নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৩৩)
, ০৪ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৬ সাবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১০ পৌষ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
ইহুদী মহিলা আছমা বিনতে মারওয়ান:
এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন-
إذَا أَحْبَبْتُمْ أَنْ تَنْظُرُوا إلَى رَجُلٍ نَصَرَ اللهَ وَرَسُولَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْغَيْبِ فَانْظُرُوْا اِلٰى حَضْرَتْ عُمَيْرِ بْنِ عَدِىٍّ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ
‘আপনারা যদি এমন একজন ব্যক্তিত্ব উনাকে দেখতে চান যিনি অদৃশ্যে (গোপনে) মহান আল্লাহ পাক এবং উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের গোলামী মুবারকে আঞ্জাম দিয়েছেন। তাহলে হযরত উমাইর ইবনে আদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার দিকে তাকান।’ সুবহানাল্লাহ!
তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ‘আপনারা এই অন্ধ ব্যক্তি উনার দিকে তাকান, যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের আনুগত্যে নিজেকে বিক্রি করে দিয়েছেন।’ এই কথা শুনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-
لَا تَقُلِ الْأَعْمٰى وَلٰكِنّهُ الْبَصِيْرُ
‘উনাকে অন্ধ বলবেন না, বরং তিনিই প্রকৃত দৃষ্টিসম্পন্ন।’ সুবহানাল্লাহ!
হযরত উমাইর ইবনে আদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আপন গোত্রে ফিরে গেলেন:
অতঃপর হযরত উমাইর ইবনে আদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আপন গোত্রে ফিরে যেয়ে দেখতে পেলেন একদল লোক শাতিম আছমা বিনতে মারওয়ানকে দাফন করছে। তারা উনাকে দেখে জিজ্ঞেস করলো, আপনিই কি তাকে হত্যা করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। কাজেই তোমরা সবাই আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে পারো। এতে আমার কিছু যায় আসে না। (এরপর হযরত উমাইর ইবনে আদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বজ্র কন্ঠে ঘোষণা করলেন-)
فَوَ الَّذِىْ نَفْسِىْ بِيَدِهِ لَوْ قُلْتُمْ بِأَجْمَعِكُمْ مَا قَالَتْ لَضَرَبْتُكُمْ بِسَيْفِىْ هٰذَا حَتّٰى اَمُوْتَ اَوْ اَقْتُلَكُمْ
‘ঐ মহান সত্তা, মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! যার কুদরতী হাত মুবারকে আমার প্রাণ। এই শাতিম মহিলা যা বলেছে, তোমরা সবাইও যদি এটা বলো তাহলে আমি অবশ্যই আমার এই তরবারী দ্বারা তোমাদের সকলকে আঘাত করবো। এতে আমি শহীদ হবো অথবা তোমাদেরকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিবো।’
ঐদিন থেকেই বনী খিতমায় প্রকাশ্যে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ছড়িয়ে পড়েন। (এর আগে অনেকেই গোপনে ঈমান এনেছিলেন কিন্তু প্রকাশ করেননি।) (মাগাযিউল ওয়াক্বিদী ১/১৭৩, ইমতাউল আসমা ১/১২০)
হযরত উমাইর ইবনে আদী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এই শাতিমকে হত্যা করায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্টি মুবারক প্রকাশ করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
আরেকটি বর্ণনায় এসেছে- হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনু খাতমা গোত্রের এক মহিলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মানহানী করতো। এই সংবাদ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট পৌঁছলে তিনি এতে অত্যন্ত তাকলীফ বা কষ্ট পান এবং ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ لِىْ بِهَا؟
‘কে আছেন, এই মহিলাকে শায়েস্তা করতে পারবেন?’ তখন তারই গোত্রের একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি তার দায়িত্ব নিচ্ছি।
এই মহিলা ছিলো একজন খেজুর বিক্রেতা। ঐ ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তার দোকানে এসে বললেন, তোমার কাছে কি খেজুর আছে? সে বললো, হ্যাঁ। সে উনাকে কিছু খেজুর দেখালো। ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি এর চেয়েও ভালো খেজুর চাচ্ছি।
এই কথা শুনে সে ভিতরের ঘরে (গুদামে) প্রবেশ করলো। ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিও তাকে অনুসরণ করে গুদামে প্রবেশ করলেন। তিনি ডানে-বামে তাকিয়ে দেখলেন একটি খাবার পাত্র ছাড়া আর কিছুই নেই (তাকে আঘাত করার মতো)। তিনি সেটা দিয়েই শাতিম মহিলার মাথায় আঘাত করলেন, ফলে তার মাথা ফেটে গেলো (সে মারা গেলো)। এরপর উক্ত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। অর্থাৎ আপনার দুশমন মহিলাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিয়েছি। এটা শুনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَمَا اِنَّه لَا يَنْتَطِحُ فِيْهَا عَنْزَانِ
‘জেনে রাখুন! এ বিষয়ে দুটি ছাগলও পরস্পরের সাথে শিং লাগিয়ে ঝগড়া করবে না।’ অর্থাৎ আপনার এই কাজে কেউই দ্বিমত পোষণ করবে না। সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদুশ শিহাব ২/৪৭) (অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম “لِـيَـعْبُدُوْنِ (লিইয়া’বুদূন) থেকে لِـيُصَلُّوْنِ (লিইউছল্লূন) পর্যন্ত ৮টি মাক্বাম মুবারক উনাদের বর্ণনা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অদ্বিতীয় হাক্বীক্বী কায়িম-মাক্বাম হিসেবে, উনার হুবহু নক্বশা মুবারক হিসেবে উনার সমস্ত নিয়ামত মুবারক আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করা
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের তরফ থেকে বিশেষ দাওয়াত মুবারক এবং খুশি মুবারক প্রকাশ
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক اَحْمَدُ (আহমদ) ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যকার ‘মীম’ হরফ বা অক্ষর মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ চূ-চেরা, ক্বীলও ক্বাল করার কারণে, হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করার কারণে কাফেরদের বিরুদ্ধে সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট বিচার চাওয়া প্রসঙ্গে
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যস্থতা মুবারক-এ হাক্বীক্বী দীদার মুবারক লাভরে বশিষে র্বণনা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিসবত মুবারক স্থাপন করতে পারলে, মূল সব নিয়ামত পরিপূর্ণটা হাছিল সম্ভব। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথেই আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সরাসরি মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘এক নাম্বার আক্বীদাহ্ হচ্ছে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন’
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












