নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাযির-নাযির শান মুবারক (২য় পর্ব)
, ০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মহিলাদের পাতা
হাযির-নাযির সংক্রান্ত বিষয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের ব্যাখ্যায় হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা উনাদের কিতাব সমূহে এ বিষয়ে বিভিন্ন বর্ণনা মুবারক উল্লেখ করেছেন। যেমন, হযরত আলী নূরুদ্দীন ইবনে বুরহানুদ্দীন হালাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
قُـلْتُ وَاَمَّا كَلَامُنَا وَالَّذِىْ نَـقُوْلُهٗ اِنْ شَاءَ اللهُ تَـعَالـٰى اِنَّ الْاَمْرَ كَمَا قَالَهُ الْـجَلَالُ السُّيُـوْطِـىُّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَـيْهِ وَاَخَصُّ مِنْ ذٰلِكَ اَنَّ الَّذِىْ اَرَاهُ اَنَّ جَسَدَهُ الشَّرِيْفَ لَا يـَخْلُوْ مِنْهُ زَمَانٌ وَّلَا مَكَانٌ وَّلَا مَـحَلٌّ وَّلَا اِمْكَانٌ وَّلَا عَرْشٌ وَّلَا لَوْحٌ وَّلَا كُرْسِـىٌّ وَّلَا قَـلَمٌ وَّلَا بَـحْرٌ وَّلَا بَــرٌّ وَّلَا سَهْلٌ وَّلَا وَعْـرٌ وَّلَا بَــرْزَخٌ وَّلَا قَــبْـرٌ كَمَا اَشَرْنَا اِلَـيْهِ اَيْضًا. وَاَنَّهُ امْتَلَاَ الْكَوْنُ الْاَعْلـٰى بِهٖ كَاِمْتِلَاءِ الْكَوْنِ الْاَسْفَلِ بِهٖ وَكَاِمْتِلَاءِ قَــبْـرِهٖ بِهٖ فَـتَجِدُهٗ مُقِيْمًا فِـىْ قَــبْـرِهٖ طَائِفًا حَوْلَ الْـبَــيْتِ قَائِمًاۢ بَـيْـنَ يَـدَىْ رَبِّهٖ لِاَدَاءِ الْـخِدْمَةِ تَامَّ الْاِنْبِسَاطِ بِـاِقَامَتِهٖ فِـىْ دَرَجَةِ الْوَسِيْـلَةِ اَلَا تَـرٰى اَنَّ الرَّائِــيْـنَ لَهٗ يَـقَظَةً اَوْمَنَامًا فِـىْ اَقْصَى الْـمَغْرِبِ يُـوَافِقُوْنَ فِـىْ ذٰلِكَ الرَّائِـــيْـنَ لَهٗ كَذٰلِكَ فِـىْ تِلْكَ السَّاعَةِ بِعَـيْـنِهَا فِـىْ اَقْصَى الْـمَشْرِقِ فَمَتٰـى كَانَ كَذٰلِكَ مَنَامًا كَانَ فِـىْ عَالَـمِ الْـخَـيَالِ وَالْـمِثَالِ وَمَـتٰـى كَانَ يَــقْظَـةً كَانَ بِصِفَتَـىِ الْـجَمَالِ وَالْاِجْلَالِ وَعَلـٰى غَايَـةِ الْكَمَالِ كَمَا قَالَ الْقَائِلُ لَـيْسَ عَلَى اللهِ بـِمُسْتَــنْـكَرٍ. اَنْ يَّـجْمَعَ الْعَالَـمَ فِـىْ وَاحِدٍ
অর্থ: আমি বলি, আমার যে বক্তব্য ইনশাআল্লাহ আমি তা ব্যক্ত করছি- নিশ্চয়ই আমার কথাও হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অনুরূপ। তবে উনার কথার উপর আমার বিশেষ বক্তব্য এই যে- আমি এটা দেখতে পাচ্ছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারক (মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জিসিম মুবারক) থেকে কোনো সময় ও স্থান, কোনো আশ্রয় ও স্থিতি, সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক ও সম্মানিত লাওহ মুবারক, সম্মানিত কুরসী মুবারক ও সম্মানিত কলম মুবারক, পানি ও স্থল, যমীন ও আসমান, বারযাখ ও কবর কোন কিছুই খালি নেই। সুবহানাল্লাহ! এ বিষয়ের দিকে আমি আগেই ইশারা করেছি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রওযা শরীফ উনাকে দিয়ে যেরূপ পরিপূর্ণ, নিশ্চয়ই ঠিক একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দিয়ে পরিপূর্ণ আছে সৃষ্টির সর্বোচ্চভাগ ও সর্বনিম্নভাগ। সুবহানাল্লাহ! আপনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রওযা শরীফ-এ অবস্থানকারীরূপে যেমন পাবেন, অনুরূপ পাবেন সম্মানিত বাইতুল্লাহ শরীফ উনার চারিদিকে তাওয়াফকারীরূপে, তেমনি পাবেন মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মুখে ছানা-ছিফত মুবারক করা অবস্থায় উপস্থিত থাকতে, আবার সম্মানিত দরজায়ে উসীলা মুবারক-এ পরিপূর্ণ সন্তুষ্টি মুবারক উনার সাথে অবস্থান মুবারক করতে। সুবহানাল্লাহ! আপনি কি একথা জানেন না যে, একই সময়ে একই সাথে পৃথিবীর সুদূর পশ্চিমপ্রান্তের কতক লোক এবং সুদূর পূর্বপ্রান্তের কতক লোক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে অথবা জাগ্রত অবস্থায় দেখে থাকেন? সুবহানাল্লাহ! স্বপ্নের দ্বারা এরূপ হলে আলমে খেয়াল ও আলমে মেছালের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। আর জাগ্রত অবস্থায় হলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জামালী এবং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জালালী ছিফত মুবারকসহ হয়ে থাকে। এটা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত চূড়ান্ত কামালিয়াত মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ মুবারক। সুবহানাল্লাহ! যেমন একজন বুযূর্গ ব্যক্তি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যদি একের মধ্যে সারা বিশ্বকে জমা করেন, উনার অসীম শক্তি মুবারক উনার তুলনায় তা আদৌ বিস্ময়কর ব্যাপার নয়।” সুবহানাল্লাহ! (তা’রীফু আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমান বিআন্না মুহাম্মাদান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লা ইয়াখলূ মিনহু যামানুন ওয়ালা মাকান, হাক্বীক্বতে মুহম্মদী ও মীলাদে আহমদী ১৪০-১৪১, মুন্তাহাস সূল ‘আলা ওয়াসায়িলিল উছূল ৪/৩৬১)
সুপ্রসিদ্ধ ‘মাজমাউল বারাকাত’ গ্রন্থে হযরত শায়েখ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন-
وی صلی اللہ علیہ وسلم بر احوال واعمال امت مطلع است بر مقربان وخاصان درکاہ خود مفیض وحاضر وناظر است
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজ উম্মতের যাবতীয় অবস্থা ও আমল সম্পর্কে অবগত এবং উনার মহান দরবারে উপস্থিত সকলকেই ফয়েজ প্রদানকারী এবং তিনি ‘হাযির ও নাযির’। সুবহানাল্লাহ!
হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘শরহুশ শিফা শরীফ’ উনার মধ্যে বলেছেন-
لِاَنَّ رُوْحَهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَاضِرٌ فِـىْ بُيـُـوْتِ اَهْلِ الْاِسْلَامِ
অর্থ: নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল আমর মুবারক (মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রূহ মুবারক) অর্থাৎ তিনি মুসলমানদের ঘরে ঘরে হাযির বা উপস্থিত। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
سَلِّمْ عَلَـيْهِ اِذَا دَخَلْتَ فِـى الْـمَسْجِدِ فَاِنَّهٗ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ يَـحْضُـرُ فِـى الْمَسْجِدِ
অর্থ: আপনি যখন পবিত্র মসজিদ সমূহে প্রবেশ করবেন তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সালাম দিবেন। কারণ তিনি পবিত্র মসজিদ সমূহে হাযির আছেন। সুবহানাল্লাহ!
উপরোক্ত দলীলভিত্তিক বর্ণনাসমূহ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খ¦াতামুন নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাতের সর্বত্র হাযির-নাযির। সুবহানাল্লাহ!
(মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ২৯৩তম সংখ্যা থেকে সংকলিত)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
রাগ ও লোভকে অনুপযুক্ত স্থানে প্রয়োগ না করে উপযুক্ত স্থানে প্রয়োগ করা উচিত
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দ্বীন ইসলামে হালাল ও হারামের গুরুত্ব (১)
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইখলাছ অর্জন করা ফরজ; ইখলাছ ছাড়া ইবাদত-বন্দেগী কবুল হয় না
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহিলাদের জন্য হাত, পা ও চেহারা আবৃত করে ঘর থেকে বের হওয়া ফরজ; খোলা রেখে বের হওয়া হারাম, জায়েয বলা কুফরী (৮)
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ফায়সালা মুবারক তথা উনার সুন্নত মুবারক পালন করা ব্যতীত ঈমানদার হওয়া সম্ভব নয়
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনাকে অনুসরণ করার আদব
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
একসাথে তিন তালাক দেয়ার শরয়ী হুকুম (৩)
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












