মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার মধু
, ৩০ মুহররমুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০৮ ছালিছ, ১৩৯২ শামসী সন , ০৬ আগষ্ট, ২০২৪ খ্রি:, ২২ শ্রাবণ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
মহান আল্লাহ পাক তিনি মধুর ব্যাপারে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَأَوْحَىٰ رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُوْنَ ﴿٦٨﴾ ثُمَّ كُلِيْ مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِيْ سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًا ۚ يَخْرُجُ مِنْ بُطُوْنِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَانُه فِيْهِ شِفَاءٌ لِّلنَّاسِ ۗ إِنَّ فِيْ ذٰلِكَ لَآيَةً لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُوْنَ ﴿٦٩﴾
অর্থ: “আপনার মহান রব তায়ালা তিনি মৌমাছিকে আদেশ মুবারক দিলেন পর্বতগাত্রে, বৃক্ষ ও উঁচু চালে মৌচাক নির্মাণ করো। এরপর সর্বপ্রকার ফল হতে ভক্ষণ কর এবং আপন মহান রব তায়ালা উনার উন্মুক্ত পথ সমূহে চলাচল করো। মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের পেট হতে বিভিন্ন রঙের পানীয় নির্গত করেন। তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের শিফা। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। ” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নাহল শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৮-৬৯)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْكُمْ بِالشِّفَاءَيْنِ الْعَسَلِ وَالْقُرْآنِ.
অর্থ: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমাদের দু’টি প্রতিষেধক গ্রহণ করা উচিত, মধু এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ। ” (ইবনে মাজাহ শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৩৪৫২)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحِبُّ الْحَلْوَاءَ وَالْعَسَلَ.
অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হালওয়া (মিষ্টান্ন) ও মধু পছন্দ মুবারক করতেন। ” (ইবনে মাজাহ শরীফ: কিতাবুত ত্বয়ামাহ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৩৩২৩)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে পেটের অসুখে মধুর ব্যবহার বিষয়ে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِيْ سَعِيْدٍ رَضِيَ الله تَعَالى عَنْهُ أنَّ رَجُلًا أتَى النَّبيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَخِيْ يَشْتَكِيْ بَطْنَهُ فَقَالَ اسْقِهِ عَسَلًا ثُمَّ أتَى الثَّانِيَةَ فَقَالَ اسْقِهِ عَسَلًا ثُمَّ أَتَاهُ الثَّالِثَةَ فَقَالَ اسْقِهِ عَسَلًا ثُمَّ أَتَاهُ فَقَالَ قدْ فَعَلْتُ فَقَالَ صَدَقَ اللهُ وكَذَبَ بَطْنُ أخِيْكَ اسْقِهِ عَسَلًا فَسَقاهُ فَبَرَأَ.
অর্থ: “হযরত আবূ সাঈদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে এসে একজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আরজি করলেন, আমার ভাইয়ের পেটে অসুখ হয়েছে। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, উনাকে মধু পান করান। এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে উক্ত হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি দ্বিতীয়বার আসলে উনাকে ইরশাদ মুবারক করলেন, উনাকে মধু পান করান। এরপর উক্ত হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পুনরায় মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে এসে বললেন, আমি অনুরূপই করেছি। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সত্য বলেছেন, কিন্তু আপনার ভাইয়ের পেট অসত্য বলছে। উনাকে মধু পান করান। উক্ত হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার ভাইকে মধু পান করালেন। এবার তিনি আরোগ্য লাভ করলেন। ” (বুখারী শরীফ: কিতাবুত ত্বিব: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৫৬৮৪)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ لَعِقَ الْعَسَلَ ثَلَاثَ غَدَوَاتٍ كُلَّ شَهْرٍ لَمْ يُصِبْهُ عَظِيْمٌ مِنَ الْبَلَاءِ.
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কোন ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন সকাল বেলা মধু চেটে চেটে খেলে সে মারাত্মক কোন বিপদে (অসুখে) আক্রান্ত হবে না। ” (ইবনে মাজাহ শরীফ: কিতাবুত ত্বিব: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৩৪৫০)
উপকারিতা : বহু রোগের প্রতিষেধক হিসেবে মধু ব্যবহার করা হয়। যেমন-
১. মধু সর্দি, কাশি, জ্বর, হাপানি, হৃদরোগ, পুরনো আমাশয় এবং পেটের অসুখ নিরাময়সহ নানাবিধ জটিল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।
২. মধু পরিপাকে সহায়তা করে, ক্ষুধা বাড়ায়, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে।
৩. মধু প্রিজারভেটিভ হিসেবেও কাজ করে।
৪. ক্ষত সারাতে মধু ব্যবহার করা যায়।
৫. ব্রণ সারাতে, মুখের আর্দ্রতা বৃদ্ধিতে, মসৃণ করতে ইত্যাদি সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্নভাবে মধু ব্যবহৃত হয়।
৬. ডায়াবেটিকের রোগীরাও নির্ভয়ে চিনির বিকল্প হিসেবে মধু খেতে পারে। মধু মিষ্টি হলেও এতে রক্তের সুগার বাড়ে না।
৭. মধু ও লেবুর শরবত শরীরের বাড়তি মেদ কমাতে সাহায্য করে।
৮. শিশুদের শারীরিক বিভিন্ন সমস্যায় ওষুধের চেয়ে মধু অনেক বেশি কর্যকর।
৯. মুখের জড়তা দূরীকরণে মধুর ভূমিকা অপরিসীম।
১০. মধু দিয়ে তাহনিক করা খাছ সুন্নত মুবারক।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল সমূহ (২)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র ঈদুল ফিতর সংক্রান্ত মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল (১)
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র শবে ক্বদর শরীফ পালন করার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৫)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












