সুন্নত মুবারক তা’লীম
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
, ২৪ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৬ আশির, ১৩৯২ শামসী সন , ২৫ মার্চ, ২০২৫ খ্রি:, ১০ চৈত্র, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
সকলকেই এই মহামান্বিত ‘লাইলাতুল ক্বদর’ উনার পরিপূর্ণ নি’য়ামত, রহমত-বরকত অর্জন করতে হবে। এই বরকতময় রাত্রিতে অবহেলা-অলসতা আর খোশগল্পে কাটানো কোনোক্রমেই নেককারদের কাজ হবে না।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও ইখলাছের সাথে অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের জন্য পবিত্র লাইলাতুল ক্বদরে জাগ্রত থেকে ইবাদত করবে, সে ব্যক্তির পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে”। (বুখারী শরীফ)
এই বরকতময় রাত্রিতে বেশি বেশি তওবা-ইস্তিগফার, নামায-কালাম, তাছবীহ্-তাহলীল, যিকির-আযকার, পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ, ও দান-ছদকা, পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ, দু‘আ-মুনাজাত ইত্যাদি নেককাজের মধ্যে মশগুল থাকতে হবে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর উনার রাত্রিতে জাগ্রত থাকাকে পবিত্র সুন্নত মুবারক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার থেকে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে, পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর হচ্ছে নিজের জিন্দেগীর সমস্ত গুণাহখতা ক্ষমা করার রাত্রি।
পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর উনার মহাসম্মানিত সুন্নতী আমলসমূহ
পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর উনার পবিত্র সুন্নত-নফল অনেক আমল রয়েছে। তবে বিশেষভাবে কয়েকটি আমল করা উচিত। তা হলো:
১. পবিত্র ছলাতুল ইশা ও ছলাতুত তারাবীহ্ নামায যথা নিয়মে আদায় করার পর, পবিত্র শবে ক্বদর বা লাইলাতুল ক্বদর উনার নিয়তে ৪/৬/৮/১২ রাকায়াত নামায আদায় করা।
পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর উনার নামাযের নিয়ত
نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلٰوةِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالٰى مُتَوَجِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اَللهُ اَكْبَرُ.
বাংলায় নিয়তঃ আমি ক্বিবলামুখী হয়ে দু’রাকায়াত লাইলাতুল ক্বদর সুন্নত নামায আদায় করছি। আল্লাহু আকবার।
২. পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করা।
৩. পবিত্র ছলাতুত তাছবীহ উনার নামায আদায় করা।
৪. পবিত্র যিকির-আযকার করা।
৫. পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা।
৬. পবিত্র তাহাজ্জুদ উনার নামায আদায় করা।
৭. বেশি বেশি তওবা ইস্তিগফার এবং মুনাজাত করা, মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট রোনাজারি-কান্নাকাটি করা।
৮. পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করে ছওয়াব রেসানী করতঃ দু‘আ-মুনাজাত করা।
৯. বেশি বেশি দান-ছদক্বা করা।
১০. সারা রাত সজাগ থেকে মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীবে ইবাদত-বন্দেগী করা।
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলার দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে, পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশ দিনের প্রতি বিজোড় রাত্রিতে জাগ্রত থেকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর বা পবিত্র শবে ক্বদর তালাশ করা। রাত্রিতে জাগ্রত থেকে বেশি বেশি তওবা ইস্তিগফার করা, ইবাদত-বন্দেগীতে কাটানো এবং সকল মুসলমানের জন্য দু‘আ করা। যার মনে যতো আরজি রয়েছে তা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পেশ করা।
কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট চায় না বা দু‘আ করেনা মহান আল্লাহ পাক তিনি তার উপর অসন্তুষ্ট হন। ”
কাজেই সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে উক্ত রাত্রিতে সজাগ থেকে পবিত্র সুন্নতী তারতীবে অতিবাহিত করা। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে সেই তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (১)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাত ও পায়ের নখ কাটার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (৪)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (৩)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (২)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সকল রোগের শেফা, মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কালোজিরা (২)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সকল রোগের শেফা, মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কালোজিরা (১)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
স্বভাবজাত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












