বাজেটের অর্ধেক ভর্তুকি শেষ তিন মাসেই
, ১৮ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০১ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) তাজা খবর
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই বিদ্যুৎ ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে ভর্তুকির চাপ সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। মাত্র তিন মাসে দুই খাতে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে, যা পুরো অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ৪২ হাজার কোটি টাকার প্রায় ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ বছরের এক-চতুর্থাংশ সময় না যেতেই ভর্তুকি বাজেটের প্রায় অর্ধেক ব্যয় হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হিসাবে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য, মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্ঘাত, এলএনজি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয়ের অনিশ্চয়তা এবং দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বছরের শেষ নাগাদ এ ব্যয় আরো অনেক বাড়তে পারে। বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সাথে এলএনজি খাতে ব্যয় ৪০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। সে ক্ষেত্রে দুই খাতেই সরকারের মোট ভর্তুকি ৯০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর আগস্ট মাসের বিদ্যুৎ ভর্তুকি বাবদ ৪ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা এবং সেপ্টেম্বর মাসের এলএনজি আমদানি ভর্তুকি বাবদ ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। একসাথে দুই খাতে ছাড় হয়েছে ৭ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা।
বাজেটের মাসিক গড় হিসাবের সাথে তুলনা করলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়। দুই খাতে মাসে গড়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব ধরে বরাদ্দ দেয়া হলেও এক দফাতেই ছাড় করা হয়েছে এর দ্বিগুণেরও বেশি- প্রায় ১২৭ শতাংশ।
এর আগে জুলাই মাসেই বিদ্যুৎ ভর্তুকি এবং জুলাই-আগস্টের এলএনজি ভর্তুকি বাবদ ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ছাড় করতে হয়েছিল। ফলে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই মোট ছাড় প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের জন্য এর তাৎপর্য হলো- বাজেটে নির্ধারিত অর্থের সাথে বাস্তব ব্যয়ের ব্যবধান দ্রুত বাড়ছে। এই ব্যবধান পূরণ করতে হলে পরবর্তী সময়ে সংশোধিত বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্দ দিতে হবে অথবা সরকারের অন্য খাতের ব্যয় সঙ্কোচন করতে হবে।
বিদ্যুতে ৩৬ হাজারের জায়গায় ৫০ হাজার!
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বিদ্যুৎ ভর্তুকির জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ মাসিক গড় ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে বাস্তব প্রয়োজন প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা করে।
এ হিসাবে বছরে প্রয়োজন দাঁড়ায় প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বর্তমান হিসাব অনুযায়ী ভর্তুকির পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়েছিল প্রায় ৪৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার ব্যয় আরো কয়েক হাজার কোটি টাকা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকি এলএনজিতে:
বিদ্যুৎ খাতের তুলনায় বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এলএনজি আমদানিতে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এলএনজি ভর্তুকির জন্য মাত্র প্রায় ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বরাদ্দ ইতোমধ্যেই অপ্রতুল হয়ে পড়েছে।
প্রথম আড়াই মাসেই এলএনজি খাতে প্রায় ১০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়ার প্রয়োজন হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাব। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, নির্ধারিত বরাদ্দের বাইরে এ খাতে ইতোমধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পুরো অর্থবছরে এলএনজি আমদানির মোট ব্যয় ৯০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একই সাথে বদলে গেছে একটি কার্গোর মূল্য। সঙ্ঘাতের আগে একটি এলএনজি কার্গো কিনতে যেখানে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা লাগত, সেখানে এখন ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ একটি কার্গোতেই ব্যয় বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ।
তেলের দাম বাড়িয়েও চাপ কমছে না:
গত ২১ সেপ্টেম্বর দেশে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ডিজেলের দাম ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা।
তেলের দাম বাড়ানোর মাধ্যমে সরকার বাজারমূল্যের সাথে অভ্যন্তরীণ দামের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু বিদ্যুৎ ও এলএনজির ক্ষেত্রে একই সাথে আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সামগ্রিক জ্বালানি ব্যয়ের চাপ পুরোপুরি কমছে না।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের উন্নয়ন ব্যয় বাবদ প্রস্তাব করা হয়েছে ১৪ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা। কিন্তু ভর্তুকির প্রয়োজন যদি বাজেটের তুলনায় কয়েক হাজার কোটি টাকা বাড়ে, তাহলে উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থের ওপরও পরোক্ষ চাপ তৈরি হতে পারে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
জ্বালানি খাতের সব কম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন পুনরায় নিরীক্ষা করবে বিইআরসি
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রি করা জেলাতেই সারের সংকট -মীর শাহে আলম
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দেশে হৃদরোগে ভুগছেন ১ কোটির বেশি মানুষ
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বিয়ের বয়স কমানোসহ আট দাবিতে মানববন্ধন
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধে সরকারকে আইনি নোটিশ
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
শুধুই ২৫ বোয়িং নয়, এবার ১০ এয়ারবাসও!
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে হবে -আইজিপি
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হাসিনাকে ফেরাতে গুপ্ত ও নিষিদ্ধদের ষড়যন্ত্র চলছে
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ইরানি বিমান আটক করল তুরস্ক
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম রুশ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৬
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












