নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ইসমে যাত বা নাম মুবারক বারবার বলা ও লেখা সম্পূর্ণ আদবের খিলাফ (৪র্থ পর্ব)
, ১২ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৮ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৭ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১২ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে- হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যে মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন, সেখানে কিন্তু কখনোই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক ধরে সম্বোধন করেননি। উনারা এভাবে বর্ণনা করেছেন-
(১)قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(২)قَالَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(৩)سَـمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـقُوْلُ
(৪)سَـمِعْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـقُوْلُ
উনারা কিন্তু বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কখনোই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নাম মুবারক ধরে সম্বোধন করেননি। লেখার ক্ষেত্রেও না, বলার ক্ষেত্রেও না।
তাহলে পরবর্তী উম্মত কিভাবে কথা বলার সময়, লেখার সময় বারবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক নিতে পারে? আর এটা কিভাবে আদব হতে পারে? এটা কখনোই আদব হবে না। বরং এটা চরম পর্যায়ের বেয়াদবী এবং ঈমান নষ্ট হওয়ার কারণ হবে। নাঊযুবিল্লাহ!
সাধারণভাবে একজন সন্তান তার পিতা-মাতার নাম ধরে ডাকে না, একজন ছাত্র তার শিক্ষকের নাম ধরে সম্বোধন করে না। কেউ যদি নাম ধরে ডাকে বা সম্বোধন করে তাহলে তাকে বেয়াদব বলা হয়। অথচ পিতা-মাতা, শিক্ষক তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নগন্য উম্মত। তাদের ক্ষেত্রে যদি এভাবে আদব বজায় রাখতে হয় তাহলে যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র নূরুত তাশরীফ মুবারক না আনলে মহান আল্লাহ পাক তিনি কিছুই সৃষ্টি করতেন না উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক ধরে সম্বোধন করলে সেটা কত বড় বেয়াদবী হবে? কতটা আদবের খিলাফ হবে? সেটা বান্দা-বান্দী, উম্মতকে অবশ্যই চিন্তা করতে হবে। মূলত তারা সবচেয়ে বড় বেয়াদব হবে। নাঊযুবিল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّاۤ اَرْسَلْنٰكَ شَاهِدًا وَّمُبَشِّرًا وَّنَذِيْـرًا لِتُـؤْمِنُـوْا بِاللهِ وَرَسُوْلِهٖ وَتُـعَزِّرُوْهُ وَتُـوَقِّرُوْهُ وَتُسَبِّحُوْهُ بُكْرَةً وَّاَصِيْلًا
অর্থ: (আমার মহাসম্মানিত হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সাক্ষ্যদাতা হিসেবে, সুসংবাদদাতা হিসেবে এবং সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি। যেন তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান আনো এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক করো, উনাকে তা’যীম-তাকরীম মুবারক করো এবং উনার ছানা-ছিফত মুবারক করো সকাল-সন্ধ্যা, অনন্তকালব্যাপী। সুবহানাল্লাহ্! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ফাতহ্ শরীফ : সম্মারিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৮-৯)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হক্বসমূহের মধ্যে আমাদের জন্য বিশেষ হক্ব হচ্ছে উনাকে সম্মান করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীনে অবস্থান মুবারককালীন উনাকে যেভাবে সম্বোধন করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা কায়িনাতবাসীর জন্য ফরয তিনি দুনিয়ার যমীন থেকে পর্দা মুবারক করার পরও উনাকে তদ্রুপ তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, সম্মান করা, সম্বোধন মুবারক করা সমস্ত কায়িনাতবাসীর জন্য ফরয।
আল্লামা আবুল ফযল কাজী ইয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘শিফা শরীফ’ উনার মধ্যে বলেন-
وَاعْلَمْ اَنَّ حُرْمَةَ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ مَوْتِهٖ وَتَوْقِيْرَه وَتَعْظِيْمَه لَازِمٌ كَمَا كَانَ حَالَ حَيَاتِه وَذَلِكَ عِنْدَ ذِكْرِه صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَذِكْرِ حَدِيْثِه وَسُنَّتِه وَسَـمَاعِ اِسْـمِه وَسِيْـرَتِه وَمُعَامَلَةِ الِه وَعِتْـرَتِه وَتَـعْظِيْمِ اَهْلِ بَـيْتِه وَصَحَابَـتِهٖ
অর্থ: জেনে রাখুন! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ উনার পর উনার হুরমত মুবারক, উনার তা’যীম ও সম্মান মুবারক তদ্রুপ আবশ্যক হায়াত মুবারকে যেরূপ আবশ্যক ছিলেন। অর্থাৎ তিনি দুনিয়ার যমীনে অবস্থান মুবারককালে উনাকে যেভাবে সম্মান, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা আবশ্যক ছিলো, একইভাবে তিনি পর্দা মুবারক করার পরেও উনাকে অনুরূপ সম্মান, তা’যীম-তাকরীম করা আবশ্যক অর্থাৎ ফরয। আর এই বিষয়গুলো হচ্ছেন- উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার বর্ণনা মুবারক, উনার সম্মানিত নাম মুবারক এবং পবিত্র সীরাত মুবারক শ্রবণ, উনার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে আচার-ব্যবহার এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের তা’যীম মুবারক ইত্যাদি। সুবহানাল্লাহ! (শিফা শরীফ ২/৪০)
-মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (২৬)
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৩২)
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূরে মুজাসসাম এবং উনার নূর মুবারকই সর্বপ্রথম সৃষ্টি
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (২৫)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৩১)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১৪)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (২৪)
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৩০)
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১৩)
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (২৩)
২৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












