সমাজ থেকে ইসলামী ভাবধারা নষ্ট করার জন্যই বাল্যবিবাহের বিরোধিতা।
বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করতে এত উৎসাহ কিন্তু- বিবাহপূর্ব প্রেম-ভালোবাসার নামে অনৈতিক সম্পর্ক নিষিদ্ধ করতে সরকারী কর্মকর্তাদের কেন কষ্ট লাগে?
, ১৫ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩১ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ৩০ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) বিশেষ প্রতিবেদন
যারা বাল্যবিবাহ বন্ধ করার আইন করেছে ও যারা এ কাজে সহযোগিতা করছে তাদের জন্য ও পাঠকদের জন্য কিছু প্রশ্ন দিয়েই লেখাটি শুরু করতে চাই।
গ্রামের একটি মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গে গেলে কি হয়-
একটি দরিদ্র পরিবার একবার বিয়ের আয়োজন করতে জমি-জমা বিক্রি করে, ধার-কর্য করে কিন্তু সেটা ভেঙ্গে গেলে পরবর্তীতে তার আয়োজন করে দেবে কে?
প্রশাসনিক আমলারা অবৈধ অর্থ হাছিলের লক্ষ্যে একটা মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গে দিলে, ছবি তুলে মিডিয়ায় প্রচার করলে, পরবর্তীতে মেয়েটির বিয়ের খরচ যোগাবে কে?
একটি মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গে গেলে, পরবর্তীতে বছরের পর বছর মেয়েটির বিয়ের প্রস্তাব আসে না। গ্রামের অশিক্ষিত-অর্ধ শিক্ষিত মানুষ এত কিছু বুঝতে চায় না- মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গেছে তাই সে খারাপ কিছু, নয়তো বিয়ে ভাঙ্গবে কেন?-এটাই তাদের বুঝ। সব অবুঝ মানুষকে বুঝাবে কিভাবে?
বিয়ে ভাঙ্গার পর মেয়েটি ও তার পরিবারের উপর দিয়ে যে কতটা কষ্টের ঝড় বয়ে যাচ্ছে, তার উপর দিয়ে। তার দায়ভার কি এনজিও’র অর্থলোভীরা নেবে?
যারা সামান্য কিছু অর্থের লোভে একের পর এক বিয়ে ভেঙ্গে চলেছে, যদি তার মেয়ের বিয়ে কেউ ভেঙ্গে দিতো, তখন তার কেমন লাগতো?
যারা বাল্যবিবাহ বন্ধের পক্ষে তারা প্রশ্নগুলো ভালোভাবে শোনার আগেই মুখস্ত কিছু সাতপাঁচ উত্তর দিয়ে দিবে। কারণ তারা অন্ধভাবে ও টাকার লোভে এসব কাজ করে। কিন্তু সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা যদি একটু ঠা-া মাথায় চিন্তা করে তাহলে কিন্তু ঠিকই বাস্তবতা যে কত কঠিন তা বুঝে আসা স্বাভাবিক।
..........
পাঠক! এবার আসুন আমরা সাম্প্রতিক প্রকাশিত কয়েকটি খবরের শিরোনাম দেখি-
(১) কুমিল্লায় ১৪ বছরের অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকাকে হত্যা।
(২) শরীয়তপুরে প্রেমিক বিয়ে না করায় ১৬ বছরের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর আত্মহত্যা।
(৩) বাগেরহাটে ১১ বছর বালকের সাথে অবৈধ সম্পর্কে গর্ভবতী ১৮ বছরের যুবতী।
(৪) কিশোরগঞ্জে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে ষষ্ঠ শ্রেণীর অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকার অবস্থান।
(৫) বগুড়ায় অবৈধ সম্পর্কে অন্তঃসত্ত্বা ১৩ বছরের কিশোরী, গর্ভপাতে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যা।
সবাইকে যে গণহারে ১৮ বছরের নিচে বিয়ে করতে হবে ব্যাপারটি কখনোই এমন নয়। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে ১৮ বছরের নিচে বিয়ে করা বা করানো অনেক জরুরীও বটে। উল্লিখিত খবরগুলো কি সেটাই প্রমাণ করে না? ১৮ বছরের নিচে বহু ছেলে-মেয়ে অবৈধ দৈহিক মেলামেশায় জড়াচ্ছে, গর্ভবতী হচ্ছে এমনকি গর্ভপাতেও যাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক।
...........
পাঠক! আপনাদের জন্য আরো কিছু তথ্য। আপনাদের জেনে রাখা দরকার- বাংলাদেশে কিন্তু সরকারের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পতিতালয়ও আছে। নাউযুবিল্লাহ!
সরকার কর্তৃক লাইসেন্স দেয়া পতিতা সংখ্যা ১ লক্ষ এবং সব মিলিয়ে পতিতা সংখ্যা ৫ লক্ষ। এরমধ্যে ১৮ বছর নিচে ৩ লক্ষ ২০ হাজার, এবং মোট পতিতার ৪ লক্ষ ৫০ হাজার, যারা ১৮ বছরের নিচেই দেহব্যবসা শুরু করে।
এনজিও লাইট হাউস কনসোর্টিয়াম-এর এক কর্মী বলেছে, “পূর্বের তুলনায় অল্পবয়সী মেয়েদের এ পেশায় জড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে বেশি। ...আইনের রক্ষকরাই এর অপব্যবহার করছে।”
এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে আসলে হচ্ছেটা কি। উপর দিয়ে জনগণ দেখছে, প্রশাসন ১৮ বছরের নিচের মেয়ের বিয়ে বাধা দিচ্ছে, কিন্তু ভেতর দিয়ে ঐ প্রশাসনের লোকজনই ১৮ বছরের নিচের মেয়েদের ব্যবহার করছে, টাকা কামাচ্ছে।
...........
পাঠক! এবার জানুন- এই বাল্যবিবাহ বন্ধ করার চক্রান্তটা কাদের তৈরি ও শুরুটা কিভাবে।
বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ বন্ধের এই কার্যক্রম চালানো হয় মার্কিন সরকারের NSSM200 পলিসি অনুসারে। NSSM200 মানে National Security Study Memorandum200। এই পলিসি অনুসারে মার্কিন সরকার ১৩টি দেশের জনসংখ্যাকে হুমকি হিসেবে মনে করে। এই ১৩টি দেশের মধ্যে ১টি হচ্ছে বাংলাদেশ। তাদের পলিসি অনুসারে জনসংখ্যা হ্রাসের অন্যতম উপায় হচ্ছে বাল্যবিয়ের বন্ধের নাম দিয়ে মেয়েদের অধিক বয়সে বিয়ের জন্য চাপ দেয়া। এই পলিসি তৈরি করেছে আমেরিকার ইহুদীবাদী প্রেসিডেন্ট হেনরী কিসিঞ্জার।
............
উল্লিখিত খন্ড চিত্রগুলোই প্রমাণ করে বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধের বিষয়টি কতবেশি বিতর্কিত ও চক্রান্তমূলক। বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধে সরকারি আমলাদের অতি উৎসাহ উদ্দীপনা থাকলেও বিবাহবহির্ভুত কথিত প্রেম-ভালোবাসা বন্ধে সরকারের একচোখা নীতি কেন? উল্টো সরকার পতিতালয়ের লাইসেন্স দিয়ে বেড়াচ্ছে।
মূলত, বাল্যবিবাহ বন্ধ করার পেছনের মূল চক্রান্তকারীরা হলো মুসলিমবিদ্বেষী কাফির-মুশরিকগোষ্ঠী। তারাই কমিশনের লোভ দেখিয়ে সরকারি আমলাদেরকে এ কাজে প্ররোচিত করে যাচ্ছে।
-আবুল কালাম রাযী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিশ্বের ১৩০টি দেশ বাংলাদেশী পোলাওর চালের স্বাদ নিতে পারলেও বঞ্চিত হলো এবং হচ্ছে বাংলাদেশের গরীব জনসাধারণ।
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সব নাগরিকের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নতুন সেনানিবাস ও গ্যারিসন পরিকল্পনার অপরিহার্য রূপরেখা (পর্ব-১৮)
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
দ্বীন ইসলাম উনার কথা বলা দ্বীনি এবং সাংবিধানিক অধিকার।
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গোল্ডেন রাইস বহুজাতিক কোম্পানির এগ্রিবিজনেসের নতুন হাতিয়ার
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষাধিক সেনাসদস্যের প্রস্তাবিত স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ এবং ক্লোজ কোয়ার্টার কমব্যাট প্রশিক্ষণ (পর্ব১৫)
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “যার সাথে মহব্বত, পরকালে তার হাশর-নশর তার সাথেই হবে।” (সহীহ বুখারী, হাদীছ নং- ৬১৬৯)
১৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চিকিৎসা সক্ষমতা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের সমীকরণ (পর্ব ১৪)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৫০ লক্ষাধিক বাহিনীর পার্সোনাল ট্যাকটিক্যাল ও সারভাইভাল লজিস্টিকসের কৌশলগত হিসাব (পর্ব ১৩ : ২য় অংশ)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৫০ লক্ষাধিক বাহিনীর পার্সোনাল ট্যাকটিক্যাল ও সারভাইভাল লজিস্টিকসের কৌশলগত হিসাব (পর্ব ১৩ : ১ম অংশ)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলিম যোদ্ধাদের মস্তক ছিন্ন করে বাক্স বন্দী করে “যুদ্ধের ট্রফি” হিসেবে নিয়ে যেতো প্যারিসে (২)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দেশবাসীকে কর মুক্ত এবং মূল্যস্ফীতি মুক্ত বাজেট তথা শায়েস্তাখাঁর আমলের মত সস্তা দ্রব্য মূল্যের বাজেট এমনিতেই উপহার দেয়া যাবে ইনশাআল্লাহ
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












