নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ইসমে যাত বা নাম মুবারক বারবার বলা ও লেখা সম্পূর্ণ আদবের খিলাফ (২য় পর্ব)
, ২৭ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৪ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৩ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ২৯ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
এমনকি মহান আল্লাহ পাক তিনি একস্থানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের দুইজনের বিষয়ে উল্লেখ করেছেন সেখানেও হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক সরাসরি বলেছেন কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক উল্লেখ করেননি। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّ اَوْلَى النَّاسِ بِاِبْـرَاهِيْمَ لَلَّذِيْنَ اتَّـبَـعُوْهُ وَهٰذَا النَّبِىُّ وَالَّذِيْنَ اٰمَنُـوْا ۗ وَاللهُ وَلِىُّ الْمُؤْمِنِيْنَ
অর্থ: নিশ্চয়ই মানুষের মাঝে যারা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার অনুসরণ করেছেন উনারা উনার নিকটতম লোক ছিলেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং যারা ঈমান এনেছেন উনারাও উনার নিকটতম। মহান আল্লাহ পাক তিনি হচ্ছেন মু’মিন উনাদের অভিভাবক। (পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৮)
কিন্তু বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে- নামধারী আলিম, বক্তা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই তাদের আলোচনায়, লিখনীতে, কথা-বার্তায় সব স্থানেই বারবার সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক বলে থাকে ও লিখে থাকে। এমনকি সেখানে তারা কোনো আদবও রক্ষা করে না। নাঊযুবিল্লাহ! তারা একে অপরকে যেভাবে সম্বোধন করে সেভাবেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! যেটা চরম আদবের খিলাফ এবং ঈমান নষ্ট হওয়ার কারণ। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে সামান্য থেকে সামান্যতম বেয়াদবী করলে ঈমান নষ্ট হয়ে যায়। নাঊযুবিল্লাহ!
আর স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই নিষেধ করেছেন উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মানুষ যেভাবে একে অপরকে সম্বোধন করে সেভাবে সম্বোধন করতে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لَا تَـجْعَلُوْا دُعَآءَ الرَّسُوْلِ بَـيْـنَكُمْ كَدُعَآءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا
অর্থ: তোমরা পরস্পর পরস্পরকে যেভাবে সম্বোধন করে থাকো, সেভাবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করো না। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৩)
এখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি বান্দা-বান্দী, উম্মত, কায়িনাতবাসী সবাইকে নিষেধ করে দিয়েছেন যে, তারা একে অপরকে যেভাবে সম্বোধন করে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যেন সেভাবে সম্বোধন মুবারক না করে। অর্থাৎ উনাকে অত্যন্ত মুহব্বত ও আদবের সাথে সম্মান মুবারক বজায় রেখে সম্বোধন মুবারক করতে হবে। উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় তাফসীর গ্রন্থসমূহে বিষয়টা আরো স্পষ্ট করে বলে দেয়া হয়েছে।
হযরত কাতাদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বলেন-
اَمَرَ اللهُ اَنْ يُّهَابَ نَبِيَّه صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاَنْ يُّـبَجَّلَ وَاَنْ يُّـعَظَّمَ وَاَنْ يُّـفَخَّمَ وَيُشَرَّفَ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তা’যীম মুবারক করার জন্য, সম্মান মুবারক করার জন্য, মর্যাদা মুবারক দেয়ার জন্য এবং উনার মাহাত্ম ও আভিজাত্য মুবারক প্রকাশ করার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে দুররে মানছূর ১১/১২৮)
হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
اَمَرَهُمْ اَنْ يَّـقُوْلُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ لِيْنٍ وَتَـوَاضُعٍ وَلَا يَـقُوْلُوْا يَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ تَجَهُّمٍ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি মু’মিনদেরকে আদেশ মুবারক করেছেন, অত্যন্ত নমনীয়তা ও বিনয়ের সাথে ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে সম্বোধন মুবারক করার জন্য। আর বিষন্নতা বা বিরক্তিকর অথবা গুরুত্বহীনতার সাথে উনার মহাসম্মানিত ইসমে যাত মুবারক ধরে সম্বোধন করতে নিষেধ করেছেন।” (তাফসীরে মুজাহিদ ২৭১ পৃষ্ঠা, তাফসীরে দুররে মানছূর ১১/১২৮)
‘তাফসীরে মাক্বাতিল’ উনার মধ্যে বর্র্ণিত রয়েছে-
يَـقُوْلُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ لَا تَدْعُوا النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِاِسْـمِهٖ يَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَا اِبْنَ عَبْدِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِذَا كَلَّمْتُمُوْهُ كَمَا يَدْعُوْ بَـعْضُكُمْ بَعْضًا بِاِسْـمِهٖ يَا فُلَانُ وَيَا اِبْنَ فُلَانٍ وَلكِنْ عَظَّمُوْهُ وَشَرَّفُـوْهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقُـوْلُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا نَبِىَّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার সম্মানিত নাম মুবারক ধরে- ইয়া মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে অথবা ইয়া ইবনা আব্দিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে সম্বোধন করো না। যেমনিভাবে তোমরা পরস্পর কথা বলার সময় একে অপরকে হে অমুক বা হে অমুকের পুত্র অমুক বলে সম্বোধন করে থাকো। বরং তোমরা উনাকে অত্যন্ত তা’যীম-তাকরীম মুবারক ও সম্মান মুবারক উনার সাথে সম্বোধন মুবারক করো। তোমরা বলো, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইয়া নাবিয়াল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!” (তাফসীরে মাক্বাতিল ইবনে সুলাইমান ২/৪২৮)
-মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (২৩)
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, আল হাদ্বির ওয়ান নাযির, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চার খানা বিশেষ খুছূছিয়ত মুবারক (২)
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (২১)
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (২০)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (১৭)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (১৯)
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৬)
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (১৬)
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (১৮)
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












