সুন্নত মুবারক তা’লীম
চামড়ার মোজা পরিধান করা খাছ সুন্নত মুবারক
, ১৯ জুমাদাল ঊখরা শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২৪ সাবি’, ১৩৯২ শামসী সন , ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রি:, ০৭পৌষ , ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গাঢ় খয়েরী রঙের চামড়ার তৈরী মোজা মুবারক পরিধান করেছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত ইবনে বুরায়দা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার পিতা থেকে বর্ণনা করেন-
ان حضرت النجاشى رحمة الله عليه اهدى الى رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خفين اسودين ساذجين فلبسهما ومسح عليها.
অর্থ: নিশ্চয়ই হাবশার বাদশাহ নাজ্জাশী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মুবারক খিদমতে গাঢ় খয়েরী রঙের সাদামাটা চামড়ার তৈরী এক জোড়া মোজা মুবারক হাদিয়া করেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তা পরিধান করেছেন এবং তার উপর মাছেহ মুবারক করেছেন। (তিরমিযী শরীফ, আখলাকুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত মুগীরা ইবনে শু’বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, “হযরত দাহইয়াতুল ক্বলবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে একজোড়া চামড়ার মোজা মুবারক হাদিয়া করেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তা পরিধান করেন। ” (তিরমিযী শরীফ)
উল্লেখ্য, এই সম্মানিত সুন্নতী খয়েরী চামড়ার মোজা দায়িমীভাবেই পরিধান করা খাছ সুন্নত মুবারক। আর তা পুরুষ মহিলা ছোট বড় সকলের জন্যই। পক্ষান্তরে অন্যান্য মোজা, কাপড়ের মোজা, সূতী মোজাসহ সমজাতীয় মোজা পরিধান করা খাছ সুন্নত মুবারক নয়।
স্মরণীয়, মহিলাদের জন্যও উক্ত মোজা পরিধান করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। তবে অবস্থা বিশেষে মহিলারা হাতের জন্য হাতমোজা এবং পায়ে পা মোজা পরিধান করবেন। খেয়াল রাখতে হবে, পায়ের মোজা কালো রঙের না হওয়া বাঞ্চনীয়। কারণ আদব ও সম্মানের জন্য কালো মোজা পরিধান করা ঠিক হবে না। যেহেতু পবিত্র কা’বা শরীফ উনার গিলাফ কালো রঙের।
আসুন জেনে নেই মহাসম্মানিত সুন্নতী চামড়ার মোজা পরিধানের উপকারিতা:
১) চামড়ার মোজা ব্যবহারের ফলে ঘরে-বাইরে পায়ের অংশটুকু নিরাপদ রাখা যায়। বারবার মোজা খোলা, পা ধোয়া, মোজা পরিধান করার কষ্ট করা লাগবে না।
২) চেইন থাকার কারণে টাইট করে আরামদায়ক ভাবে পরিধান করা যায়। বাতাস ঢোকার সম্ভাবনা খুবই কম এবং উত্তাপও প্রচুর।
৩) শীতকালে পা ফাটা রোধে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
৪) যাদের নিউমোনিয়া বা ঠান্ডাজনিত সমস্যা আছে তাদের জন্য খুবই উপযোগী। কারণ, ঘরের ভিতরের ঠান্ডা সাধারণত পা দিয়েই প্রথমে শরীরে প্রবেশ করে। ডায়াবেটিক রোগীদের পা ঢেকে রাখার জন্যও খুব উপকারী।
৫) চকচকে খাঁটি চামড়া হওয়ার কারণে মানুষের মাঝে আপনার রুচিবোধ ও ব্যাক্তিত্বকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যাবে।
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ সমূহ থেকে সুস্পষ্ট হলো যে, চামড়ার মোজা ব্যবহার করা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক।
কাজেই, সকলের জন্য আবশ্যক হলো, মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার নিয়ামত মুবারক হাছিলের লক্ষ্যে চামড়ার তৈরী মোজা ব্যবহার করা।
যাতে করে বান্দা-বান্দী, উম্মত মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক পালনের মাধ্যমে সহজেই সেই রহমত-বরকত লাভ করতে পারে, সেজন্য খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, রহমাতুল্লিল আলামীন, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, নূরে মুকাররাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি প্রতিষ্ঠা মুবারক করেছেন, “আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্র”। যার মাধ্যমে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে যাবতীয় মহাসম্মানিত সুন্নতী বিষয় সমূহ।
কাজেই সকলের জন্য আবশ্যক হলো, সকল প্রকার সুন্নত মুবারক সম্পর্কে জেনে-শুনে, মনে রেখে আমলে বাস্তবায়ন করা। মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে সেই তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করা খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার শেষ দশকে সম্মানিত ই’তিকাফ করা খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র যাকাত-ফিতরা, উশর আদায়ের হুকুম আহকাম ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক (১)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ইফতার ও সাহরীতে খেজুর খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (হাব্বাতুস সাওদা) - ১
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নত মুবারক প্রচারকেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত-সম্পৃক্ত থাকা সকলের জন্য আবশ্যক
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম
২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক সকল নেয়ামতের মূল
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
রোযাদারদের জন্য প্রতিদিন সাহরী খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












