নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে অবমাননাকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (১৭)
, ৩রা রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৯ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৮ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ১৩ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
উমাইয়া বিন খ্বলফের পরিণতি:
এরপর উমাইয়া (তার স্ত্রীকে) বললো, হে উম্মে ছাফওয়ান! আমার সফরের ব্যবস্থা করো। তখন তার আহলিয়া তাকে বললো, হে আবূ ছাফওয়ান! তোমার মদীনা শরীফ উনার ভাই যা বলেছিলেন, তা কি তুমি ভুলে গিয়েছো? সে বললো, না। আমি তাদের সাথে কিছু দূর যেতে চাই মাত্র। রওয়ানা হওয়ার পর রাস্তায় যে মনযিলেই উমাইয়া কিছুক্ষণ অবস্থান করেছে, সেখানেই সে তার উট বেঁধে রেখেছে, গোটা পথেই সে এরূপ করলো। পরিশেষে বদর প্রান্তরে মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুমে সে মারা গেলো। (বুখারী শরীফ: হাদীছ শরীফ নং ৩৯৫০)
পবিত্র বদর জিহাদে সে যেভাবে মারা যায়:
পবিত্র বদর জিহাদের দিন উমাইয়া তার সন্তান আলীর হাত ধরে দাঁড়িয়ে ছিলো। হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তার সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। উনার হাতে শত্রুদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া কয়েকটি বর্ম ছিলো। উনাকে দেখে উমাইয়া বললো, আমি কি আপনার প্রয়োজনে লাগতে পারি? আপনার বর্মগুলোর চেয়ে আমরা উত্তম। আজকের মতো দৃশ্য আমি কখনও দেখিনি। আপনাদের কি দুধের প্রয়োজন নেই? (হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে উমাইয়া ইবনে খ¦লফের পূর্ব সম্পর্ক ছিলো। তাই সে উনাকে এভাবে বলছিলো। ) এ কথা শুনে হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্মগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে উমাইয়া ও তার পুত্রকে বন্দি করে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন।
এমন সময় হযরত বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উমাইয়াকে দেখে ফেললেন। তিনি উমাইয়া... উমাইয়া... বলে চিৎকার করতে লাগলেন, আর বলতে থাকলেন, উমাইয়া বেঁচে থাকলে আমার বেঁচে থেকে কোনো লাভ নেই! উনার এরূপ বলার কারণ হলো, এই মালঊন উমাইয়ারই কৃতদাস ছিলেন তিনি। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করায় উমাইয়া উনাকে অবর্ণনীয় নির্যাতন করেছে। নাঊযুবিল্লাহ!
হযরত বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার এই আওয়াজ শুনে ইতিমধ্যে কয়েকজন হযরত আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা চলে এলেন। উনারা উমাইয়া ও তার পুত্রকে ধরতে দৌঁড়াতে শুরু করলেন। হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পিতা ও পুত্রকে বাঁচাতে চেষ্টা করলেন। উপায়ান্তর না দেখে উমাইয়া পুত্র আলীকে ধাওয়াকারী হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সামনে ফেলে দিয়ে উমাইয়াকে নিয়ে যেতে থাকলেন। উনার ধারণা ছিলো হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উমাইয়া পুত্রকে হত্যা করতে ব্যস্ত থাকবেন। এই ফাঁকে তিনি উমাইয়াকে নিয়ে সেখান থেকে সরে যাবেন। কিন্তু সেটা আর হলো না। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা খুব দ্রুত উমাইয়া পুত্রকে হত্যা করে উনাদের নাগাল ধরে ফেললেন!
অবস্থা বেগতিক দেখে হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, পালাও! পালাও! এরপরই বললেন, কিন্তু আজ তো পালানোর পথ নেই! মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! আজ আমি তোমার কোনো উপকারে আসতে পারবো না। অতঃপর তিনি উমাইয়া ইবনে খ¦লফকে বললেন, হামাগুড়ি দিয়ে বসে পড়ো। উমাইয়া তাই করলো। তিনি তার দেহের উপর ঝুঁকে পড়ে আড়াল করে রাখার চেষ্টা করলেন। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের এই দুশমনকে জাহান্নামে পাঠাতে হযরত খুবাইব ইবনে ইসাফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত বিলাল ইবনে আবী রাবাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত মুআয ইবনে আফরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত খারিজাহ বিন যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত রিফাআহ বিন রাফে’ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা নিচে দিয়ে তরবারি ঢুকিয়ে, খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে উমাইয়ার ভবলীলা সাঙ্গ করে ছাড়লেন!
উমাইয়া বিন খ¦লফ ছিলো খুবই মোটাসোটা। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের এলোপাথাড়ি কোপ, আঘাত আর খোঁচায় মরার আগে সে এতো বিকট আওয়াজে চিৎকার করে, যা কেউ আগে শুনতে পাননি! এভাবেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কটাক্ষকারী এই দুশমনের পরিণতি ঘটে। (আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা মুবারক বাস্তবে পরিণত হন। )
মরার পরেও এই কাট্টা কাফিরটা চরম লাঞ্ছনার শিকার হয়। উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, পবিত্র বদর যুদ্ধে নিহত কাফিরদের লাশ বদর নামক কুয়ায় নিক্ষেপ করতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নির্দেশ মুবারক দেন। নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী লাশগুলো সেখানে নিক্ষেপ করা হয়। কিন্তু উমাইয়া ইবনে খ¦লফের লাশ নিক্ষেপ করা হলো না। কেননা, তার লাশ ফুলে-ফেঁপে পরিহিত বর্মের সাথে আটকে গিয়েছিলো। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বর্মের ভিতর থেকে মালঊনটার গলিত লাশ টেনে বের করার চেষ্টা করলে তার গোস্ত ছিড়ে যেতে থাকে। তখন ঐ অবস্থায় রেখেই তাকে পাথরচাপা দেয়া হয়। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া)
উল্লেখ্য, এই কাফিরটাই হযরত বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে উত্তপ্ত বালির মাঝে পাথর চাপা দিতো। তার সেই পাওনা যমীনে থাকতেই শুরু হয়ে গেলো। পরকালের কঠিন শাস্তিতো রয়েই গেলো। (অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম “لِـيَـعْبُدُوْنِ (লিইয়া’বুদূন) থেকে لِـيُصَلُّوْنِ (লিইউছল্লূন) পর্যন্ত ৮টি মাক্বাম মুবারক উনাদের বর্ণনা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অদ্বিতীয় হাক্বীক্বী কায়িম-মাক্বাম হিসেবে, উনার হুবহু নক্বশা মুবারক হিসেবে উনার সমস্ত নিয়ামত মুবারক আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করা
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের তরফ থেকে বিশেষ দাওয়াত মুবারক এবং খুশি মুবারক প্রকাশ
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক اَحْمَدُ (আহমদ) ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যকার ‘মীম’ হরফ বা অক্ষর মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ চূ-চেরা, ক্বীলও ক্বাল করার কারণে, হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করার কারণে কাফেরদের বিরুদ্ধে সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট বিচার চাওয়া প্রসঙ্গে
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যস্থতা মুবারক-এ হাক্বীক্বী দীদার মুবারক লাভরে বশিষে র্বণনা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিসবত মুবারক স্থাপন করতে পারলে, মূল সব নিয়ামত পরিপূর্ণটা হাছিল সম্ভব। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথেই আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সরাসরি মহাসম্মানিত নিসবত মুবারক
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
‘এক নাম্বার আক্বীদাহ্ হচ্ছে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন’
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












