গ্যাসের উৎপাদন কমছে দেশে, বেড়ে চলেছে আমদানি -শিল্পে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে -চরম দুর্ভোগে গৃহস্থালি সংযোগের গ্রাহকরাও -সাগরে অনুসন্ধান কার্যক্রমে দীর্ঘদিনে প্রত্যাশিত অগ্রগতি নেই। -আমদানি বাজারে পরিণত করার চেষ্টার ফল: বিশেষজ্ঞ
, ১০ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০১ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১৬ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) তাজা খবর
নিজস্ব সংবাদদাতা:
দেশে জ্বালানি গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে দিনে দিনে কমছে দেশীয় উৎপাদন। ফলে এ খাতে আমদানি-নির্ভরতা বেড়েই চলছে। সরকার নতুন কূপ খনন এবং পুরোনো কূপ সংস্কারের (ওয়ার্কওভার) কিছু উদ্যোগ নিলেও তাতে উৎপাদন হ্রাস ঠেকানো যাচ্ছে না। এতে জরুরি শিল্প খাত যেমন ভুগছে, তেমনি চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন গৃহস্থালি গ্রাহকেরাও। মাসে মাসে বাধ্যতামূলক টাকা দিয়েও মিলছে না রান্নার গ্যাস। চড়া দামে কিনতে হচ্ছে খোলাবাজারের সিলিন্ডার।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুন্দলপুর, শ্রীকাইল, রূপগঞ্জ, ভোলা নর্থ, জকিগঞ্জ ও ইলিশা নামে মোট ৬টি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। ভোলার শাহবাজপুর ইস্ট, টবগী-১, ইলিশা-১ ও ভোলা নর্থ-২ কূপ খননকাজ শেষ হয়েছে এবং বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস পাওয়া গেছে।
পেট্রোবাংলার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা গড়পড়তা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ঘাটতি প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। ঘাটতি পূরণে পেট্রোবাংলা ২০২৬ সালের মধ্যে ৫০টি কূপ খনন/উন্নয়ন ও সংস্কারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এগুলোর মধ্যে ২২টি কূপের খনন শেষ এবং ৮টির খনন চলছে। ২২ কূপ খনন শেষে ২২৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত সঞ্চালন লাইনে যুক্ত করা গেছে ১০৭ মিলিয়ন ঘনফুট।
অন্যদিকে ২০২৫-২৮ সময়ে স্থলভাগে ৬৯টি কূপ খনন এবং ৩১টি কূপ সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব কূপ খনন ও সংস্কারের শেষে দৈনিক আরও ১ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হবে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়। এতে তখন প্রত্যাশিত দৈনিক উৎপাদিত হবে ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের ওপরে। তবে জ্বালানি বিভাগের সাম্প্রতিক ভাষ্য হচ্ছে, ২০২৮ সালের মধ্যে দেশে গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ৫ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট ছাড়িয়ে যাবে।
এদিকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় সাগরের গভীর অংশ ১৫টি এবং অগভীর অংশ ১১টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। ১৯৯৮ সালে বঙ্গোপসাগরের সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হলেও কয়েক বছরের মধ্যে তা জটিলতায় পড়ে। ২০১৩ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে সাগরের আর কোনো গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়নি।
মাঝে বেশ কয়েকবার গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক ঠিকাদারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও ঝুঁকি ও লাভালাভ বিবেচনায় কেউ এগিয়ে আসেনি।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) প্রকৌশলী শোয়েব বলেন, সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে সর্বশেষ পিএসসি অনুযায়ী কোম্পানিগুলো আগ্রহ দেখিয়েও আর সাড়া দিল না। সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার ব্যাপার। অন্তর্র্বতী সরকারের মতো একটি স্বল্পমেয়াদি সরকার তাই এ বিষয়ে আর আগায়নি। নির্বাচনের পর নতুন সরকার এলে হয়তো নতুন করে আলাপ শুরু হবে।
এদিকে নিয়মিত এলএনজি আমদানি বেড়েই চলছে। সরকারি সংস্থা রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কর্তৃপক্ষ বা আরপিজিসিএলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো কাতার এবং ওমান থেকে জি-টু-জি চুক্তির আলোকে ৪১ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়েছিল। পরের অর্থবছরে আমদানি হয় ৬৬ কার্গো। ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে সরকারি চুক্তির পাশাপাশি খোলাবাজার থেকেও এলএনজি কিনতে শুরু করে সরকার। তখন থেকে সাময়িক ব্যতিক্রম ছাড়া আমদানি বছর বছর বেড়ে চলেছে। সর্বশেষ অর্থবছরে খোলাবাজার থেকে ৪০সহ মোট ৮৩ কার্গো আমদানি হয়েছিল। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই খোলাবাজার থেকে ২৩ কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম মনে করেন, বাংলাদেশকে জ্বালানি আমদানি বাজারে পরিণত করার অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলেই আজকের এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ২০১০ সালের দিকেও সরকার গ্যাস রপ্তানি করতে উদ্যত হয়েছিল। আর ১৫ বছরের মাথায় এখন আমদানি চাহিদা বাড়ছে। এখন মানুষও ভোগান্তির মধ্যে পড়ছে। বর্তমান সরকারও আগের সরকারের নীতিতে রয়েছে। তারা বাংলাদেশকে গ্যাসের আমদানি বাজারে রূপান্তর করতে চেয়েছিল, সেটাই করেছে।
সরকারের কূপ খনন উদ্যোগ প্রসঙ্গে ক্যাবের উপদেষ্টা বলেন, সরকার কূপ খননের যে কথা বলছে, সেটা কার্যত কথার কথা। স্থলভাগের গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সকে কাজে লাগানোর কথা, কিন্তু তা-ও সেভাবে হয়নি। গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থও খরচ করা হচ্ছে না। বিদেশিরা এসে আমাদের দেশে গ্যাস উত্তোলন করতে পারছে। কিন্তু আমরা পারছি না কেন? এসবের মধ্যে ভয়ংকর দুরভিসন্ধি রয়েছে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যোদ্ধাদের মর্টার শেলের আঘাতের পর পুড়ে ধ্বংস হচ্ছে দখলদারদের যুদ্ধযান।
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের টিফিন দেয়ার পরিকল্পনা
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কুরবানির চামড়ার ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
এক লাখ টন ক্রুডবাহী ‘এমটি নিনেমিয়া’ ৬ মে বাংলাদেশে আসছে
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পাহাড়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হঠাৎ করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে ছাত্র রাজনীতি: সংঘাতে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ
২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলমানদের দ্বীনী অনুভূতি রক্ষা, মুসলিম নিপীড়ন বন্ধ করাসহ ৭ দফা দাবিতে সমাবেশ
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
এনসিপির টার্গেট ‘রিফাইন্ড আ.লীগ’ পদবঞ্চিত বিএনপি
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
তীব্র গরমে চাহিদা বেড়েছে ফ্যান-এসির, দাম তুঙ্গে
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
অপহৃত ৬ রাবার শ্রমিককে উদ্ধার করলো সেনাবাহিনী
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নিত্যপণ্যের বাজারে ‘জ্বালানি সংকটের চাপ’
২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












