরুল আবনা ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বইয়িদুল খলায়িক, সাইয়্যিদুল খলায়িক, সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার এবং মালিকুল জান্নাত, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরহ্ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল হাদী আশার মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের সুমহান বিছালী শান মুবারক প্রকাশ উনার দিবস মুবারক।
২২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম উনার শান মান মুবারক অনুভব করা
২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাহ, ত্বাহিরাহ, ত্বইয়িবাহ, যাকিয়াহ, রাদ্বিয়াহ, মারদ্বিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বরকতময় মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। এবং সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আশবাহুল খলক্বি বি-রসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদুল বাশার, আল মুবাশ্শির, আল আর্বারু, আল আজওয়াদ, সাইয়্যিদুনা হযরত আন্ নূরুছ ছালিছ হযরত ত্বাহির আলাইহিস সালাম উনার মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিবস।
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
যা উম্মু আবীহা, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম উনার সুমহান নিসবতে আযীম শরীফ দিবস। একই সাথে জামিউল কুরআন, খলীফায়ে ছালিছ, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন হযরত উছমান আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। এবং নবম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ও নকশ্বন্দিয়া তরীক্বার ইমাম হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশ্বন্দ বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার বিরোধিতাকারীরা গুমরাহ ও উলামায়ে ‘সূ’র অন্তর্ভুক্ত। এদেরকে পরিহার করা ফরয-ওয়াজিব।
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত সিবত্বতু রসূল আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে শুধু পরকালীন শাফায়াত ই একমাত্র চাওয়া পাওয়া নয়;
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সংস্পর্শে নাগরিকদের সংশোধনের জন্য পাঠাতে হবে
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ দিবস।
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












