পবিত্র ‘ছলাতুল জুমুয়াহ’ উনার পূর্বে ৪ রাকায়াত সুন্নত নামায অর্থাৎ পবিত্র ‘ক্বাবলাল জুমুয়াহ’ নামায নিয়ে বাতিলপন্থিদের বিভ্রান্ত্রিকর ও মিথ্যা বক্তব্যের দলীলভিত্তিক জাওয়াব (৫)
, ০৮ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০১ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১৫ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
যেটা ছহীহ সনদেই বর্ণিত রয়েছে-
وَرُوِىَ عَنْ حضرت عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّى قَبْلَ الْجُمُعَةِ أَرْبَعًا وَبَعْدَهَا أَرْبَعًا
অর্থ: “হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি পবিত্র জুমুয়ার নামাযের পূর্বে এবং পরে চার রাকায়াত নামায পড়তেন।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, মুছান্নাফে আব্দির রায্যাক ৩/২৪৭; মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ্ ১/৪৬৩ এবং ২/১৩১, শরহুস সুন্নাহ ৩/৪৫০, উমদাতুল ক্বারী ১১/৪০৯, তুহফাতুল আহওয়াজী ২/৬২, শরহু আবী দাঊদ লিল আইনী ৪/৪৭১, আওনুল মা’বূদ ৩/৪৭৭, মুখতাছারুল আহকাম ৩/৪৩ ইত্যাদি)
আরো বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ إِبْرَاهِيمَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَنَّ حَضْرَتْ عَبْدَ اللهِ بْنَ مَسْعُودٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ كَانَ يُصَلِّى قَبْلَ الْجُمُعَةِ اَرْبَعًا وَبَعْدَهَا اَرْبَعًا لَا يَفْصِلُ بَيْنَهُنَّ بِتَسْلِيْمٍ
অর্থ: “হযরত ইবরাহীম নাখ‘য়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন,) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পবিত্র জুমুয়ার নামাযের পূর্বে এবং পরে চার রাকায়াত নামায পড়তেন। মাঝে পৃথক হতেন না অর্থাৎ এক সালামে চার রাকায়াত পড়তেন।” (শরহু মা‘য়ানিইল আছার ১/৩৩৫)
শুধু এতটুকুই নয়; হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি অন্যদেরকেও চার রাকা‘য়াত ‘ক্বাবলাল জুমুয়া’ নামায পড়ার জন্য আদেশ মুবারক করতেন।
যেমন বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ كَانَ حَضْرَتْ ابْنُ مَسْعُودٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ يَأْمُرُنَا أَنْ نُصَلِّيَ قَبْلَ الْجُمُعَةِ أَرْبَعًا وَبَعْدَهَا أَرْبَعًا
অর্থ: “বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত আবূ আব্দুর রহমান আস সুলামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ফক্বীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আমাদেরকে পবিত্র জুমুয়ার নামাযের পূর্বে চার রাকায়াত এবং পরে চার রাকায়াত নামায পড়ার নির্দেশ দিতেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুছান্নাফে আব্দির রায্যাক ৩/২৪৭, আল মু’জামুল কাবীর লিত্ব তবারানী ৮/২৫১)
এই পবিত্র হাদীছ শরীফ সম্পর্কে হাফিয ইবনে হাজার আসকালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,وَرُوَاته ثِقَات অর্থাৎ এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনাকারীগণ হলেন বিশ্বস্ত এবং গ্রহণযোগ্য। (আদ দিরায়াহ: ১/২১৮)
বর্তমান সালাফী, লা-মাযহাবীদের গুরু, তারা যাকে শায়েখ হিসেবে মান্য করে। যদিও তারা তাকলীদে বিশ্বাসী নয়। কিন্তু নিজেরা ঠিকই করে। সেই নাছীরুদ্দীন আলবানী সেও এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে ছহীহ বলেছে। তার ভাষায়-
ﻭَﻫٰﺬَﺍ ﺳَﻨَﺪٌ ﺻَﺤِﻴْﺢٌ ﻻَ ﻋِﻠَّﺔَ ﻓِﻴْﻪِ
অর্থ: “এটা ছহীহ সনদ, এতে কোন সমস্যা নেই।” (সিলসিলাতু আহাদীছিদ্ব দ্ব‘য়ীফাহ ৩/৮৩ ১০১৬নং হাদীছ শরীফের আলোচনা)
কাজেই ছহীহ সনদের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো ফক্বীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নিজে ৪ রাকায়াত ‘ক্বাবলাল জুমুয়াহ’ নামায পড়তেন এবং অন্যদেরকেও ৪ রাকায়াত পড়ার জন্য আদেশ মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ!
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আমল মুবারক:
বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে যে, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার ইত্তিবা মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ! পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাঝেই তার বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন- পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ مُـجَاهِدٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ كُنَّا مَعَ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُمَا فِـىْ سَفَرٍ فَمَرَّ بِـمَكَانٍ فَحَادَ عَنْهُ فَسُـئِلَ لِـمَ فَعَلْتَ فَقَالَ رَاَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَ هٰذَا فَفَعَلْتُ
অর্থ: “হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার কোন এক সফরে আমরা হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে ছিলাম। তিনি এক জায়গা দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় তিনি একটু সরে গিয়ে উনার রাস্তা পরিবর্তন করলেন অর্থাৎ তিনি ডান দিক বা বাম দিক দিয়ে গেলেন। তখন উনাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কেন এমনটি করলেন? তিনি বললেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এরূপ করতে দেখেছি, তাই আমিও উনার মুবারক অনুসরণে এরূপ করলাম।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ, বাযযার, আত তারগীব ওয়াত তাহরীব, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৪৬)
অর্থাৎ তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সূক্ষ্মাতি-সূক্ষ্ম অনুসরণ, অনুকরণ মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ!
আর উনার আমল মুবারকও হচ্ছেন, তিনি পবিত্র জুমুয়ার নামাযের পূর্বে ৪ রাকায়াত ‘ক্বাবলাল জুমুয়াহ’ নামায পড়তেন। সুবহানাল্লাহ! (চলবে... ইনশাআল্লাহ!)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












