মুসলমানরা নিজ সন্তানদের ওলীআল্লাহ উনাদের ছোহবতে নেয় না, বিপরীতে বিধর্মীরা তাদের সন্তানদের মুসলমানদের প্রতি শত্রুতার দীক্ষা দেয়
, ০৪ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০২ আউওয়াল, ১৩৯৩ শামসী সন , ০১ জুন, ২০২৫ খ্রি:, ১৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত শেখ সাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নছীহত মুবারক করেছিলেন, “তোমাদের শিশুরা বুুঝদার হওয়ার পর তোমরা তাদেরকে কোনো হক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহ উনার ছোহবতে নিয়ে যাবে। তাতে করে উক্ত সন্তান পরবর্তী জীবনে বড় ওলীআল্লাহ না হতে পারলেও, সে কখনো গুমরাহ হবে না। ”
এখন প্রশ্ন হতে পারে, যদি কোনো সন্তানকে শিশু বয়সে হক্কানী ওলীআল্লাহ উনার কাছে নেয়া হলে তার সারাজীবনের জন্য হিদায়েত নিশ্চিত হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে কোনো শিশুকে ‘মুসলমানরা তোমার শত্রু’ এই শিক্ষা দেয়া হলে তার ফলাফল কি হবে? সেই শিশু পরিণত বয়সে কখনো মুসলমানদের প্রতি সদ্ভাব পোষণ করবে কি?
প্রাবন্ধিক নীরদ সি চৌধুরী তার আত্মজীবনী ‘The Autobiography of an unknown indianÕ-এর ২৬৮ পৃষ্ঠাতে এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছে-
“Nothing was more natural for us than to feel about the Muslims in the way we did. Even before we could read we had been told that the Muslims had once ruled and oppressed us, that they had spread their religion in India with the Koran in one hand and the sword in the other.
নীরদ সি চৌধুরী স্পষ্টতই বলেছে যে, মুসলমানদের প্রতি শত্রুতাবোধ বিধর্মীদের স্বভাব-চরিত্রে যতটা ‘natural’ তথা স্বাভাবিক বিষয়, অন্য কোনো কিছুই তার মতো নয়। কারণ বিধর্মীরা তাদের সন্তানদের শিশু-বয়সেই মুসলিমবিদ্বেষের শিক্ষা দিয়ে থাকে। মুসলমানরা একদা বিধর্মীদের উপর কর্তৃত্ব-শাসন করেছে, মুসলমানরা বিধর্মীদের (কথিত) নির্যাতন করেছে, মুসলমানরা একহাতে পবিত্র কুরআন শরীফ ও অন্যহাতে তরবারি নিয়ে ভারতবর্ষে ইসলাম প্রচার করেছে ইত্যাদি নানারকম সাম্প্রদায়িক আবর্জনা মার্কা মিথ্যাচার শিক্ষা দিয়ে বিধর্মীরা তাদের শিশুদের মাথা ছোটবেলা থেকেই ব্রেইনওয়াশ করে থাকে। ঊাবহ নবভড়ৎব বি পড়ঁষফ ৎবধফ দ্বারা লেখক আরও স্পষ্ট করেছে যে, এসব কু-শিক্ষা শুরু হয় বিধর্মী শিশুদের অক্ষরজ্ঞান অর্জনের পূর্বেই, ফলশ্রুতিতে তা সারাজীবনের জন্য তাদের মনে গেঁথে যায়।
সেই বিধর্মী পরিবারের সন্তান পরিণত বয়সে যতোই মুসলমানদের সাথে মেলামেশা করুক না কেন, সে কিন্তু কখনোই মুসলমানদের প্রতি সদ্ভাব পোষণ করবে না। বরং সবসময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকবে, কি করে মুসলমানদের ক্ষতি করা যায়। নাঊযুবিল্লাহ!
অনেকে বলে থাকে, অমুক বিধর্মীর সাথে আমার এতো বছরের সম্পর্ক। কিন্তু যত বছরের সম্পর্কই থাকুক না কেন, সে কিন্তু তার বাল্য শিক্ষা ভুলে যায় না। ভারতের দাঙ্গার ঘটনাগুলোতে দেখা যায় যে, মুসলমান পরিবারের মেয়ের সম্ভ্রমহানি করেছে সেইসব বিধর্মীরা, যেসব বিধর্মীদের সাথে মুসলমান পরিবারগুলো বছরের পর বছর পাশাপাশি বাস করেছে। বছরের পর বছর ধরে যেই বিধর্মীর সাথে সম্পর্ক, সে ব্যবসায় ক্ষতি করে পালিয়েছে এরকম বহু নজির রয়েছে। কিন্তু আফসোস, মুসলমানদের কখনোই বোধোদয় হয় না।
-গোলাম মুর্শিদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












