সুন্নত মুবারক তা’লীম
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অত্যন্ত পছন্দনীয় খাবার মুবারক “ছারীদ”
, ০৯ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ৩১ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৫ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
ছারীদ হলো গোশতের শুরুয়াতে ভেজানো টুকরো টুকরো রুটি দিয়ে তৈরী এক প্রকার বিশেষ খাদ্য। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বপ্রকার খাদ্য সামগ্রীর উপর ছারীদের প্রাধান্য দিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَضْلُ أُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ عَلَى النِّسَاءِ كَفَضْلِ الثَّرِيْدِ عَلٰى سَائِرِ الطَّعَامِ.
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সকল নারীর উপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার মর্যাদা মুবারক এমন, যেমন সর্বপ্রকার খাদ্য সামগ্রীর উপর ছারীদের মর্যাদা মুবারক।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ: কিতাবুত ত্বয়ামাহ্ : পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৫৪২৮, মুসলিম শরীফ : পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৬১৯৩, নাসায়ী শরীফ : পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৩৯৪৭)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুই প্রকার ছারীদ গ্রহণ করেছেন বলে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনা পাওয়া যায়। যেমন-
১. রুটির ছারীদ ও
২. হাইসের ছারীদ।
এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ أَحَبُّ الطَّعَامِ إِلٰى رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الثَّرِيْدَ مِنَ الْخُبْزِ وَالثَّرِيْدَ مِنَ الْحَيْسِ.
অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে রুটির ছারীদ এবং হাইসের ছারীদ ছিল অত্যন্ত প্রিয় খাদ্য মুবারক।” সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাউদ শরীফ কিতাবুত ত্বয়ামাহ্ : পবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৩৭৮৩)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
ذَبَحَ حَضْرَتْ جَابِرٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ شَاةً وَطَبَخَهَا وَ ثَرَدَ فِىْ جَفْنَةٍ. وَاَتٰى بِهَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَكَلَ الْقَوْمُ وَكَانَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ لَهُمْ كُلُوْا وَلَاتَكْسِرُوْا عَظْمًا. ثُمَّ اِنَّهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَمَعَ الْعِظَامَ وَوَضَعَ يَدَهٗ عَلَيْهَا ثُمَّ تَكَلَّمَ بِكَلَامٍ فَاِذَا الشَّاةُ قَامَتْ تَنْفُضُ ذَنْبَهَا.
অর্থ:- হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একটি বকরী যবাই করলেন এবং তা রান্না করলেন, এবং একটি বড় কাঠের প্লেটে (মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার) ছারীদ তৈরী করলেন। অতঃপর তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে নিয়ে আসলেন। সুতরাং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সহ সকল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা তা অর্থাৎ উক্ত কাঠের প্লেট থেকে ছারীদ গ্রহণ মুবারক করলেন, খেলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদেরকে বললেন, আপনারা খাবার খান কিন্তু (গোশতের) হার-হাড্ডি ভেঙ্গে ফেলবেন না, নষ্ট করে ফেলবেন না। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকল হাড়-হাড্ডি একত্র করলেন এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারক) সেই হাড়গুলোর উপর রাখলেন, অতঃপর তিনি কতিপয় মহাসম্মানিত কালাম মুবারক পাঠ করলেন, সেই মুহূর্তে (হাড়গুলো একত্র হয়ে বকরীতে পরিণত হয়ে গেলো) বকরীটি দাঁড়িয়ে তার লেজ ঝাড়তে- নাড়তে লাগলো। সুবহানাল্লাহ! (ইক্বামাতুল হাজ্জাতি আলাল আলামীন বি নুবুওওয়াতি খ্বাতামিন নাবিইয়ীন- ৩য় খ- ৩০৫ পৃষ্ঠা, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ২৭)
প্রস্তুত প্রণালী : ছারীদ তৈরীর বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। ১টি পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো :
উপকরণ সমূহ:
১. তেহারি সাইজ গরুর গোশত (২৫০ গ্রাম)
২. তেল (১৫০ গ্রাম)
৩. আদা (১০০ গ্রাম)
৪. রসুন (১০০ গ্রাম)
৬. মিষ্টি কুমড়া (১ কেজি)
৮. দারুচিনি (১৫ গ্রাম)
১০. হলুদ (১০ গ্রাম)
১২. ধনিয়া (১৫ গ্রাম)
তৈরীর পদ্ধতি : একটি পাত্রে গোশত দিয়ে তেল দিন। আদা, রসুন, পেঁয়াজ, এলাচ বাটার সাথে দারুচিনি, হলুদ, মরিচ, ধনিয়া, তেজপাতা, লবণ দিতে হবে। কিছুক্ষণ অল্প আগুনে গোশত জাল দিতে হবে। এরপরে ভালোভাবে কসিয়ে নিতে হবে। গোশত হয়ে গেলে পর্যাপ্ত পানি ও সেদ্ধ করা মিষ্টি কুমড়ার মন্ড দিয়ে ৩০ মিনিট পর চুলা থেকে নামিয়ে ভাসমান তেল উঠিয়ে নিতে হবে। শুরুয়াটি পাতলা হবে। এরপর রুটিকে অনেকগুলো টুকরা করে খাবার পাত্রে নিয়ে তাতে শুরুয়া ঢেলে দিলেই তৈরী হয় মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার ছারীদ।
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পাগড়ীর উপর অথবা শুধু টুপির উপর সাদা রুমাল পরিধান করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (৩)
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইমামাহ বা পাগড়ী পরিধান করা খাছ সুন্নত মুবারক
২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র নামায উনার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকসমূহ
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কিয়ামত পর্যন্ত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার কোন পরিবর্তন-পরিবর্ধন হবে না
২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
স্বভাবজাত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
‘আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’ থেকে সংগ্রহ করুন সুন্নতী জয়তুনের তেল
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম চিকিৎসা পদ্ধতি মুবারক : হিজামা বা শিঙ্গা লাগানো (৪)
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
‘আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র’ থেকে সংগ্রহ করুন সুন্নতী খাবার ‘পনির’
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম চিকিৎসা পদ্ধতি মুবারক : হিজামা বা শিঙ্গা লাগানো (৩)
২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম চিকিৎসা পদ্ধতি মুবারক : হিজামা বা শিঙ্গা লাগানো (২)
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২)
২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












