পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- তাওবাতুন নাছূহা (৩)
, ০৪ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৬ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১০ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
মহান আল্লাহ পাক তিনিই বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত থেকে কেউ যাতে নিরাশ না হয়। বান্দা যতই ভুল করুক যদি সে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমা চায় মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে অবশ্যই ক্ষমা করবেন। এজন্যই কবি উনার কবিতায় বলেন-
بازآ بازآ هر آں چه هستی باز آ
گر کافر وگر و بت پرستی باز آ
ایں درگاه ما درگاه نو امیدی نیست
صدبار گر توبه شکستی باز آ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে ফিরে আসো তুমি ফিরে আসো, যে কেউ তুমি হওনা কেন ফিরে আসো।
তুমি কাফির হও, মজুসী হও, মূর্তিপূজক হও তবুও তুমি ফিরে আসো,
যিনি খ্বালিক্ব, যিনি মালিক, যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার যে দরবার শরীফ এখান থেকে কেউ নিরাশ হয়ে ফিরে যায় না। সুবহানাল্লাহ!
শতবার লক্ষবার কোটিবারও যদি তুমি তওবা ভঙ্গ করে থাকো তারপরেও তুমি ফিরে আসো।” সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, মানুষের নিকট ক্ষমা চাইলে মানুষ ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট তওবা করলে তিনি কাউকেই ফিরিয়ে দেন না। শুধু তাই নয়, বান্দা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট তওবা করলে তিনি তাকে মুহব্বত করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! এ প্রসঙ্গে স্বয়ং খ্বালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই ইরশাদ মুবারক করেছেন-
إِنَّ اللهَ يُحِبُّ التَّـوَّابِيْنَ
অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি তওবাকারীকে অত্যন্ত মুহব্বত করেন।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: ২২২)
বান্দা তওবা করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি যে শুধু মুহব্বত করেন এমনটা নয় মুহব্বত করার পাশাপাশি অত্যন্ত খুশিও হন। সুবহানাল্লাহ! আর এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত হারিছ ইবনে সুহাইদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
عَنِ حَضْرَتْ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ حَدَّثَـنَا حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ حَدِيْـثَـيْنِ: أحدُهما عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْآخِرُ عَنْ نَـفْسِهِ قَالَ: إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَأَنَّهُ قَاعِدٌ تَحْتَ جَبَلٍ يَخَافُ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِ وَإِنَّ الْفَاجِرَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَذُبَابٍ مَرَّ عَلَى أَنْفِهِ فَـقَالَ بِهِ هَكَذَا أَيْ بِيَدِهِ فَذَبَّهُ عَنْهُ ثُمَّ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسلم يَـقُول: للهُ أَفْـرَحُ بِتَـوْبَةِ عَبْدِهِ الْمُؤْمِنِ مِنْ رَجُلٍ نَـزَلَ فِي أَرْضٍ دَوِيَّةٍ مَهْلَكَةٍ مَعَهُ رَاحِلَتُهُ عَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابُهُ فَـوَضَعَ رَأْسَهُ فَـنَامَ نَوْمَةً فَاسْتَـيْـقَظَ وَقَدْ ذَهَبَتْ رَاحِلَتُهُ فَطَلَبَهَا حَتَّى إِذَا اشْتَدَّ عَلَيْهِ الْحَرُّ وَالْعَطَشُ أَوْ مَا شَاءَ اللَّهُ قَالَ: أَرْجِعُ إِلَى مَكَانِي الَّذِي كُنْتُ فِيهِ فَأَنَامُ حَتَّى أَمُوتَ فَـوَضَعَ رَأْسَهُ عَلَى سَاعِدِهِ لِيَمُوتَ فَاسْتَـيْـقَظَ فَإِذَا رَاحِلَتُهُ عِنْدَهُ عَلَيْهَا زَادُهُ وَشَرَابُهُ فَاللهُ أَشَدُّ فَـرَحًا بِتَـوْبَةِ الْعَبْدِ الْمُؤْمِنِ مِنْ هَذَا بِرَاحِلَتِهِ وَزَادِهِ
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আমাদেরকে দু’টি কথা বলেছেন। একটি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে, আরেকটি উনার নিজের পক্ষ থেকে। তিনি উনার নিজের পক্ষ থেকে বললেন, মু’মিন ব্যক্তি তার গুনাহকে এমনভাবে দেখে যে, একজন ব্যক্তি পাহাড়ের নিচে বসা আর সে আশঙ্কা করছে পাহাড় ভেঙ্গে তার উপর পড়বে। আর যারা বদকার তারা গুনাহকে এমনভাবে দেখে যে, তার নাকের উপর একটা মাছি বসলো এবং সে তা হাত দিয়ে তাড়িয়ে দিলো। অতঃপর তিনি বলেন, আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, মহান আল্লাহ পাক তিনি মু’মিন বান্দার তওবা করাতে এত অধিক খুশি হন, যেমন কোন এক ব্যক্তি এক ধ্বংসকারী মরুভূমিতে পৌঁছলো আর তার সাথে রয়েছে বাহন তার উপর খাদ্য এবং পানীয়। সে বাহনটাকে পাশে রেখে জমিনে মাথা রেখে ঘুমিয়ে গেলো। আর যখন সে জাগ্রত হলো, সে দেখলো তার বাহন তার কাছ থেকে চলে গিয়েছে, সে তা তালাশ করলো এমনকি তার উপর তাপ ও পিপাসা অধিক হতে লাগলো। তখন সে ভাবলো আমি যেখানে ছিলাম সেখানেই ফিরে যাই, কেননা নির্ঘাত আমার মৃত্যু হবে। সে তার বাহুর উপর মাথা রাখলো যেন সে মারা যায়। হঠাৎ সে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে দেখলো তার নিকটেই বাহন। এবং তার উপরে খাদ্য-পানীয় সবই রয়েছে। তখন কেমন খুশি লাগবে? মহান আল্লাহ পাক তিনি (বান্দার তওবাতে) এর চেয়েও বেশী খুশি হন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ ৮/৬৮, মুসলিম শরীফ, শুয়াবুল ঈমান ৩/৩১৩, ফতহুল বারী ১১/১০৫, হিলয়াতুল আউলিয়া ৪/১২৯, মিশকাত শরীফ ২/৩১) (অসমাপ্ত)
-মুহম্মদ মুস্তাজীবুর রহমান ওয়াক্বী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সত্যের মাপকাঠি
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৩)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৪)
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আল্লাহওয়ালা হতে হলে প্রতিটি ক্ষেত্রে আদব রক্ষা করা আবশ্যক
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একমাত্র খালিছভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার জন্যই ইবাদত করতে হবে
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত মাওলানা শাহ ছুফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৬ষ্ঠ পর্ব)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (৯)
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বেপর্দা হওয়া শয়তানের ওয়াসওয়াসাকে সহজ করার মাধ্যম
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৮)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












