মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালনের বেমেছাল দৃষ্টান্ত মুবারক (২)
, ২২ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৯ সাদিস ১৩৯১ শামসী সন , ০৭ নভেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ২২ কার্তিক, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ عَابِسِ بْنِ رَبِيْعَةَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ رَاَيْتُ سَيِّدَنَا حَضْرَتْ اَلْفَارُوْقَ الْاَعْظَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدَنَا حَضْرَتْ عُمَرَ بْنَ الْـخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلَامُ) يُقَبِّلُ الْـحَجَرَ يَعْنِـى الْاَسْوَدَ وَيَقُوْلُ اِنِّـىْ اَعْلَمُ اَنَّكَ حَجَرٌ لَا تَنْفَعُ وَلَا تَضُرُّ وَلَوْلَا اَنِّـىْ رَاَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَبِّلُكَ مَا قَبَّلْتُكَ
অর্থ: “হযরত আবিস ইবনে রবী’আহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে দেখেছি তিনি পবিত্র হাজরে আসওয়াদ মুবারক বূছা দিচ্ছেন আর বলছেন ‘আমি জানি নিঃসন্দেহে তুমি একটি পাথর। কোন অপকার করতে পারনা, কোন উপকারও করতে ক্ষমতা রাখ না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তোমায় বূছা মুবারক দিতে দেখেছি বলেই আজ আমি তোমাকে বূছা দিচ্ছি’।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, তিরমিযি শরীফ, নাসাঈ শরীফ, আত তারগীব ওয়াত তাহরীব : মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৪৪)
সাধারণত বলা হয় পবিত্র হাজরে আসওয়াদ মুবারক-এ বূছা দিলে পবিত্র হাজরে আসওয়াদ মানুষের গুনাহসমূহ চুষে নেয়। কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি শুধুমাত্র মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার দিকে খেয়াল করেই পবিত্র হাজরে আসওয়াদ মুবারক-এ বূছা দিতেন। এখান থেকেই বুঝা যায় উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাত মুবারক উনার কতটুকু ইত্তিবা মুবারক করতেন। সেটা বলার অপেক্ষাই রাখেনা। সুবহানাল্লাহ!
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক পালন
উনার সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার ইত্তিবা মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে তেমনটিই দেখা যায়। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ مُـجَاهِدٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ كُنَّا مَعَ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ فِـىْ سَفَرٍ فَمَرَّ بِـمَكَانٍ فَحَادَ عَنْهُ فَسُـئِلَ لِـمَ فَعَلْتَ فَقَالَ رَاَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ هٰذَا فَفَعَلْتُ
অর্থ: “হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা কোন এক সফরে আমরা হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সাথে ছিলাম। তিনি এক জায়গা দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় তিনি একটু সরে গিয়ে উনার রাস্তা পরিবর্তন করলেন অর্থাৎ তিনি ডান দিক বা বাম দিক দিয়ে গেলেন। তখন উনাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কেন এমনটি করলেন? তিনি বললেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এরূপ করতে দেখেছি তাই আমিও উনার মুবারক অনুসরণে এরূপ করলাম।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ, ইবানাতুল কুবরা ১/২৪২, আত তারগীব ওয়াত তাহরীব ১/৪৩ ইত্যাদি)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَنَّهٗ كَانَ يَاْتِــىْ شَجَرَةً بَيْـنَ مَكَّةَ وَالْمَدِيْنَةِ فَيَقِيْلُ تَـحْتَهَا ويُـخْبِرُ اَنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَفْعَلُ ذٰلِكَ
অর্থ: “হযরত ইবনে উমার রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনাদের মাঝে অবস্থিত একটি বৃক্ষের নিকট যখন তিনি আসতেন, তখন তিনি ঐ বৃক্ষটির নীচে শুয়ে বিশ্রাম করতেন। আর বলতেন- ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও এরূপ করতেন’।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে বাযযার ১২/২১৩, আত তারগীব ওয়াত তাহরীব ১/৪৩, আউনুল মা’বূদ ২/২৭৮, শরহে সুনানে ইবনে মাজাহ ১/২, হায়াতুছ ছাহাবা ৩/৮৭ ইত্যাদি)
(চলবে...)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
খাওয়ার পর দাঁত খিলাল করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার মাধ্যমেই সর্বপ্রকার নেয়ামত মুবারক হাছিল করা সহজ ও সম্ভব
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৭)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৬)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৫)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৪)
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৩)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৯)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কিছ্ছা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












