দ্বীনি তা’লীম:
পুরুষ ও মহিলাদের নামাযে পদ্ধতিগত পার্থক্য (২)
, ২৫ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৫ ছানী আ’শার, ১৩৯২ শামসী সন , ২৪ মে, ২০২৫ খ্রি:, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহিলাদের পাতা
মহিলাদের আযান ও ইকামত নেই:
পুরুষরা আযান ও ইকামত দ্বারা নামায আদায় করবেন। আর মহিলাদেরকে আযান ও ইকামত ব্যতিতই নামায আদায় করতে হবে। কেননা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা আযান ও ইকামত ছাড়াই নামায আদায় করেছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে, হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
كُنَّا نُصَلِّي بِغَيْرِ إِقَامَةٍ
অর্থ: আমরা ইকামত ছাড়াই নামায আদায় করতাম। ’ (সুনানে বায়হাকী ২/১১৭)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন-
لَيْسَ عَلَى النِّسَاءِ أَذَانٌ وَّلَا إِقَامَةٌ
অর্থ: মহিলাদের জন্য আযান ও ইকামত নেই। (সুনানে বায়হাকী ১/৪০৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৭৬; ফতওয়ায়ে খানিয়া ১/৭৮; ফতহুল কাদীর ১/২১৯; ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/৫৩; ফতওয়ায়ে শামী)
দাঁড়ানো অবস্থায় পার্থক্য:
পুরুষেরা উভয় পায়ের মধ্যে কমপক্ষে চার আঙ্গুল পরিমাণ ফাঁকা রাখবে। আর মহিলারা উভয় পা সম্পূর্ণ মিলিয়ে দাঁড়াবে।
হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে নারীদের নামাযের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, নারীরা (নামাযের সকল রুকন আদায়ে) খুব জড়সড় হয়ে স্বীয় শরীরকে গুটিয়ে রাখবে। (মুছান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীছ শরীফ: ২৭৯৩)
তাকবীরে তাহরীমায় পার্থক্য:
পুরুষরা তাকবীরে তাহরীমার সময় উভয় হাত চাদর থেকে বের করবে। নারীরা চাদর বা ওড়নার ভেতর থেকে হাত বের করবে না।
হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার সূত্রে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘সাবালক নারীর ওড়নাবিহীন নামায মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে কবুল হবে না। ’ (সুনানে আবী দাউদ শরীফ, হাদীছ শরীফ: ৬৪১)
আবু কাতাদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সূত্রে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ওই নারীর নামায কবুল করেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার পূর্ণ শরীর ঢেকে নেয়। ’ (আল-মুজামুল আওসাত: হাদীছ শরীফ ৭৬০৬)
তাকবীরে তাহরীমায় হাত উঠানোর সীমা:
পুরুষরা তাকবীরে তাহরীমার সময় উভয় হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠাবে। আর নারীরা উঠাবে কাঁধ পর্যন্ত।
পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে-
عَنْ حَضْرَتْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ جِئْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ৃ. فَقَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:يَا وَائِلُ بْنُ حُجْرٍ، إِذَا صَلَّيْتَ فَاجْعَلْ يَدَيْكَ حِذَاءَ أُذُنَيْكَ، وَالْمَرْأَةُ تَجْعَلُ يَدَيْهَا حِذَاءَ ثَدْيَيْهَا.
অর্থ: হযরত ওয়াইল বিন হুজর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র দরবার শরীফে হাজির হলাম। তখন তিনি আমাকে এক পর্যায়ে বলেছিলেন যে, হে ওয়াইল বিন হুজর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! যখন আপনি নামায শুরু করবেন তখন কান বরাবর হাত উঠাবেন। আর মহিলারা হাত উঠাবে বুক বরাবর। (আল মু’জামুল কাবীর, হাদীছ শরীফ নং-২৮)
বিশিষ্ট তাবিয়ী হযরত শিহাব যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘নারীরা উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাবেন। ’ (মুছান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীছ শরীফ: ২৪৭২)
-আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালিম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হীলাহ্ বিবাহ এবং তার শরয়ী ফায়সালা (২)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র মুহররমুল হারাম মাসকে একমাত্র বিদয়াতী ধর্মব্যবসায়ীরাই নববর্ষ হিসেবে উদযাপন করতে বলে
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আসন্ন পবিত্র মুহররমুল হারাম মাস এবং পবিত্র আশূরা শরীফ উভয়ের প্রতি সম্মান করা ফরয
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
তওবা
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হযরত ফুরাই’আহ বিনতে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১৯)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












