মুজাদ্দিদে আ’যমে ছানী, খলীফাতুল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত আল মানছূর আলাইহিস সালাম উনার রচিত এক অনবদ্য তাজদীদ মুবারক ‘আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী’- যা পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম ইসলামী সৌর বর্ষপঞ্জি
, ২৩ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ২৯ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(ধারাবাহিক)
বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে নানা রকম বর্ষপঞ্জি ব্যবহারের তথ্য আমরা ইতিহাস থেকে পাই। যা বর্তমানে চালু নেই, যেমন: চাইনিজ, রোমান, জুলিয়ান, বেবিলনিয়ান, বাইজেন্টাইন, মিশরীয় বর্ষপঞ্জি ইত্যাদি।
বর্তমান পৃথিবীতে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির পাশাপাশি বিশ্বের প্রায় সব দেশেই মুসলমানদের কাছে হিজরী বর্ষপঞ্জির প্রচলন রয়েছে। কিন্তু গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি রচিত হয়েছে সূর্যের আবর্তনের সাপেক্ষে আর হিজরী বর্ষপঞ্জি রচিত হয় চাঁদের আবর্তনের সাপেক্ষে। মাস শুরু এবং শেষ, বিশেষ দিন ধরে হিজরী বর্ষপঞ্জির যেমন প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তেমনি ওয়াক্ত নির্ণয়ে প্রয়োজন রয়েছে সৌর বর্ষপঞ্জির। কিন্তু ইতিহাসে মুসলমানদের রচিত কোনো সৌর বর্ষপঞ্জির তথ্য পাওয়া যায় না। ফলে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি ব্যবহারে মুসলমানরা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। কিন্তু ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিকোণ হতে মুসলমানদের গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করা উচিত নয়।
কেননা, মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَالْمُنَافِقِينَ
অর্থ: “তোমরা কাফির-মুনাফিকদের অনুসরণ-অনুকরণ করো না।” (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: ৪৮)
আর পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضرَتْ عمرو بْنِ شُعَيْب رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ اَبِيْهِ عَنْ جَده اَنَّ رَسُوْل اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا لاَتَشَبَّهُوْا بِالْيَهُوْدِ وَلا بِالنَّصَارٰى.
অর্থ: “হযরত আমর বিন শুয়াইব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার পিতা থেকে উনার পিতা উনার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমাদের ভিন্ন অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়। কাজেই আপনারা ইয়াহুদী এবং নাছারাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করবেন না।” (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ ৩৯৯ পৃষ্ঠা)
আর সে কারণেই যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, মামদূহ হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার নেক দোয়া এবং পৃষ্ঠপোষকতায় উনার একমাত্র ছাহিবযাদা, কুতুবুল আলম, ফখরুল আউলিয়া, সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সঙ্গে গভীর নিসবত মুবারক উনার বদৌলতে এই মুবারক তাক্বউয়ীম (দিন গণনা পদ্ধতি) রচনা করেন।
আরবীতে اَلتَّقْوِيْـمُ ‘তাক্বউয়ীম’ অর্থ বর্ষপঞ্জি আর اَلشَّمْسِىِ ‘শামসী’ অর্থ হচ্ছে সৌর বা সূর্য সম্পর্কিত আর দুইয়ে মিলে হয়েছে, اَلتَّقْوِيْـمُ اَلشَّمْسِىٌّ “আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী”। অর্থাৎ সৌর বর্ষপঞ্জি।
“আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী” উনার উদ্দেশ্য এবং প্রচলিত সৌর বর্ষপঞ্জির সাথে পার্থক্য:
১. উদ্দেশ্য:
আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী: মুসলমানরা যেন কাফিরদের গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুসরণ না করে বরং এই মুবারক বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করার মাধ্যমে পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের পূর্ণ অনুসরণ করতে পারে।
গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি: ইউরোপের খ্রিস্টানরা ২১শে মার্চ ইস্টার দিবস পালন করতো (যেদিন দিন-রাত সমান হয়)। কিন্তু দেখা গেলো জুলিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করলে ইস্টার ডে চলে আসে ১২ই মার্চ। ফলে তারা তাদের এই ইস্টার ডে পালনের জন্যই জুলিয়ান বর্ষপঞ্জি সংশোধন করে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি তৈরি করে। উল্লেখ্য, ইস্টার ডে হচ্ছে কাফিরদের কাছে সেই দিন, যেদিন তারা মনে করে হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার তিনদিন পর এই দিনে আবার ফিরে আসেন। নাঊযুবিল্লাহ!
ফসলী সন: ফসলী সন তৈরি হয় মোঘল শাসক আকবরের নির্দেশে। সে মুসলমানদের হিজরী সন বাদ দেবার জন্যই এই বাংলা সন চালু করেছিলো। তার সিংহাসন আরোহণের দিন মনে রাখার জন্যই এই সন চালু করে। যে ব্যক্তি দ্বীনে-ইলাহী নামক নতুন একটি ধর্ম তৈরি করে সম্মানিত ইসলাম উনাকে ধ্বংস করার কাজে নিয়োজিত ছিলো তার নির্দেশে রচিত সৌর সন অনুসরণের কোনই প্রয়োজন মুসলমানদের নেই।
২. প্রবর্তন এবং নামকরণ:
আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী: এই সৌর বছর গণনা পদ্ধতি প্রবর্তন এবং নামকরণ করেছেন খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, আল মানছূর, সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি: এর নামকরণ করা হয়েছে খ্রিস্টানদের তথাকথিত ধর্মযাজক, দুশ্চরিত্র (যার বিবাহ বহির্ভূত একটি সন্তান ছিলো) পোপ গ্রেগরির নামানুসারে। নাঊযুবিল্লাহ!
৩. উৎস:
আত-তাক্বউয়ীমুশ শামসী: এই সৌর বছর গণনা পদ্ধতি পৃথিবীর কোন বর্ষপঞ্জির অনুকরণে তৈরি না করে বরং খাছ খোদায়ী মদদে ইলহাম-ইলক্বা উনার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি: কুসংস্কারাচ্ছন্ন রোমানদের বর্ষপঞ্জি ও তাদের কল্পনা থেকে।
ফসলী সন: চন্দ্রমাস নির্ভর হিজরী বর্ষপঞ্জি এবং সৌরমাস নির্ভর হিন্দু বর্ষপঞ্জির সংমিশ্রণে মোঘল বাদশাহ আকবর কর্তৃক এর উদ্ভব ঘটনো হয় যাতে মুসলমানগণ হিজরী বর্ষ গণনা পরিহার করে হিন্দু বর্ষ গণনায় অভ্যস্ত হয়।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়তে মদ ও জুয়া হারাম
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৪তম পর্ব)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (১)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












