বাতিল ফিরকা লা-মাযহাবী ও কথিত সালাফীদের কুফরী আকীদা উন্মোচন ও মুসলমানদের বিভ্রান্তির অপনোদন (৪)
, ২৭ রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২১ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ০৪ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
মূল কথা হলো- বাতিল ফিরক্বা লা মাযহাবী বা তথাকথিত সালাফীদের আক্বীদা হলো- মহান আল্লাহ পাক তিনি মানুষের মতই ছূরত বা আকার-আকৃতি ও অঙ্গ প্রত্যঙ্গের অধিকারী। নাউযুবিল্লাহ! পক্ষান্তরে প্রকৃত সালাফী বা চার মাযহাব অর্থাৎ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা হলো- মহান আল্লাহ পাক তিনি ১০টি বিষয় থেকে পবিত্র। এ সম্পর্কে আক্বাইদের কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-
اَللهُ مُنَـزَّهٌ عَنْ جِسْمٍ وَجَوْهَرٍ وَعَرْضٍ وَتَصْوِيْرٍ وَتَـعْدِيْدٍ وَتَـبْعِيْضٍ وَتَجْزِئٍ وَتَـرْكِيْبٍ وَتَـنَاهِيٍّ وَتَحْدِيْدٍ
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি জিসিম বা শরীর বা নির্ভরশীলতা থেকে, চওড়া বা প্রশস্ত হওয়া থেকে, পরিধি বা ব্যাস বা বস্তু বিশিষ্ট হওয়া থেকে, আকৃতি থেকে, সংখ্যা থেকে, টুকরা টুকরা হওয়া থেকে, অংশ হওয়া থেকে, সম্মিলিতরূপ হওয়া থেকে, না হওয়া থেকে, সীমা শেষ হওয়া থেকে ইত্যাদি সমস্ত কিছু থেকেই পবিত্র। সুবহানাল্লাহ!
টাকার লোভেই লা মাযহাবীরা নিজেদেরকে ‘সালাফী’ নামে পরিচয় দেয়:
সৌদি আরবসহ আরব ভূমিতে যখন অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটলো তথা পেট্রোল উৎপাদন শুরু হলো, তখন থেকে হঠাৎ করে ভারতবর্ষের গায়রে মুকাল্লিদ ও লা-মাযহাবীরা অর্থনৈতিক সুবিধাভোগের আশায় নিজেদেরকে নতুন করে ‘সালাফী’ বলা ও লেখা শুরু করলো। অথচ এর পূর্ব পর্যন্ত তারা নিজেদেরকে আক্বীদার ক্ষেত্রে আশআরী (হযরত আবুল হাসান আশআরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাসলাক) বলে দাবি করতো ও লেখতো।
মোট কথা, সৌদি আরবের তেল বিক্রির রিয়ালের লোভে পড়েই তারা ‘আশআরী’ নাম ছুঁড়ে ফেলে দিলো এবং নিজেদেরকে সালাফী বলা ও লেখা আরম্ভ করলো। ধোঁকায় ফেললো আরব বিশ্বকে। তারা ধোঁকা খেয়ে সত্যিই ধরে নিলো, এরাও বুঝি আমাদের মধ্যে ‘সালাফী’। অথচ এরা নকল সালাফী: প্রকৃত সালাফী নয়। উল্লেখ্য, যারা প্রকৃতপক্ষে সালাফী তারা মাযহাব মানাকে ফরয মনে করে, হারাম ও শিরিক মনে করে না।
কিন্তু অবাক লাগে! বর্তমানে আমাদের ভারত উপমহাদেশে ‘সালাফী’-এর সংজ্ঞা বা পরিচিতি হলো- যে মাযহাব অমান্য করবে এবং মাযহাবের প্রতি যত বেশি কটূক্তি করতে পারবে সেই প্রকৃত সালাফী। নাউযুবিল্লাহ! তাদের আকীদা-বিশ্বাস যাই হোক না কেন! কাজেই ভারতবর্ষের নবজন্মা এই লা মাযহাবী সম্প্রদায় প্রকৃত সালাফী নয়। এই সালাফী সে যুগের সালাফী নয়। অতএব তারা নিজেদেরকে ‘সালাফী’ বলে দাবি করা সুস্পষ্ট প্রতারণা।
তাছাড়া প্রকৃতপক্ষের সালাফী হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে সলফে ছালেহীনের অনুসরণ করা। আর আমাদের দেশের নামধারী সালাফীরা আকীদা-বিশ্বাস ও আমল-আখলাক কোন ক্ষেত্রেই সলফে ছালেহীন তথা পূর্বসূরীদের অনুসরণ করে না। বাংলাদেশের তথাকথিত আহলে হাদীছ তথা লা-মাযহাবী মতবাদের মুখপাত্র, আসাদুল্লাহ গালিব কর্তৃক রচিত “আহলে হাদীছ আন্দোলন কি ও কেন” বইয়ের বিবরণে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে যায়। সে এই কিতাবের ৪ ও ১৩ নং পৃষ্ঠায় লিখেছে যে, “আহলে হাদীছ আন্দোলন পূর্ববর্তী কোন ব্যক্তিবর্গের আনুগত্যের নাম নয়; বরং একমাত্র পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের ইত্তিবা করার নাম। ”
কাজেই আমাদের দেশের এই দলটি নিজেদেরকে ‘সালাফী’ নামে প্রকাশ করা সম্পূর্ণ ধোঁকা ও মারাত্মক প্রতারণা।
অতএব একথা দৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হয় যে, চার মাযহাবের চার ইমামের সকলেই সালাফ তথা পূর্বসূরী অনুসৃত লোকদের অন্তর্ভুক্ত। কাজেই বর্তমানে যারা এই চার ইমামের মতাদর্শ ও মতামত বা মাযহাব মেনে চলছেন, তারাই ‘প্রকৃত সালাফী’ বলে দাবি করার অধিকার রাখেন। পক্ষান্তরে যারা পূর্বসূরীদের অনুসরণ করে না, অথবা তাদের সমালোচনা করে কিংবা তাদের অনুসরণ পরিহার করে পরবর্তী যুগের কোন ভ্রান্ত মনীষী বা স্কলারের অনুসরণ করে, তারা কোন ক্রমেই “প্রকৃত সালাফী” বলে দাবি করার অধিকার রাখে না; বরং তারা ‘জাল- সালাফী’। সাথে সাথে এটাও প্রমাণিত হলো যে, লা মাযহাবীরা আসলে বাতিল ফিরক্বা মুশাব্বিহা ফিরক্বার অংগ সংগঠন। অর্থাৎ এরাও বাতিল ৭২ ফিরক্বার অন্তর্ভুক্ত।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (৬)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
যেখানে প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ক্বদরের রাত্রিতে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম যমীনে নাযিল হয়ে তিন ব্যক্তির উপর খাছ রহমত বর্ষণের দুআ করেন-
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আসমাউর রিজাল, জারাহ ওয়াত তা’দীল, উছুলে হাদীছ শরীফ উনার অপব্যাখ্যা করে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে জাল বলছে ওহাবী সালাফীরা (১৩)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
দুনিয়ার তাছীর বা ক্রিয়া থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির সতর্ক থাকা আবশ্যক
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












