তা’লীমুল মাসায়িল (১০)
, ২৬ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২২ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ০৬ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
পানি সম্পর্কিত মাসায়িল
দুনিয়ায় বেঁচে থাকার জন্য পানি যেমনি একান্ত প্রয়োজন, ঠিক তেমনি পবিত্রতা হাছিলের জন্যও তা হচ্ছে প্রধান ও অন্যতম উপকরণ। যার মাধ্যমে মুসলমানগণ সর্বপ্রকার নাজাসাত এবং জানাবাত থেকে পবিত্রতা অর্জনকরতঃ এক আল্লাহ পাক উনার ইবাদত-বন্দেগী করে থাকেন। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِّنَ السَّمَآءِ مَآءً لِّيُطَهِّرَكُمْ بِهٖ
অর্থ: এবং তিনি (মহান আল্লাহ পাক) তোমাদের পবিত্রতা হাছিলের জন্য আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন। (পবিত্র সূরা আনফাল শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১১)
পানির প্রকারভেদ :
পানি প্রথমত তিন প্রকার। যথা-
(ক) বদ্ধ পানি, (খ) প্রবাহিত পানি এবং (গ) ব্যবহৃত পানি।
আবার পানি দু’প্রকার :
(ক) বেশি পানি এবং (খ) অল্প পানি।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “পানি সর্বদাই পাক, যতক্ষণ তাতে নাপাক কিছু পতিত হয়ে পানির গন্ধ, স্বাদ এবং রং পরিবর্তন না করে। ”
এ পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং পানির প্রকারসমূহের ভিত্তিতে পানি পাক-নাপাক হওয়ার আহকাম নিম্নে বর্ণনা করা হলো-
১. পানি যদি কম এবং স্থির হয়, তাতে নাপাকী পতিত হলে তা দ্বারা অজু-গোসল জায়িয হবে না। তবে এ প্রকার পানির তিনটি ছিফত বা গুণের (রং, গন্ধ, স্বাদ) কোনো একটি মওজূদ থাকলে, তা দ্বারা অজু-গোসল জায়িয হবে।
২. যদি পানি প্রবাহিত কিংবা বেশি পানি হয় অর্থাৎ স্রোতের পানি অথবা এমন বড় পুকুর কিংবা হাউজ, যা অন্ততঃপক্ষে ১০ হাত দৈর্ঘ্য, ১০ হাত প্রস্থ এবং কমপক্ষে এতটুকু গভীর যে, চুল্লু (কোশ) ভরে পানি উঠালে হাত মাটিতে লাগে না, এমন পানিতে নাজাসাত পতিত হলেও তা পাক এবং তা দ্বারা অজু-গোসল জায়িয হবে। তবে এ প্রকার পানির তিনটি গুণের (রং, গন্ধ, স্বাদ) যেকোনো একটি নষ্ট হলে, তা দ্বারা অজু-গোসল জায়িয হবে না।
৩. ব্যবহৃত পানি, যা অজু-গোসল সম্পাদন করার সময় শরীর থেকে ঝরে পড়ে। এ প্রকার পানি নিজে পাক, কিন্তু অন্য কোনো নাপাক বস্তু পাক করতে পারে না। অতএব, ব্যবহৃত পানি যদি কোনো পানিতে পড়ে, আর তার পরিমাণ যদি সমান কিংবা বেশি হয়, তবে সে পানি দ্বারা অজু-গোসল জায়িয হবে না। আর ব্যবহৃত পানির পরিমাণ কম হলে জায়িয হবে।
৪. বৃষ্টির পানি, নদীর পানি, খাল-বিলের পানি, ঝর্ণার পানি, সমুদ্রের পানি, পাতকুয়া বা পাকা কুয়ার পানি এবং পুকুর ইত্যাদির পানিতে অজু-গোসল জায়িয আছে, তা মিঠা পানি হোক কিংবা লোনা পানি হোক।
৫. কোনো ফল, গাছ বা পাতা নিংড়ায়ে রস বের করে তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা জায়িয হবে না। তদ্রƒপ তরমুজের পানি, আখের বা খেজুরের রস ইত্যাদি দ্বারাও অজু-গোসল জায়িয নেই।
৬. যে পানির সাথে কোনো জিনিস মিশ্রিত হওয়ায় বা তা দ্বারা কোনো জিনিস রান্না করায় এমন হয়েছে যে, এখন লোকে তাকে পানি বলে না, ওটার অন্য নাম হয়ে গেছে, এরূপ পানি দ্বারা অজু-গোসল জায়িয নেই। যেমন- শরবত, শিরা, শুরবা, সিরকা, গোলাপ পানি ইত্যাদি।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১০)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত আশূরা শরীফ উনাকে যারা সম্মান করবে তাদের জন্য-
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা মতে কুলাঙ্গার ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি কাট্টা কাফির ও চিরজাহান্নামী (১)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পৃথিবীকে পরিবর্তন করার চেয়ে নিজেকে পরিবর্তন করা সহজ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পর্দা রক্ষা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া ব্যভিচারের সমতুল্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিষয় কেবল তিনটি অবস্থায়ই জানা যায়।
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সম্মানিত মীলাদ শরীফ পাঠে অনন্য তাজদীদ মুবারক (৪)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক- ছবি তোলা হারাম
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












