পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে গরুর গোস্ত শি‘আরুল ইসলাম (২২)
, ১৬ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৫ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
প্রথম সনদ:
(পূর্বে প্রকাশিতের পর)
এছাড়াও হযরত ইমাম শামসুদ্দীন সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘আজওইবাতুল মারদিয়াহ’ কিতাবের ১ম খ-ের ২৩ পৃষ্ঠায় আলোচ্য হাদীছ সম্পর্কে বলেছেন যে, “সাইফ বিন মিসকীন আছে, এবং মাসঊদী আছে, মুসতাদরাকের এ সনদ দূর্বল। ” তিনি লিখেন-
قلت: بل سنده ضعيف، والمسعودي اختلط والحديث منقطع
অর্থ: “বরং সনদ দূর্বল। (রাবী) মাসঊদী হাদীছ বর্ণনায় তালগোল পাকিয়ে ফেলত। তার উপর এই হাদীছটি হলো মুনক্বাতি’। ” (আজওইবাতুল মারদিয়াহ: ১/২৩)
এখানে বুঝার জন্য কয়েকটি বিষয়-ই যথেষ্ট, প্রথমত: রাবী দূর্বল, এবং তার সম্পর্কে জাল, বানোয়াট বর্ণনা, বয়ান করার অভিযোগ আছে। দ্বিতীয়ত: আরেক রাবী ইখতিলাত বা তালগোল পাকিয়ে ফেলার দোষে অভিযুক্ত। তৃতীয়ত: উক্ত হাদীছটির বর্ণনা মুনকাতি।
এতো দলীল থাকার পরেও ‘গরুর গোস্তে রোগ আছে’ বলা বর্ণনাটা হাদীছ নয় বরং জাল-বানোয়াট ও মিথ্যা একটি বর্ণনা। যা সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারকে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ!
দ্বিতীয় সনদ:
حَدَّثَنَا حَضْرَت ابْنُ نُفَيْلٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ، حَدَّثَنَا حَضْرَت زُهَيْرٌ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ، حَدَّثَتْنِي امْرَأَةٌ، مِنْ أَهْلِي عَنْ حَضْرَت مُلَيْكَةَ بِنْتِ عَمْرٍو رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْها، أَنَّهَا وُصِفَتْ لَهَا سَمْنُ بَقَرٍ مِنْ وَجَعٍ كَانَ بِحَلْقِهَا وَقَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلْبَانُهَا شِفَاءٌ، وَسَمْنُهَا دَوَاءٌ، وَلَحْمُهَا دَاءٌ
অর্থ: “হযরত ইবনু নুফাইল রহমতুল্লাহি আলাইহি আমাদের বললেন, তিনি বলেন, হযরত জুহাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি আমাদের বললেন, আমার পরিবারের এক নারী হযরত মুলাইকাহ্ বিনতে আমর রহমতুল্লাহি আলাইহা থেকে বর্ণনা করেন একখানা হাদীছ। তাঁর গলায় ব্যথা ছিল এবং তাঁর জন্য গরুর দুধের মাখন/ঘি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তিনি বললেন: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, ‘গরুর দুধে রয়েছে শেফা, এর ঘি/মাখন ওষুধ। আর এর গোস্তে আছে রোগ’। ” (মারাসীলে আবু দাউদ, ৩১৬ নং পৃষ্ঠা)
হযরত মুলাইকা বিনতে আমর রহমতুল্লাহি আলাইহা উনার ব্যাপারে ইখতিলাফ আছে যে, তিনি ছাহাবীয়াহ্ না তাবিয়াহ্।
আর যেহেতু ইমাম আবু দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার মারাসীলে উপরোক্ত হাদীছটা আনেন, এই সনদে, অতএব এই বর্ণনাটি মুরসাল হাদীছ।
উল্লেখ্য, জমহুর মুহাদ্দিছীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম এবং অধিকাংশ ফকীহ ও উছূলবিদ উনাদের নিকট মুরসাল হাদীছ; জঈফ ও বর্জনীয়। (দলীল: মানহাজুন নাকদ ফি উলুমিল হাদীছ ১/৩৭১ পৃষ্ঠা)
তার উপরে হযরত জুহাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি যার থেকে বর্ণনা করেছেন, পরিবারের ঐ মহিলার বিষয়ে তেমন কিছু জানা যায় না, তার পরিচয় তার অবস্থা কিছুই না। এটা একটা সন্দেহ তৈরি করে সনদ সম্পর্কে। এটাকে কারণ দেখিয়ে হযরত ইমাম সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তাকে জঈফ বলেছেন। তার উপর ‘গরুর গোস্তে রোগ আছে’ এই বর্ণনাটি পুরোপরি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ ও মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের বিরোধী হওয়ায় তা বর্জনীয়।
আলোচ্য বর্ণনাটিতে অনুপস্থিত মহিলা রাবীর ব্যাপারে হযরত ইমাম শামসুদ্দীন সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘আজওইবাতুল মারদিয়াহ’ কিতাবের ১ম খ-ের ২২ নং পৃষ্ঠায় এই হাদীছ সম্পর্কে বলেন-
قلت: وليس في سنده من ينظر في حاله، إلا المرأة التي لم تسم، فيضعف الحديث بسببها، لا سيما وقد صح أن النبي صلى الله عليه وسلم ضحى عن نسائه صلى الله عليه وسلم بالبقر وهو لا يتقرب بالداء، ثم إن لعل حَضْرَتْ إِمَام أبا داود رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ لم يثبت عنده صحبة حَضْرَت ملكية رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْها، حيث ذكر حديثها في المراسيل،
অর্থ: “শুধুমাত্র সেই মহিলা ছাড়া, এর সনদে এমন কেউ নেই, যার অবস্থা জানা যায় না, যার নাম উল্লেখ করা হয়নি। তার নাম-পরিচয় সম্পর্কে কিছুই না জানার কারণে হাদীছটি দুর্বল হয়ে পড়ে। যেহেতু এটি ছহীহ অর্থাৎ প্রমাণিত যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী করেছিলেন। (অতএব এটা নিশ্চিত যে) তিনি রোগ আছে এমন কিছুর মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার তায়াল্লুক অর্থাৎ নিসবত করেন নি। অর্থাৎ গরুর গোস্তে রোগ নেই। আর হযরত ইমাম আবু দাউদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে হযরত মুলাইকাহ্ বিনতে আমর রহমতুল্লাহি আলাইহা উনার ছোহবত মুবারক প্রমাণিত না। (অর্থাৎ তিনি ছাহাবীয়া না) তাই তিনি এই হাদীছটিকে উনার মারাসীল-এ উল্লেখ করেছেন। ” (আজওইবাতুল মারদিয়াহ: ১/২২)
-মুস্তাজিবুর রহমান ওয়াক্বি।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












