বিজ্ঞান
বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান:
, ২৪ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৩ ছানী, ১৩৯২ শামসী সন , ০১ জুলাই, ২০২৪ খ্রি:, ১৭ আষাঢ়, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
বিখ্যাত মহাকাশ ও জ্যোতিষ বিজ্ঞানী আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে ইয়াহইয়া আন নাক্কাশ আয যারকালী
আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে ইয়াহইয়া আন নাক্কাশ আয যারকালী (হিজরী ৪২০- ৪৭৯; খ্রি: ১০২৯-১০৮৭) ছিলেন আল আন্দালুসিয়ার একজন বিখ্যাত মহাকাশ বিজ্ঞানী, জ্যোতিষ বিজ্ঞানী ও এ সংক্রান্ত যন্ত্র তৈরির উপর দক্ষ ব্যক্তিত্ব। তিনি আত তুলায়তালাহ বা স্পেনের টলেডোয় বসবাস করতেন। ইন্তেকালের পূর্বে তিনি কর্ডোভায় যান এবং সেখানে ইন্তেকাল করেন। উনার যন্ত্রপাতির মধ্যে ‘ছফিহা’ যা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ আস্তারলব তখন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল এবং মুসলিম বিশ্বসহ ইউরোপেও তা ১৬শ খ্রি: পর্যন্ত সমুদ্র পথযাত্রীদের দিক সহায়ক যন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
আয যারকালী টলেডোর সীমান্তবর্তী একটি গ্রামে হিজরী ৪২০ (খ্রি: ১০২৯) সালে জন্মগ্রহণ করেন। পরে তিনি টলেডোর রাজধানী তাইফাতে আসেন। এখানে এসে তিনি কামারের কাজের প্রশিক্ষণ নেন এবং ধাতু তৈরীর উপর নকশা করার উপর দক্ষতা অর্জন করেন। উনার এই দক্ষতার জন্য উনাকে আন নাক্কাশ বা The engraver of metals তথা ধাতু খোদাইকারক বলা হত। তিনি জ্যামিতি ও মহাকাশ বিদ্যায় খুব পারদর্শী ছিলেন। তিনি টলেডো হতে শিক্ষাদান ও বিভিন্ন কার্যে সহায়তার জন্য কর্ডোভায় যেতেন। এভাবে টলেডোর বাইরে উনার নাম-খ্যাতি ছড়িয়ে পরে। হিজরী ৪৭৭ (খ্রি: ১০৮৫) সালে টলেডো খ্রিস্টান আলফোনসো-৬ দখল করে নিলে তিনি ও উনার সহকর্মী আল-ওয়াক্কাশী টলেডো হতে কর্ডোভায় চলে যান। সেখানে হিজরী ৪৭৯ (খ্রি: ১০৮৭) সালে ইন্তেকাল করেন।
জ্ঞান-বিজ্ঞানে উনার অবদান আল আন্দালুসিয়ার পরবর্তী জ্ঞান-বিজ্ঞানের ধারক-বাহক যেমন: ইবনে বাজ্জাহ, ইবনে তুফাইল, ইবনে রুশদ, ইবনে কাম্মাদ, ইবনে হাইম আল ইসবিলি, নুরুদ্দীন আল বিতরুজী উনাদেরকে দারুণ প্রভাবিত করেছিল। তিনি আস্তারলাবের উপর কাজ করে আরো সুক্ষ্ম ও নিখুঁত যন্ত্র তৈরি করেছিলেন। একেই বলা হত ‘আছ ছফিহাতুয যারকালিয়্যা’ বা The table of al Zarqali। হিজরী ৬ষ্ঠ শতকে (১২শ খ্রি:) ক্রেমোনার জেরার্ড উনার ছফিহার উপর কিতাব ল্যাটিনে অনুবাদ করেছিল। সে সেখানে উনাকে মহাকাশ বিজ্ঞানী ও জোতিষ বিজ্ঞানী হিসেবে উল্লেখ করেছিল। উনার ছফিহার উপর রেজিও মন্টনাস হিজরী নবম শতকে (১৫শ খ্রি:) একটি বই রচনা করেছিল। ৯৩৬ হিজরী (১৫৩০ খ্রি:) সালে জার্মান জ্যাকব জেগলার উনার কিতাবের উপর একটি আলোচনামূলক ভাষ্য রচনা করে। ৯৩৬ হিজরী (১৫৩০ খ্রি:) সালে পোলিশ নিকোলাস কোপার্নিকাস তার উব Revolutionibus Orbium Coelestium -এ আয যারকালী ও আল বাত্তানীর অবদানের কথা উল্লেখ করে।
আয যারকালী দুইটি কিতাব রচনা করেছিলেন ইকোয়াটোরিয়াম নামক যন্ত্রের উপর যা মহাকাশে গ্রহগুলোর অবস্থান নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হত। উনার এই কিতাবদ্বয়কে স্প্যানিশ ভাষায় খ্রিস্টান রাজা আলফোনসো ১০ এর নির্দেশে সপ্তম হিজরী (১৩শ খ্রি:) শতকে অনুবাদ করা হয়।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












