পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
(রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ থেকে সংকলিত)
, ০৬ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২১ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২০ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ০৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মহিলাদের পাতা
(ধারাবাহিক)
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মুমিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন-
قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:
তিনি বলেন যে, “আমি মহান আল্লাহ্ পাক উনার মহাসম্মানিত রাসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে শুনেছি, মহান আল্লাহ্ পাক উনার রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন-
دَخَلْتُ الْجَنَّةَ، فَسَمِعْتُ قِرَاءَةً، فَقُلْتُ: مَنْ هَذَا؟ قِيلَ: حَارِثُ بْنُ النُّعْمَانِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ذَاكُمُ الْبِرُّ، وَكَانَ بَرًّا بِأُمِّهِ
আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি। প্রবেশ করে আমি কুরআন শরীফ তিলাওয়াত শুনলাম। আমি কুরআন শরীফ তিলাওয়াত শুনে জিজ্ঞাসা করলাম, কে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করছেন? বলা হলো, হারেছ ইবনে নু’মান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ক্বিরায়াত পাঠ করছেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, এটা হচ্ছে নেক সন্তান যারা, তাদের বদলা। হযরত হারেছ ইবনে নু’মান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মায়ের খুব খেদমতগার ছিলেন। তিনি উনার মায়ের যথেষ্ট খেদমত করেছেন।
সেটাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন যে, তিনি মায়ের খেদমতগার ছিলেন। উনার বদলা উনাকে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ হযরত হারেছ ইবনে নু’মান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বদর, উহুদ, খন্দক প্রত্যেক যুদ্ধেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ছিলেন। হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার যামানাতে তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি উনার মায়ের খেদমত এত মজবুত ও দৃঢ়তার সহিত করেছেন যেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। মহান আল্লাহ্ পাক তিনি অবশ্যই সমস্ত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে জান্নাতী করেছেন। তারপরেও উনার মাতৃ খেদমতের কারণে উনার কুরআন শরীফ তিলাওয়াত মহান আল্লাহ্ পাক তিনি জান্নাতে শুনিয়েছেন। অর্থাৎ উনাকে মহান আল্লাহ্ পাক তিনি জান্নাতীদের মধ্যে বিশেষ মর্যাদা মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
যেটা স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সুসংবাদ দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন। যেহেতু হযরত হারেছ ইবনে নু’মান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মায়ের সাথে সদ্ব্যবহার করেছেন, সে জন্যই মহান আল্লাহ্ পাক তিনি উনাকে এ ফযীলত দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! একমাত্র মায়ের সাথে সদ্ব্যবহার করার কারণে। সদাচরণ করার কারণে এই ফযীলত দেয়া হয়েছে।
কাজেই হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা প্রত্যেকেই উনাদের পিতা এবং মাতার সাথে সেই সদাচরণ বজায় রাখতেন। যেমন হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, যিনি বিশিষ্ট ছাহাবী যার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি যখন শাহাদাত বরণ করছিলেন তখন অন্যান্য ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম বলেছিলেন যে, হে হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম! আপনি এক কাজ করুন, আপনার পর খলীফা হিসেবে আপনি মনোনীত করুন আপনার ছেলে হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে।
তিনি বললেন, এটা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। মূলতঃ অনেক ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাই এ প্রস্তাব পেশ করেছিলেন অর্থাৎ উনার ছেলেকে খলীফা করার জন্য। তাহলে বুঝা যায়, উনার কতটুকু যোগ্যতা ছিল।
সেই হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু প্রসঙ্গে বর্ণনা রয়েছে, তিনি একদিন সফরে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ এক রাস্তা দিয়ে এক স্থানে গেলেন। যাওয়ার পর একটা গ্রাম্য লোক আসলো। সে এসে উনার বাহনে অর্থাৎ যে বাহন বা গাধায় চড়ে তিনি যাচ্ছিলেন সে গাধার সামনে দাঁড়িয়ে গেল। সে ব্যক্তি দাঁড়িয়ে উনার সাথে আরো অন্যান্য সঙ্গী-সাথী যারা ছিলেন উনাদের সামনে বলতে লাগলো, আপনি কি হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু?
তিনি বললেন হ্যাঁ, আমি আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। আপনি হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ছেলে? তিনি বললেন হ্যাঁ, আমি উনার ছেলে।
উনাকে দেখে সে লোক খুব খুশী হলো, খুব খুশী প্রকাশ করলো। হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালাআনহু উনার সাথে তার যে আন্তরিকতা তা প্রকাশ করলো। তখন হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সে ব্যক্তিকে নিজের মাথা থেকে পাগড়ী খুলে তাকে পরিয়ে দিলেন এবং গাধার মধ্যে তাকে নিয়ে খুব সম্মানের সাথে তার গন্তব্যস্থলে পৌঁছিয়ে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহিলাদের জন্য হাত, পা ও চেহারা আবৃত করে ঘর থেকে বের হওয়া ফরজ। খোলা রেখে বের হওয়া হারাম, জায়েয বলা কুফরী (৫)
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ফায়সালা মুবারক তথা উনার সুন্নত মুবারক পালন করা ব্যতীত ঈমানদার হওয়া সম্ভব নয়
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনাকে অনুসরণ করার আদব
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পশু-পাখিদের মহব্বত ও সম্মান প্রদর্শনের কিছু নমুনা (৪)
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হযরত ক্বায়লা বিনতে মাখরামা আত তামীমিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির সমস্ত কামিয়াবীর সোপান (৩য় পর্ব)
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়া হারাম ও কুফরী (৬)
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












