প্রাণীর ছবি তোলা, আঁকা রাখা হারাম, যা লা’নতগ্রস্ত ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৩)
, ০৪ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৮ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ০১ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
আঙুলের ছাপ কোন বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য নয়, বরং চামড়ার আভ্যন্তরীণ স্তরের মৌলিক বৈশিষ্ট্য এবং মানুষের জেনেটিক কোডের উপর নির্ভরশীল:
ভোলার প্যাডের অবস্থার উপর ভিত্তি করে এরপর আঙ্গুলেরprimary ridges তৈরী হয়। এই প্রাইমারী রিজ তিন প্রকার-
Loop, Whorl, Arch.
চিত্র: মৌলিক তিন প্রকারের ফিঙ্গারপ্রিন্ট। ফিঙ্গারপ্রিন্টের রেখাগুলোকে বলা হয় ‘ফ্রিকশন রিজ’।
ভ্রুণের আঙ্গুলের ছাপের প্রকরণ কি হবে, তা নির্ভর করে ভোলার প্যাড কতটুকু মিশে গিয়েছে তার উপর। যদি ভোলার প্যাড পুরোপুরি দৃশ্যমান থাকা অবস্থায় আঙ্গুলের ছাপ তৈরী হওয়া শুরু হয়, সেক্ষেত্রে whorl প্যাটার্নের আঙ্গুলের ছাপ তৈরী হবে। যদি আঙ্গুলের ছাপ তৈরী হওয়ার সময় ভোলার প্যাড অনেকখানি মিশে যায়, সেক্ষেত্রে ভ্রুণের আঙ্গুলের ছাপের প্যাটার্ন হবেArch জাতীয়। যদি মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকে, সেক্ষেত্রে তৈরী হবে loop জাতীয় প্যাটার্ন। নিম্নে একটি চিত্রের দ্বারা বিষয়টি দেখানো হয়েছে।
চিত্র: ভ্রুণাবস্থায় ভোলার প্যাডের মিশে যাওয়ার উপর ভিত্তি করে আঙ্গুলের ছাপের প্রকরণ। যদি অনেকখানি অংশ মিশে যায় (Low pad) সেক্ষেত্রে আঙ্গুলের ছাপ হবে Arch গঠনের। যদি অনেকখানি অংশ দৃশ্যমান থাকে (High pad) সেক্ষেত্রে হবে whorl প্যাটার্নের ছাপ। যদি মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকে (Intermediate pad) সেক্ষেত্রে হবে loop জাতীয় প্যাটার্ন।
আবার ভোলার প্যাডের এই মিশে যাওয়ার ব্যাপারটি নির্ভর করে মানুষের জেনেটিক কোড বা বংশগতির উপর।
আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি যে, আইডেন্টিক্যাল টুইন বা ‘হুবহু জমজ’ সন্তানদের ডিএনএ প্যাটার্ন একই হলেও ফিঙ্গারপ্রিন্ট হয় ভিন্ন, যেহেতু তারা মাতৃ রেহেমের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করে। তবে ফিঙ্গারপ্রিন্টের গঠন হুবহু এক না হলেও তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্টের প্রকরণ এক হয়, যেহেতু তাদের ডিএনএ কোড তথা জেনেটিক গঠন হয় অভিন্ন। উদাহরণস্বরূপ, হুবহু জমজের কারো আঙ্গুলের ছাপ যদি loop হয়, সেক্ষেত্রে অপরজনেরও সাধারণত loop হয়ে থাকে।
প্রকরণ এক হয়ে থাকে, কিন্তু আঙ্গুলের ছাপ হুবহু এক হয় না। আবার আঙ্গুলের ছাপের উপর ভিত্তি করে লিঙ্গ নির্ধারণ করাটাও সম্ভবপর। কারণ কোনকিছু স্পর্শ করলে তার উপর আঙ্গুলের ছাপ বসে যায় মানুষের আঙ্গুলের ডগায় ঘামগ্রন্থি ও তেলগ্রন্থি থেকে বের হওয়া ঘাম ও তেলের কারণে। নারীর ঘামে এমাইনো এসিডের পরিমাণ পুরুষের দ্বিগুণ হয়। যে কারণে ফিঙ্গারপ্রিন্টের নমুনা থেকে সংগ্রহকৃত ঘাম বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করা সম্ভব যে, ফিঙ্গারপ্রিন্টটি পুরুষ না মহিলার।
অর্থাৎ আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে যে আঙ্গুলের ডগার উদাহরণ টানলেন, এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে অনেক কুদরতী রহস্য। ফিঙ্গারপ্রিন্ট মানুষের কোন বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য নয় যা চাইলেই পরিবর্তন করা যায়, বরং এটি মানুষের আভ্যন্তরীণ মৌলিক বৈশিষ্ট্য যা মানুষ মাতৃরেহেমে থাকা অবস্থাতেই লাভ করে এবং এই বৈশিষ্ট্য তার ডিএনএ কোডের সাথেও সম্পর্কিত। অর্থাৎ আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মাঝে আঙ্গুলের ডগার উদাহরণ দ্বারা বুঝিয়েছেন যে হাশরের ময়দানে মানুষকে এমনভাবে উত্থাপন করা হবে, হুবহু যেভাবে সে দুনিয়াতে ছিল।
দুনিয়াতে সে যেই আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে ছিল সেভাবেই হাশরের ময়দানে তার আঙ্গুলের ছাপ হবে, আবার আঙ্গুলের ছাপের সাথে যেহেতু বংশগতির বিষয়টিও সম্পর্কিত সেহেতু তার ডিএনএ কোডিংও তখন একইরকম হবে। আবার ফিঙ্গারপ্রিন্টের সাথে লিঙ্গও যেহেতু সম্পর্কিত, সেহেতু লিঙ্গও একইরকম হবে। পুরুষ পুরুষ হিসেবেই উত্থিত হবে আবার মহিলাও মহিলা হিসেবেই উত্থিত হবে। অর্থাৎ এক আঙ্গুলের ছাপ দিয়েই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কার্য মুবারক উনার ব্যাপকতাকে নির্দেশ করলেন।
তিনি ইরশাদ মুবারক করেননি যে হাশরের ময়দানে মানুষের হাত এক রকম হবে, পা একরকম হবে। তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন যে আঙ্গুলের ছাপ একরকম হবে, কারণ এই এক আঙ্গুলের ছাপেই মানুষের পুরো বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়ে যায়। একারণেই মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই এই পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মাঝে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন মুবারক রয়েছে।” (পবিত্র সূরা রূম শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ২২)
(ইনশাআল্লাহ চলবে)
-গোলাম মুর্শিদ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফিক্বাহ বা ফতওয়ার সকল কিতাবেই গান-বাজনা, বাদ্য-যন্ত্র ইত্যাদিকে হারাম ফতওয়া দেয়া হয়েছে
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৬তম পর্ব)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৮)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুসলমানদের জন্য সমস্ত খেলাধুলা হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৬)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শেখ চুল্লির দুনিয়াবী সম্পদ গড়ার অলীক কল্পনা এবং হাক্বীক্বত বাস্তবতা
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ব্যবসা করা হালাল ও সুন্নত আর সুদ হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (৭)
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












