পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনাকে মুহব্বত করার, ইত্তেবা করার এবং প্রচার-প্রসার করার কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ ফযীলত মুবারক (৫)
, ১৮ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৩ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
৮) সম্মানিত জান্নাত লাভ করা যায় এবং সম্মানিত জান্নাতে অনন্তকালধরে একই সাথে থাকার সুমহান নিয়ামত মুবারক লাভ করা যায়।
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা মুবারক করলে, সম্মানিত জান্নাত লাভ করা যায়। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُوْلَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِيْنَ فِيْهَا.
অর্থ : যে বা যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে সম্মানিত ইত্তিবা মুবারক করবেন, উনাদেরকে এমন সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে প্রবেশ করানো হবে যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সুবহানাল্লাহ! উনারা সেখানে অনন্তকাল যাবৎ অবস্থান করবেন। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা নিসা’ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩)
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনাকে আঁকড়ে ধরলে অর্থাৎ দৃঢ়তার সহীত পালন করলে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে একই সম্মানিত জান্নাত মুবারকে থাকার নিয়ামত মুবারক লাভ করা যাবে। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
أَلْآخِذُ بِسُنَّتِي مَعِي فِيْ حَظِيْرَةِ الْقُدْسِ
অর্থ: যে ব্যক্তি আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক আঁকড়ে ধরে থাকবে, সে ‘হাযীরাতুল কুদস’ নামক স্থানে (সম্মানিত জান্নাতের বিশেষ স্থান) আমার সাথে অবস্থান করবে। সুবহানাল্লাহ! (আল বাদরুল মুনীর ২/৫৯৮, তালখীছুল হবীর ১/৩৮৬, আল ইছাবাহ্ ৮/২১৬ ইত্যাদি)
শুধু তাই নয়; যে বা যাঁরা সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনাকে মুহব্বত মুবারক করবেন উনারা স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে একই সম্মানিত জান্নাত মুবারকে থাকার সুমহান নিয়ামত মুবারক লাভ করবেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
مَنْ أَحَبَّ سُنَّتِيْ فَقَدْ أَحَبَّنِيْ وَمَنْ أَحَبَّنِيْ كَانَ مَعِي فِي الْجَنَّةِ
অর্থ: “যে ব্যক্তি আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনাকে মুহব্বত করলো, সে অবশ্য আমাকেই মুহব্বত মুবারক করলো আর যে ব্যক্তি আমাকে মুহব্বত মুবারক করলো, সে আমার সাথে সম্মানিত জান্নাত মুবারকে অবস্থান করবে।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)
উল্লেখ্য, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে একই সম্মানিত জান্নাত মুবারকে অবস্থান করার সুমহান নিয়ামত মুবারক কে হাত ছাড়া করতে চায়? কেউ কখনোই এমনটি চায় না। কাজেই, আমরা যদি সত্যিকার অর্থেই এই সুমহান নিয়ামত মুবারক চাই! তাহলে আমাদের সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতিটি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনাকে মুহব্বত মুবারক করা, দৃঢ়তার সাথে পালন করা এবং মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক জিন্দা করা অর্থাৎ প্রচার-প্রসার করা। সুবহানাল্লাহ!
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফদ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, যে বা যাঁরা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা, অনুসরণ-অনুকরণ মুবারক করবেন, মুহব্বত মুবারক করবেন, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করবেন, প্রচার-প্রসার মুবারক করবেন, উনাদের প্রত্যেকের জিন্দেগীর সকল গুণাহ ক্ষমা করা হবে, দুনিয়া ও আখিরাতের সর্বপ্রকার ফিতনা (আযাব-গযব থেকে) ও পথভ্রষ্ট হওয়া থেকে মুক্তি দেওয়া হবে, গাইরুল্লাহর মুহব্বত থেকে মুক্ত রাখা হবে, সম্মানিত হিদায়াত মুবারক দান করা হবে, কমপক্ষে একশত শহীদের ছওয়াব দেওয়া হবে, রিযিক্বের সংকীর্ণতা স্পর্শ করবে না, সম্মানিত রহমত মুবারক দায়েমীভাবে লাভ করবে, সম্মানিত খলীফা হিসেবে মনোনীত হবে, সর্বোচ্চ সফলতা লাভ করবে এবং এ ছাড়াও আরো অসংখ্য-অগণিত রহমত-বরকত ও বেমেছাল ফযীলত মুবারক হাছিল করবে। বিশেষ করে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত দায়েমী রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারকসহ একই সম্মানিত জান্নাত মুবারকে উনার সাথে অবস্থান করার সুমহান নিয়ামত মুবারক লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই, আমাদের দ্বায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, সর্বপ্রকার হারাম-নাজায়িয, কুফরী-শিরকী, বিদয়াত-বেশরা ও গুণাহর কাজ থেকে বিরত থেকে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই হাক্বীক্বীভাবে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তেবা, অনুসরণ-অনুকরণ মুবারক করা।
মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান সম্মানার্থে আমাদেরকে সেই তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিশমিশ
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কদুতেই লুকিয়ে আছে ক্ষুরধার বুদ্ধি ও প্রখর স্মৃতিশক্তি (৩)
২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কদুতেই লুকিয়ে আছে ক্ষুরধার বুদ্ধি ও প্রখর স্মৃতিশক্তি (২)
২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কদুতেই লুকিয়ে আছে ক্ষুরধার বুদ্ধি ও প্রখর স্মৃতিশক্তি (১)
২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
“শরীরের শক্তি বাড়াতে এবং কিডনি সুরক্ষায় আঙুর অত্যন্ত উপকারী ফল।”
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বপ্রকার খাদ্য সামগ্রীর উপর ছারীদের মর্যাদা মুবারক
১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
জটিল ও কঠিন রোগ-ব্যাধি দূর করতে এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন কাটাতে ‘তালবীনাহ’ অসাধারণ উপকারী খাবার (২)
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
জটিল ও কঠিন রোগ-ব্যাধি দূর করতে এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন কাটাতে ‘তালবীনাহ’ অসাধারণ উপকারী খাবার (২)
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
জটিল ও কঠিন রোগ-ব্যাধি দূর করতে এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন কাটাতে ‘তালবীনাহ’ অসাধারণ উপকারী খাবার (২)
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
জটিল ও কঠিন রোগ-ব্যাধি দূর করতে এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন কাটাতে ‘তালবীনাহ’ অসাধারণ উপকারী খাবার (২)
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
জটিল ও কঠিন রোগ-ব্যাধি দূর করতে এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন কাটাতে ‘তালবীনাহ’ অসাধারণ উপকারী খাবার (২)
১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












