নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি দৈনিক মাত্র ১০ বার পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠকারীর জন্য বিশেষ ৪টি সুসংবাদ মুবারক
, ০৮ জুমাদাল উলা শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ২৫ সাদিস ১৩৯১ শামসী সন , ২৩ নভেম্বর, ২০২৩ খ্রি:, ০৭ অগ্রহায়ণ কার্তিক, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
اِنَّ اللهَ وَمَلٰٓئِكَتَهٗ يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِـىِّ یٰۤـاَیهُّا الَّذِيْنَ اٰمَـنُـوْا صَلُّوْا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوْا تَسْلِـيْمًا
অর্থ: “নিশ্চয়ই যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার সকল হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি দায়িমীভাবে ছলাত মুবারক অর্থাৎ পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করে যাচ্ছেন, উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করে যাচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! হে ঈমানদাররা! তোমরাও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত মুবারক পাঠ করো অর্থাৎ দুরূদ শরীফ পাঠ করো, উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করো এবং অত্যন্ত আদবের সাথে উনার প্রতি সালাম মুবারক পেশ করো।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৬)
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ছলাত মুবারক পাঠ করা অর্থাৎ দুরূদ শরীফ পাঠ করা মূলত মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র আমল মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তাহলে পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করা কত বেমেছাল ফযীলত মুবারক, সেটা সমস্ত সৃষ্টির চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! নিম্নে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি দৈনিক মাত্র ১০ বার দুরূদ শরীফ পাঠকারীর জন্য বিশেষ ৪টি সুসংবাদ মুবারক সংশ্লিষ্ট বর্ণনাখানা তুলে ধরা হলো-
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “(একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করার লক্ষ্যে উনার পবিত্র খিদমত মুবারক-এ) হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি, হযরত মীকাঈল আলাইহিস সালাম তিনি, হযরত ইসরাফীল আলাইহিস সালাম তিনি এবং হযরত আযরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা এই চারজন প্রধান ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আসলেন। (উনারা এসে উনাদের আরজী পেশ করলেন। প্রথমে) হযরত আযরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন- ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ‘আপনার যেই উম্মত সকাল এবং সন্ধ্যায় অর্থাৎ দৈনিক মাত্র ১০ বার আপনার শান মুবারকে পবিত্র ছলাত মুবারক পেশ করবেন অর্থাৎ দুরূদ শরীফ পাঠ করবেন, আমি ঐ ব্যক্তি উনার রূহ এমনভাবে কবজ করবো যেভাবে ময়দার তাল (তৈলাক্ত খামির) থেকে একটি চুল বা পশম আলাদা করা হয়। অর্থাৎ বিনা কষ্টে উনার রূহ কবজ করা হবে।’ সুবহানাল্লাহ! অন্য বর্ণনায় রয়েছেন, ‘হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত রূহ মুবারক যেভাবে কবজ করা হয়, আমি সেভাবে উনার রূহ কবজ করবো’। সুবহানাল্লাহ! আর হযরত ইসরাফীল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন- ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ‘আপনার যেই উম্মত সকাল এবং সন্ধ্যায় অর্থাৎ দৈনিক মাত্র ১০ বার আপনার শান মুবারকে ছলাত মুবারক পেশ করবেন অর্থাৎ দুরূদ শরীফ পাঠ করবেন, (ক্বিয়ামতের দিন) ঐ ব্যক্তি উনার জন্য আমি সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক উনার নীচে এমনভাবে সিজদাহ্ দিবো যে, ঐ ব্যক্তি উনাকে ক্ষমা না করা পর্যন্ত আমি আমার মাথা উঠাবো না।’ সুবহানাল্লাহ! আর হযরত মীকাঈল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন- ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ‘আপনার যেই উম্মত সকাল এবং সন্ধ্যায় অর্থাৎ দৈনিক মাত্র ১০ বার আপনার শান মুবারকে পবিত্র ছলাত মুবারক পেশ করবেন অর্থাৎ দুরূদ শরীফ পাঠ করবেন, ঐ ব্যক্তি উনাকে আমি (নিজ হাতে) হাউযে কাউছারের পানি পান করাবো, যা পান করার পর তিনি আর কখনই পিপাসার্ত হবেন না।’ সুবহানাল্লাহ! আর হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন- ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ‘আপনার যেই উম্মত সকাল এবং সন্ধ্যায় অর্থাৎ দৈনিক মাত্র ১০ বার আপনার শান মুবারকে পবিত্র ছলাত মুবারক পেশ করবেন অর্থাৎ দুরূদ শরীফ পাঠ করবেন, ঐ ব্যক্তি উনাকে আমি নিজে বিদ্যুতের ন্যায় দ্রুত গতিতে পুলছিরাত পার করে সম্মানিত জান্নাত মুবারকে নিয়ে যাবো’।” সুবহানাল্লাহ!
তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! এক কথায় তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ!
যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক হাক্বীক্বীভাবে উপলব্ধি করে উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ বেশি বেশি দরূদ শরীফ পাঠ করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












