নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে ‘শব্দ’ ব্যবহারে কতটুকু আদব রক্ষা করা আবশ্যক (৩)
, ২১ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
(পূর্বে প্রকাশিতের পর)
তিনি মেষ চড়িয়েছেন সত্য। এটা উম্মতকে শিক্ষা দেয়ার জন্য। কেউ যদি এই নিয়ত করে মেষ, দুম্বা, বকরী ইত্যাদি চড়ায় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মেষ চড়িয়েছেন তাহলে সে একটি সুন্নত পালন করার কারণে ১০০ শহীদ উনাদের ছাওয়াব লাভ করবে। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন ‘উসওয়াতুন হাসানাহ’ সবার জন্য উত্তম আদর্শ মুবারক। তিনি মেষ চড়িয়েছেন বলে উনাকে রাখাল বা এ জাতীয় কোনো শব্দে সম্বোধন করা যাবে না। কেউ করলে সেটা কুফরী হবে, ঈমানহারা হয়ে জাহান্নামী হবে।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে কতটুকু আদব বজায় রেখে শব্দ ব্যবহার করতে হবে সেটা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের আমল মুবারকের নমুনা দেখলে বিষয়টা সুস্পষ্ট হয়ে যাবে।
পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ قَيْسِ بْنِ مَخْرَمَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ عَنْ اَبِيْهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ وُلِدْتُ اَنَا وَرَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيْلِ. وَسَاَلَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَضْرَتْ قُبَاثَ بْنَ اَشْيَمَ اَخَا بَنِىْ يَعْمَرَ بْنِ لَيْثٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ اَاَنْتَ اَكْبَرُ اَمْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَكْبَرُ مِنِّىْ وَاَنَا اَقْدَمُ مِنْهُ فِى الْمِيْلَادِ وُلِدَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيْلِ
অর্থ: “হযরত ক্বাইস ইবনে মাখরামা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার সম্মানিত পিতা থেকে, তিনি উনার সম্মানিত দাদা থেকে বর্ণনা করেন। উনার দাদা বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং আমি হস্তী বছরে (আবরাহার বাহিনী ধ্বংসের বছর) বিলাদত শরীফ গ্রহণ করি। (তিনি বলেন,) ইয়া’মার ইবনে লাইছ গোত্রীয় হযরত কুবাছ ইবনে আশইয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে তৃতীয় খলীফা সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, (বয়সের দিক থেকে) আপনি বড় নাকি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বড়? তিনি জবাব দিলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার চেয়ে অনেক বড়, তবে আমি বিলাদত শরীফ গ্রহণের দিক থেকে যমীনে আগে এসেছি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাতীর বছর মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ৩৬১৯)
আরো বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ مُغِيْرَةَ بْنِ اَبِىْ رَزِيْنٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ قَالَ قِيْلَ لِحَضْرَتْ عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَيُّمَا اَكْبَرُ اَنْتَ اَمْ اَلنَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ هُوَ اَكْبَرُ مِنِّىْ وَ اَنَا وُلِدْتُ قَبْلَهٗ
অর্থ: “হযরত মুগীরা ইবনে আবী রযিন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত খাতিমুল মুহাজিরীন আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম) উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো; নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বড় নাকি আপনি? তিনি জবাবে বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার চেয়ে অনেক বড় তবে আমি উনার পূর্বে পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহন করেছি।” (মুস্তাদরাকে হাকিম ৩/৩৬২)
বিষয়টা অত্যন্ত সূক্ষ্ম উনারা কিন্তু বলতে পারতেন যে আমি বড়। আর বয়সের দিক থেকে উনারাই বড় ছিলেন এটাই সত্য। কিন্তু উনারা সেটা বলেননি। এখানেও উনারা সর্বোচ্চ আদবের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! যারা বলে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিতো মেষ চড়িয়েছেন তাহলে উনাকে ‘রাখাল’ বললে সমস্যা কি? তাদের জন্য উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে শিক্ষণীয় ও নছীহত হাছিল করার বিষয় রয়েছে।
এখানে আরেকটা বিষয় রয়ে গেছে সেটা হলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তখনই কেউ সর্বোচ্চ সম্মান করতে পারবে, তা’যীম-তাকরীম করতে পারবে, আদব বজায় রাখতে পারবে যখন সে উনাকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হিসেবে, তিনি হাযির-নাযির, তিনি মুত্ত্বলা’ আলাল গইব, তিনি হায়াতুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে মেনে নিবে। আর যদি কেউ মনে করে তিনি তাদের মতোই তাহলে কস্মিনকালেও তারা উনাকে সম্মান করতে পারবে না, উনার শানে আদব বজায় রাখতে পারবে না, এটা প্রমাণিত। বর্তমান বাজারের যে সমস্ত বক্তারা উনার শানে বেয়াদবী করে এরা এটাই মনে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের মতো। নাঊযুবিল্লাহ।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত মুসলমানদেরকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে সর্বোচ্চ আদব বজায় রাখার এবং উনাকে সবচেয়ে বেশি তা’যীম-তাকরীম মুবারক করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন।
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বুলন্দী শান মুবারক
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ: ‘উম্মী’ শব্দ নিয়ে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত জবাব (৭)
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ১৩
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বুলন্দী শান মুবারক
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ: ‘উম্মী’ শব্দ নিয়ে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারের চূড়ান্ত জবাব (৭)
১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ১২
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৪৭)
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সৃষ্টির শুরু থেকেই একই সাথে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ থাকবেন
০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












