যে সকল ওলামায়ে সূ’রা মন্দির ও মূর্তি পাহারা দিয়েছে, হিন্দুদের পূজায় গিয়েছে, তাদেরকে পূজা করতে সাহায্য-সহযোগীতা করেছে, সমর্থন করেছে, সম্মতি প্রকাশ করেছে, তাদের সাথে মুছাফাহা ও মুয়ানাক্বা করেছে, তাদেরকে সম্মান করেছে, তা’যীম করেছে, তাদের সম্পর্কে সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করেছে এবং সম্মানসূচক শব্দ দ্বারা সম্বোধন করেছে, বাহ বাহ দিয়েছে এবং বেশী বেশী মূর্তি তৈরী করতে বলেছে এবং বেশী বেশী পূজা করতে বলেছে তারা প্রত্যেকেই মূর্তিপূজারী ও মুশরিক হয়ে কাট্টা কাফির ও মুরতাদ হয়েছে (৩১)
, ২১ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ১৯ আউওয়াল, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৮ জুন, ২০২৫ খ্রি:, ০৪ আষাঢ়, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ওলামায়ে সূ’রা গণতন্ত্রপূজারী
গণতন্ত্র করা হারাম ও কুফরী
মহাসম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার নামে গণতন্ত্র করা কাট্টা হারাম ও শক্ত কুফরী
৫ম দলীল:
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَمَنْ يَّــبْـتَغِ غَيْـرَ الْاِسْلَامِ دِيْـنًا فَـلَنْ يُّـقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِـى الْاٰخِرَةِ مِنَ الْـخٰسِرِيْنَ
“আর যে ব্যক্তি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো নিয়ম-নীতি, তর্য-ত্বরীক্বাহ্ তালাশ করে, তার থেকে তা কস্মিনকালেও গ্রহণ করা হবে না; বরং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। ” অর্থাৎ সে কাফির হবে। " না‘ঊযুবিল্লাহ! (পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ: ৮৫)
৬ষ্ঠ দলীল:
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
كَـيْفَ يَـهْدِى اللهُ قَـوْمًا كَفَرُوْا بَـعْدَ اِيْـمَانِـهِمْ وَشَهِدُوْآ اَنَّ الرَّسُوْلَ حَقٌّ وَجَآءَهُمُ الْـبَـيِّـنٰتُ وَاللهُ لَا يَـهْدِى الْقَوْمَ الظّٰلِمِيْـنَ. اُولـٰٓـئِكَ جَزَآؤُهُمْ اَنَّ عَلَيْهِمْ لَعْنَةَ اللهِ وَالْمَلـٰـٓئِكَةِ وَالنَّاسِ اَجْـمَعِـيْـنَ. خٰلِدِيْنَ فِـيْـهَا لَا يُـخَفَّفُ عَنْـهُمُ الْعَذَابُ وَلَا هُمْ يُـنْظَرُوْنَ
“মহান আল্লাহ পাক তিনি কি করে ঐ সম্প্রদায়কে সম্মানিত হিদায়াত দান করবেন, (অর্থাৎ তারা সম্মানিত হিদায়াত মুবারক পাওয়ার উপযুক্ত নয়,) যারা সম্মানিত ঈমান আনার পর কুফরী করে এবং তারা সাক্ষ্য দেয় যে, মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সত্য এবং তাদের নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ্ শরীফ উনাদের দলীল আসার পরেও কুফরী করে? মহান আল্লাহ পাক তিনি যালিম সম্প্রদায়কে সম্মানিত হিদায়াত দান করেন না। অর্থাৎ তারা যালিম হওয়ার কারণে সম্মানিত হিদায়াত লাভের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে। ঐ সমস্ত লোকদের শাস্তি হলো- তাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং সমস্ত মানুষের লা’নত। অনন্তকাল ধরে তারা সেই লা’নতের মধ্যে থাকবে। তাদের উপর শাস্তি লাঘব বা হালকা করা হবে না এবং সেই আযাব থেকে তাদেরকে কোনো রুখছতও দেয়া হবে না। ” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: ৮৬-৮৮)
উপরোক্ত সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই ইরশাদ মুবারক করলেন, যারা ঈমান আনার পর এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সত্য নবী-রসূল ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে সাক্ষ্য দেয়ার পর এবং মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে পবিত্র কুরআন শরীফ আসার পর সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার বিপরীত নিজেদের মনগড়া গণতন্ত্র করবে বা করে, তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি যালিম ও চির মাল‘ঊন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। যেমন- ইবলীস ও কাফিরদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি চির মাল‘ঊন ও যালিম হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।
কাজেই, যারা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো নিয়ম-নীতি, যেমন- সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ইত্যাদি গ্রহণ করবে, তারা ইবলীস ও কাফিরদের মতো চির মাল‘ঊন ও যালিম হিসেবে গণ্য হবে। তারা যদি খালিছ তওবা না করে, তাহলে তাদের একমাত্র জায়ঠিকানা হচ্ছে জাহান্নাম। না‘ঊযুবিল্লাহ!
অতএব, যে সকল কথিত নামধারী পীর, ছূফী, দরবেশ, মালানা, মুফতী, খতীব, মুহাদ্দিছ, মুফাস্সিরে কুরআন, ওয়ায়েযৃ, ইসলামী চিন্তাবিদ অর্থাৎ ওলামায়ে সূ’রা গণতন্ত্র ও ভোট নির্বাচন করছে, ভোটকে আমানত, সাক্ষ্য, ফরয-ওয়াজিব বলছে, সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে তারা মুরতাদের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে হারামকে হালাল ও হালালকে হারাম বলা সুস্পষ্ট কুফরী। আর যে বা যারা কুফরী করে, সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে তারা মুরতাদ হয়ে যায়। সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে মুরতাদের ফায়সালা হলো- তার স্ত্রী তালাক হবে, যদি বিয়ে করে থাকে এবং এক্ষেত্রে পুনরায় তওবা করে, বিবাহ্ দোহরানো ব্যতীত তার স্ত্রীর সাথে বসবাস করা বৈধ হবে না। আর এই অবস্থায় সন্তান হলে, সেই সন্তানও বৈধ হবে না। হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে, যদি হজ্জ করে থাকে। সমস্ত নেক আমল বরবাদ হয়ে যাবে। তার ওয়ারিশসত্ব বাতিল হবে। তাকে তিন দিন সময় দেয়া হবে তওবা করার জন্য। যদি তওবা করে, তাহলে ক্ষমা পাবে। অন্যথায় তার একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদ-। সম্মানিত খিলাফত জারী থাকলে অবশ্যই তা বাস্তবায়ন করা হবে।
উল্লেখ্য যে, ‘সম্মানিত খিলাফত’ হচ্ছেন- সম্মানিত মুসলমান উনাদের একমাত্র শাসন ব্যবস্থা। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ করে হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা যেভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করেছেন, সেটাই হচ্ছেন সম্মানিত খিলাফত। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত খিলাফত উনার অপর নাম ‘শান্তি ও ইনছাফ’। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত খিলাফত ক্বায়িম হওয়ার অর্থই হলো দুনিয়ার যমীনটা জান্নাতে পরিণত হয়ে যাওয়া। সমস্ত মুসলমান উনাদের ঈমানী দায়িত্ব হচ্ছেন- গণতন্ত্র বাদ দিয়ে সম্মানিত খিলাফত উনার জন্য কোশেশ করা। (আল বাইয়্যিনাত শরীফ: সংখ্যা ১, ২২, ২৬, ২৭, ২৯, ৩০, ৩১, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৪৩, ৫৪, ৫৭, ৮২, ৮৪, ৯০, ৯৭ ১০৬)
(চলবে)
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অকাট্য দলীল দ্বারা সুস্পষ্টভাবে “গান-বাজনা” হারাম
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (২)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানদের জন্য সমস্ত খেলাধুলা হারাম
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফিররা যতই মাল-সম্পদ খরচ করুক, তারা মুসলমানদের নিকট পরাস্ত হবেই হবে
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা পালন করা পুরুষ-মহিলা সবার জন্য ফরজ
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












