পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
(রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ থেকে সংকলিত)
, ২৯ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৪ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৩ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মহিলাদের পাতা
(ধারাবাহিক)
আর পিতা-মাতা যদি ঈমানদার না হয় সেক্ষেত্রে তাদের সহিত কিরূপ ব্যবহার বা আচরণ করতে হবে তা হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে। যেটা হযরত আসমা বিনতে আবি বকর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেছেন।
قدمت على امى وهى مشركة على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستفتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم قدمت على امى وهى راغبة افاصل امى قال نعم صلى امك
হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, আমার মা তখন ঈমান আনেননি। তিনি মুশরিকা ছিলেন। একদিন তিনি আসলেন আমার সাথে সাক্ষাত করার জন্য। আমার মাসয়ালা জানা ছিলো না। আমি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার মাতা এসেছেন আমার কাছে, তিনি মুসলমান নন। তিনি এখনও ঈমান আনেননি, মুশরিকা রয়েছেন। আমি কি তার সহিত সদাচরণ করবো?
মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন যে, হ্যাঁ, অবশ্যই আপনি আপনার মায়ের সাথে সদাচরণ করবেন। হোক সে মুশরিকা; কিন্তু সে আপনার মা। মাতৃত্বের যে হক্ব সেটা তো রয়েছে। কাজেই আপনি আপনার মায়ের হক্ব আদায় করুন।
মূলতঃ পিতা-মাতার হক যা রয়েছে তা যথাযথ আদায় করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে বলা হয় যে, হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ঈমান এনেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার শরীফে আসা-যাওয়া করেন সত্য; কিন্তু উনার মাতা তখনও ঈমান আনেননি। তিনি বারবার উনার মাকে বুঝাতেন যে, আপনি কুফরী-শিরকী ছেড়ে দিয়ে ঈমানদার হয়ে যান, মুসলমান হয়ে যান। অনেক বুঝাতেন।
একদিন উনার মা গোস্বা করে এমন এমন কিছু কথা বললেন, যে কথাগুলো স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনা শান মুবারকের খেলাফ। কথাগুলি এমন শক্ত ছিলো যা উনার পক্ষে বরদাশ্ত করা সম্ভব হলো না।
তিনি কাঁদতে কাঁদতে চলে আসলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট। এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আজকে আমার মা এমন কিছু কথা বলেছেন, যেটা আমার পক্ষে বরদাশ্ত করা সম্ভব হয়নি। যার জন্য আমি কাঁদতে কাঁদতে এসেছি। আপনি দয়া করে আমার মায়ের জন্য দোয়া করুন, যাতে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে ঈমান দিয়ে দেন।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দোয়া করলেন, আয় আল্লাহ পাক! আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাতাকে ঈমান দান করুন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত আবু হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি খুশিতে বাড়ীর দিকে রওয়ানা হলেন, যেহেতু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দোয়া মুবারক করেছেন, তাই উনার মাতাকে অবশ্যই ঈমানদার হতেই হবে। তিনি বাড়ীতে এসে দরজা বন্ধ দেখলেন। তিনি বললেন, ভিতরে পানির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিলো। মনে হচ্ছে, উনার মাতা গোসল করতেছেন।
উনি বললেন, আবু হুরায়রা! তুমি অপেক্ষা করো। উনি গোসল করে আসলেন, এসে বললেন যে, হে আবু হুরায়রা! তোমাকে অনেক শক্ত কথা আমি বলেছি, তুমি সাক্ষী থাকো, আমি এখন মুসলমান হয়ে গেলাম। সুবহানাল্লাহ!
উনি কালেমা শরীফ পাঠ করলেন, মুসলমান হয়ে গেলেন।
এটা দেখে হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু খুশিতে কাঁদতে কাঁদতে আবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট উপস্থিত হলেন। উপস্থিত হয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি পুনরায় আপনার দোয়া প্রার্থী যে, আপনি দোয়া করুন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমার মাকে এবং আমাকে যেন সমস্ত মুসলমানদের কাছে প্রিয় করে দেন এবং সমস্ত মু’মিন মুসলমানদেরকে যেন আমার কাছে এবং আমার মায়ের কাছে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রিয় করে দেন।
হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তিনি দোয়া করলেন যে, আয় মহান আল্লাহ পাক! আপনি আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে এবং উনার মাতাকে সমস্ত মুসলমানদের জন্য প্রিয় করে দিন এবং হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং উনার মাতার কাছে সমস্ত মুসলমান ও মু’মিনদেরকে প্রিয় করে দিন। উনার দোয়া মুবারক শুনে আমি চলে আসলাম।
মূলতঃ মাতার যে হক্ব ছিলো তিনি তা পুরোপুরি আদায় করেছেন। কিতাবে উল্লেখ করা হয় যে, পরবর্তীতে তিনি এবং উনার মাতা দু’ঘরে অবস্থান করতেন এবং তিনি যখনই ঘর থেকে বের হতেন তখনই উনার মায়ের কাছে গিয়ে সালাম দিতেন। সালাম দিয়ে বলতেন যে, আল্লাহ পাক! আমার মাতা যিনি আমাকে ছোট বেলায় লালন-পালন করেছেন, তাকলীফ, কষ্ট স্বীকার করেছেন, আমার প্রতি ইহসান করেছেন, আপনি আমার মাতার প্রতি ইহসান করুন।
ঠিক উনার মাতাও তদ্রুপ বলতেন যে, আল্লাহ পাক! আমার এ সন্তান আমার প্রতি এই সময় ইহসান করেছে, আপনি তার বদলা তাকে দান করুন। উল্লেখ্য, তিনি যতবার বের হতেন এবং আসতেন ততবার তদ্রুপ করতেন বা বলতেন।
মাতার হক্ব বা পিতার হক্ব যা রয়েছে সেটা প্রত্যেক সন্তানের জন্য অবশ্য কর্তব্য রয়েছে যথাযথ আদায় করা। পিতা-মাতার হক্ব যে যতটুকু আদায় করবে সে ঠিক ততটুকু জাযা-খায়ের এবং বদলা পাবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে মেহমানদারী করার মাধ্যমে সম্মানিত শাফায়াত মুবারক লাভ
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২৮)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাই হচ্ছেন উম্মতের হাক্বীক্বী শিক্ষাদানকারিনী
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার ইন্তিজামকারী বিনা হিসাবে সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করবেন
০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
তালাক দেয়ার অধিকারী কে? চেয়ারম্যান, মেম্বার নাকি আহাল বা স্বামী? (২)
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইখলাছ অর্জন করা ফরজ; ইখলাছ ছাড়া ইবাদত-বন্দেগী কবুল হয় না
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের- সন্তুষ্টি-রেযামন্দি লাভের জন্য সন্তান প্রতিপালন করা সুন্নত (৬)
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
একখানা মহাসম্মানিত সুন্নাত মুবারক আমল করলে, মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে ৪টি নিয়ামত মুবারক
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












